• ই-পেপার

বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যের

নারায়ণগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৯

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৯
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও র‌্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ লিটার চোলাই মদ এবং ২৫ পুড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সদর থানার বিভিন্ন এলাকায়  অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. সাজিদুর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মিঠু মিয়া (৪০), পাভেল (৩৭), রবিন হোসেন (৩১), হাসিবুর রহমান জিহাদ (২৬), মাইনদ্দিন (২৫), শরিফ হোসেন (৩৭), রিফাত মিয়া (২৫), দুলাল মিয়া (৪০) ও দেলোয়ার হোসেন (৬২)।

পুলিশ জানায়, অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের দেহ তল্লাশি করে ৪৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ লিটার চোলাই মদ এবং ২৫ পুড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ তালিকার মাধ্যমে মাদকগুলো জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে মিঠু মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং পাভেলের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. সাজিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

জলসংকটে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রে বন্ধ ৩ ইউনিট

রাঙামাটি সংবাদদাতা
জলসংকটে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রে বন্ধ ৩ ইউনিট
সংগৃহীত ছবি

কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতায় আবারও কমেছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। বর্তমানে এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু রেখে ৬০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অথচ দুদিন আগেও এই কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট চালু ছিল। যেখান থেকে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হত। কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে এই কেন্দ্রের তিন ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রেল রুম সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রের শুধুমাত্র দুটি ইউনিট হতে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে ২ নম্বর ইউনিট হতে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট হতে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গ্রীষ্মের শুরুতে কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতায় এই কেন্দ্রে মাত্র একটি ইউনিট চালু রেখে ৩৫-৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল।

সূত্র জানায়, পরবর্তী বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি কিছুটা বাড়লে তিনটা ইউনিট চালু করা হয়, যার থেকে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আবারও কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে আসায় দুদিন আগে একটি ইউনিট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু রয়েছে।

কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর দিন দিন কমতে থাকে। চলতি সপ্তাহে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। রুলকার্ভ অনুযায়ী পানির স্তর ৭৮.২০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) থাকার কথা সেখানে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ৭৩.৪০ এমএসএল।’

আদমদীঘি

সাড়ে ৩ কিলোমিটারে ব্যয় ১০ কোটি, এর পরও নিম্নমানের সামগ্রী

তরিকুল ইসলাম জেন্টু, আদমদীঘি (বগুড়া)
সাড়ে ৩ কিলোমিটারে ব্যয় ১০ কোটি, এর পরও নিম্নমানের সামগ্রী
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের সান্তাহার-সাইলো কুলিপাড়া মোড়ে। বুধবার তোলা। কালের কণ্ঠ

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়ার আদমদীঘির সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো (সাইলো খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার) সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের কাজে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে বসানো নেই কাজে তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড। এ ছাড়া প্রশ্ন উঠেছে শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও। সঠিক তদারকি ও পর্যবেক্ষণের অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারা কাজ করে যাচ্ছে বলে  অভিযোগ তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘির সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার-সাইলো সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ছিল। এতে উপজেলার সারিন্দা, দমদমা, কাশিমিলা, কদমা, করজবাড়ী ও এর আশপাশের ২৫টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সংরক্ষণাগারের খাদ্যশস্য ও বাফার গুদামের সার পরিবহনে ব্যবহার করা ভারী ট্রাকের চাপে এর বিভিন্ন স্থানে ইট ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল।

এ নিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই কালের কণ্ঠে ‘সান্তাহার সাইলোর সড়কে ভোগান্তি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরই বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের নজরে আসে। পরে সড়কটি নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ পান নওগাঁর এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

চলতি বছরের ৩ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয় যা ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইলো খাদ্য সংরক্ষণাগারের প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজ শুরু করেছে। তবে কাজ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।

সাইলোর পাশের গ্রাম সান্দিড়ার সোহেল রানা, খোকন, সবুজ ও গুলজারের অভিযোগ, সড়ক প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি খনন না করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি খনন করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিম্নমানের পুরনো ইট ব্যবহার, আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে ১০ মিলি রড, নিম্নমানের পাথর ও বালু এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। আরসিসি ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পুরনো কার্পেটিং তুলে রোলার করা প্রয়োজন থাকলেও পুরনো কার্পেটিংয়ের ওপর বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে, যা টেকসই নয়।

ওই বাসিন্দারা আরো অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইনবোর্ড বসায়নি। এলাকাবাসী শিডিউল দেখতে চাইলে প্রায় এক মাস পার হলেও তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। 

অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দেওয়ান মামুনুর রশিদ (জেভি)-এর সাইড ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের সব নির্মাণ সামগ্রীর ল্যাবরেটরি টেস্ট করা হয়। এরপর সেসব সামগ্রী নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। ইটের সমস্যা থাকতে পারে। কারো অভিযোগ থাকলে খারাপ ইট তাৎক্ষণিক তুলে নিয়ে চলে যাব। তা ছাড়া শিডিউল অনুযায়ীই কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এ টি এম কাউছার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষটি গতকাল (বুধবার) জেনেছি। এরপর থেকে কাজটি যাতে মানসম্মত হয়, সে জন্য ওখানে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী স্ট্যান্ড বাই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরএমও, আরএমইও কাজ তদারকি করছেন। ঢালাইয়ের সময় তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন। আশা করি, কাজ ভালো হবে।

ইরান ফুটবল দলের সমর্থনে নাটোরে শোভাযাত্রা

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, নাটোর
ইরান ফুটবল দলের সমর্থনে নাটোরে শোভাযাত্রা
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের সমর্থনে নাটোরে পতাকা উত্তোলন ও শোভাযাত্রা করেছে সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর প্রেস ক্লাব চত্বরে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর ও আশপাশের এলাকা দেতে ইরান সমর্থকরা ব্যানার ও ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ইরান ফুটবল দলের সমর্থকরা উপস্থিত ছিল।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে কথাসাহিত্যিক ও ইরান সমর্থক ড. জাকির তালুকদার বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাধারণত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা জার্মানির মতো পরাশক্তি দলগুলোর সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা দেখা যায়। আমাদের মধ্যেও অনেকে ওইসব ঐতিহ্যবাহী দলের সমর্থক। তবে একটি বিশেষ জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা এবার ইরান ফুটবল দলকে নৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক দেশ আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র)। তারা ইরান ফুটবল দলের সঙ্গে শুরু থেকেই এক ধরনের বিমাতাসুলভ ও বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে, যা ক্রীড়াঙ্গনের চেতনা পরিপন্থী। খেলার মাঠকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাইরে রাখা উচিত। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমরা আমেরিকার এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকরা জানান, বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও সম্মান নিশ্চিত করার দাবিতেই তাদের এই অভিনব অবস্থান। তারা আশা প্রকাশ করেন, মাঠের বাইরে যত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন, ইরান দল তাদের সেরা খেলা উপহার দিয়ে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।