খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়ার আদমদীঘির সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো (সাইলো খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার) সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের কাজে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে বসানো নেই কাজে তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড। এ ছাড়া প্রশ্ন উঠেছে শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও। সঠিক তদারকি ও পর্যবেক্ষণের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারা কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘির সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ছিল। এতে উপজেলার সারিন্দা, দমদমা, কাশিমিলা, কদমা, করজবাড়ী ও এর আশপাশের ২৫টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সংরক্ষণাগারের খাদ্যশস্য ও বাফার গুদামের সার পরিবহনে ব্যবহার করা ভারী ট্রাকের চাপে এর বিভিন্ন স্থানে ইট ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল।
এ নিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই কালের কণ্ঠে ‘সান্তাহার সাইলোর সড়কে ভোগান্তি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরই বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের নজরে আসে। পরে সড়কটি নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ পান নওগাঁর এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চলতি বছরের ৩ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয় যা ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইলো খাদ্য সংরক্ষণাগারের প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজ শুরু করেছে। তবে কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।
সাইলোর পাশের গ্রাম সান্দিড়ার সোহেল রানা, খোকন, সবুজ ও গুলজারের অভিযোগ, সড়ক প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি খনন না করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি খনন করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিম্নমানের পুরনো ইট ব্যবহার, আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে ১০ মিলি রড, নিম্নমানের পাথর ও বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। আরসিসি ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পুরনো কার্পেটিং তুলে রোলার করা প্রয়োজন থাকলেও পুরনো কার্পেটিংয়ের ওপর বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা টেকসই নয়।
ওই বাসিন্দারা আরো অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইনবোর্ড বসায়নি। এলাকাবাসী শিডিউল দেখতে চাইলে প্রায় এক মাস পার হলেও তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)-এর সাইড ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের সব নির্মাণ সামগ্রীর ল্যাবরেটরি টেস্ট করা হয়। এরপর সেসব সামগ্রী নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। ইটের সমস্যা থাকতে পারে। কারো অভিযোগ থাকলে খারাপ ইট তাৎক্ষণিক তুলে নিয়ে চলে যাব। তা ছাড়া শিডিউল অনুযায়ীই কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এ টি এম কাউছার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষটি গতকাল (বুধবার) জেনেছি। এরপর থেকে কাজটি যাতে মানসম্মত হয়, সে জন্য ওখানে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী স্ট্যান্ড বাই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরএমও, আরএমইও কাজ তদারকি করছেন। ঢালাইয়ের সময় তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন। আশা করি, কাজ ভালো হবে।