• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৯

বাড়ির প্রবেশপথ বন্ধ, ৩ বছর ধরে গৃহবন্দী কামরুন নাহার

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
বাড়ির প্রবেশপথ বন্ধ, ৩ বছর ধরে গৃহবন্দী কামরুন নাহার
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘আমি একজন প্রতিবন্ধী। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ভাই আমার বাড়ির প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন বছর ধরে আমি ও আমার বোন গৃহবন্দী জীবনযাপন করছি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সমাধান মেলেনি।’

এক বুক কষ্ট আর হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের নয়াচর এলাকার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী কামরুন নাহার (৩৫)। জন্মের পর পোলিও আক্রান্ত হয়ে দুই পা হারান তিনি। জীবনের প্রতিটি দিন লড়াই করে বেঁচে থাকা এই নারী এখন নিজের বাড়িতেই যেন বন্দী।

শৈশব থেকেই সংগ্রামের জীবন : 

মাত্র দুই বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে দুই পা পঙ্গু হয়ে যায় কামরুন নাহারের। এরপর থেকে হাঁটু ও দুই হাতের ভরেই চলাফেরা করেন তিনি। মা-বাবার মৃত্যুর পর বড় বোন তাসলিমা-ই হয়ে ওঠেন তার একমাত্র আশ্রয়। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ে হয়নি কামরুন নাহারের। পৈতৃক সম্পত্তির অংশে একটি ঘর নির্মাণ করে বড় বোনকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। জীবিকার তাগিদে হাতে চালিত সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাইয়ের কাজ শিখেছিলেন। মানুষের কাপড় সেলাই করে যা আয় হতো, তা দিয়েই কোনো রকমে চলত দুই বোনের সংসার। কিন্তু তিন বছর আগে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের আপন ভাই কামরুজ্জামান কামাল বাড়ির একমাত্র প্রবেশপথে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। সেই থেকে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন দুই বোন।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র ভরসা মই :

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নয়াচর এলাকার একটি বাড়ি চারপাশে উঁচু প্রাচীর ও বেড়া দিয়ে ঘেরা। ভেতরে বসবাস করছেন কামরুন নাহার ও তার বড় বোন তাসলিমা। তাদের সঙ্গী দুটি গৃহপালিত ছাগল। বাড়ির মূল প্রবেশপথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে খাদ্য, ওষুধ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে তাসলিমাকে একটি মই বেয়ে বাড়ির বাইরে যেতে হয়। বাড়ির পেছন দিকে অন্যের জমি দিয়ে বিকল্প যে পথ রয়েছে, বর্ষা মৌসুমে সেটিও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে করুণ বিষয় হলো, গত তিন বছরে একবারও বাড়ির বাইরে যেতে পারেননি প্রতিবন্ধী কামরুন নাহার। অসুস্থ হলেও হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বন্ধ হয়ে গেছে তার সেলাই কাজের আয়-রোজগারের পথও।

ভুক্তভোগী কামরুন নাহার বলেন, ‘আপন ভাই আমাদের সঙ্গে এমন করবে কখনো ভাবিনি। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তিন বছর ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। অসুস্থ হলেও হাসপাতালে যেতে পারি না। আগে কাপড় সেলাই করে কিছু আয় করতাম, এখন সেটাও বন্ধ। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেকবার গেছি। সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানাই, আমাদের এই দুর্ভোগের অবসান করুন।’

তাসলিমা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে তিন বছর ধরে বন্দী জীবন কাটাচ্ছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযুক্ত কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ওই জমি আমার। আমি প্রবাসে থাকাকালে আমার বোনেরা সেখানে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছে। পরে আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দাবি করে। তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তাই রাস্তা বন্ধ করেছি। এখানে মানবতার কোনো বিষয় নেই, এটি সম্পত্তিগত বিরোধ।

আদিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গাজী মাজহারুল ইসলাম পলাশ বলেন, ভাই-বোনদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বাড়ির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবন্ধী কামরুন নাহার ও তার বোন কষ্টে আছেন। চেয়ারম্যান আর আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসেছি। সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কামরুজ্জামান কামাল রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটি সফল হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে উভয় পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এটি বিচারাধীন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

মাদারীপুরে পিকআপ-ইজি বাইক সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে পিকআপ-ইজি বাইক সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরে পিকআপভ্যানের চাপায় ইজি বাইকের এক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে ইজি বাইকের তিন যাত্রী। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট-কবিরাজপুর সড়কের তাঁতিকান্দা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামিম মুন্সি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ডোমরাকান্দি গ্রামের কাশেম মুন্সির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে যাত্রী নিয়ে রাজৈর কবিরাজপুর থেকে টেকেরহাট যাচ্ছিল একটি ইজিবাইক। সড়কের তাঁতিকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যান ওই ইজি বাইককে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় ইজি বাইকের চালকসহ চার যাত্রীকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসক ইজিবাইক চালক শামীম মুন্সিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ইজি বাইকের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালক পালিয়ে গেলেও জব্দ করা হয়েছে চাপা দেওয়া পিকআপভ্যানটি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৪

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৪
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ তিনজন এবং একটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সহসভাপতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন (৩৯), মাদক মামলার আসামি মো. তুহিন (২০), কেজি গাঁজাসহ তাছলিমা বেগম ওরফে রোজিনা (৩৫) ও জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি নাজিম উদ্দিন নিজাম (২০)।

দাউদকান্দি মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দাউদকান্দি উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি  আনোয়ার হোসেনকে পৌরসভা রিফাত পার্ক থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে পুলিশ উপজেলা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। গৌরীপুর বাজার থেকে মাদক মামলার আসামি তুহিন নাম এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানা ওসি মো. আবদুল বারী জানান, আটক আসামিদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

যশোরের চৌগাছায় যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

যশোর অফিস
যশোরের চৌগাছায় যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

যশোরের চৌগাছায় জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে সকালে মুক্তদাহ মোড়ে জুয়েল রানার সাথে প্রতিপক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে একই গ্রামের ইউসুফ, কাশেম এবং স্থানীয় নজরম মেম্বারের ছেলে বাবু ও সুমনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেয়।

নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকালে তিনি তার মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় তার স্বামী স্থানীয় মোড়ে চা খেতে যান। হামলাকারীরা তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে রেখে তার স্বামীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চৌগাছায় হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।