• ই-পেপার

ভাঙ্গায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মিছিল ও হট্টগোল

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৪১ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে ফেনীতে কর্মরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪ বিজিবি)। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্ত এলাকায় ৪ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে এসব শাড়ি জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালামাল পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিল্লাল হোসেন জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ ইন রোধের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ শনিবার
সংগৃহীত ছবি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ আগামী শনিবার (১৩ জুন) অনুষ্ঠিত হবে। নগরের লালদিঘী মাঠে এই সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন সমাবেশের বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগরী আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন প্রমুখ।
 

গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজি বাইক চালকের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজি বাইক চালকের
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় এক ইজিবাইক চালক নিহত এবং এক নারী যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার বুড়িরঘর এলাকায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত ফেরদৌস মিয়া (৫০) একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক ছিলেন। এই ঘটনায়  বাইক  যাত্রী শাপলা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অরিন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই অটোচালক ফেরদৌস মিয়া (৫০) নিহত হন। এসময় গুরুতর আহত হন শাপলা বেগম স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার্ড করা হয়।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। নিহত সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ কোমরপুর ইউনিয়নের কিসামত দুর্গাপুর এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে। আহত শাপলা বেগম একই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মেম্বারের মেয়ে।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে মো. হারুন (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ওই স্কুলছাত্রের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। 

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গ্রেপ্তার হারুন সেনবাগের দেবিসিংহপুর গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ জানিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে কয়েকদিন ধরে সেখানে মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, বুধবার রাত ৮টায় সেখানে মাদক সেবন করতে তারা বাধা দেয়। এর কিছুক্ষণ পর আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৮), রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন বায়তুন আমান মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।

তিনি আরো বলেন, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়িতে। পাশাপাশি তার খালার বাড়িও রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ ৭ থেকে ৮ জন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বিশেষ করে তার বাম পায়ে কুপিয়ে গুরুতর আঘাত করা হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে প্রথমে তার নানার বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে গোসল করিয়ে এলাকাবাসীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। পরে নিজ বাড়িতে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে আমানত করে দিলাম।

সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির মিয়া তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। 
 
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় এ হামলা হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।