• ই-পেপার

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ

ডিজিটাল জোনিং ও অটোমেশনে জোর : ভূমি মন্ত্রণালয়ের বাজেট ২৪৩৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিজিটাল জোনিং ও অটোমেশনে জোর : ভূমি মন্ত্রণালয়ের বাজেট ২৪৩৯ কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ১ হাজার ৬২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৮১০ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি সম্পর্কিত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪০১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরে ভূমি খাতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের আবর্তক খাতে ১ হাজার ৮৬০ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং মূলধন খাতে ৫৭৮ কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে দেশের ভূমি সেবাকে শতভাগ জনবান্ধব করতে এবং আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বেশ কিছু বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল- ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং’ এবং ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্প। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-মিউটেশন (নামজারি) আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন করসহ অন্যান্য রাজস্ব দাবি নির্ধারণ ও আদায় কার্যক্রমকে আরো জোরদার করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য ‘গুচ্ছগ্রাম ৩য় পর্যায় প্রকল্প (ক্লাইমেট ভিকটিমস রিহ্যাবিলিটেশন)’ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন, অতিদরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার্থে সারা দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ ও মেরামতের কাজ অব্যাহত থাকবে।

আইনি জটিলতা ও ভোগান্তি কমাতে ভূমি সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি যুগোপযোগী করা, আদালতে ঝুলে থাকা ভূমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সীমানা বিরোধ নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দের এই অর্থ দিয়ে ভূমিস্বত্ব ও মালিকানার তথ্য সংরক্ষণ, খতিয়ান হালনাগাদকরণ, মৌজা জরিপ ও ম্যাপ সার্ভারে সংরক্ষণ এবং অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে, যা দেশের সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেট ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার বিভাগের বাজেট ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা
সংগৃহীত ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুকূলে মোট ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৬ হাজার ৫১০ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবি সম্পর্কিত সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বিভাগের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ২৪২ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেই তুলনায় আগামী নতুন অর্থবছরে গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের এই মেগা খাতে বরাদ্দ কিছুটা কমছে।  হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় স্থানীয় সরকার বিভাগে এবার ৩,৯৯৬ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা (প্রায় ৩,৯৯৭ কোটি টাকা) বরাদ্দ কমেছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একগুচ্ছ বিশেষ কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পল্লী সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ও সংরক্ষণ। একই সঙ্গে গ্রামীণ হাট-বাজারের আধুনিকায়ন, পুকুর ও খাল খননের মাধ্যমে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমকে বিশেষ গতি দেওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের বড় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। এর আওতায় নতুন পানির উৎস স্থাপন, গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার স্কিম, উৎপাদক নলকূপ স্থাপন, পানির পাইপ লাইন ও পানি শোধনাগার নির্মাণসহ উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে আর্সেনিক মিটিগেশন কার্যক্রম এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামো নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মেরামত, নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ‘জলবায়ু সহিষ্ণু গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাজেট নথিতে আরো জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও নির্ভুল করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বরাদ্দের এই অর্থ দিয়ে গ্রাম ও শহর এলাকায় রাস্তাঘাট উন্নয়ন, গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার ব্যবস্থাপনা, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সম্প্রসারণ, স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ অবকাঠামোর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
 

রূপচর্চায় ও কফিতে খরচ কমবে

অনলাইন ডেস্ক
রূপচর্চায় ও কফিতে খরচ কমবে

স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টসের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী বাজেটে। এতে রূপচর্চায় খরচ কমবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারীদের উৎসাহ প্রদানের জন্য এই শিল্পের ২টি কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

স্থানীয় কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে কাঁচামাল হিসেবে কফি এক্সট্র্যাক্ট, এসেন্স ও প্রিপারেশন বাল্কে আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।

জ্বালানি নিরাপত্তায় বহুমুখী উদ্যোগ, বরাদ্দ ১৭৩৪৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি নিরাপত্তায় বহুমুখী উদ্যোগ, বরাদ্দ ১৭৩৪৫ কোটি টাকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, তেল শোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। আগামী তিন বছরে ব্যাপক ভূতাত্ত্বিক ও সাইসমিক জরিপ, নতুন কূপ খনন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান এবং নতুন রিফাইনারি নির্মাণসহ একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে। সে সময় মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হলেও স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, তেল পরিশোধন এবং মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও এলএনজির স্পট মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম সীমিতভাবে সমন্বয় করেছে এবং গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে।

জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আগামী তিন বছরে বাপেক্সের মাধ্যমে ২৭০ কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) সাইসমিক জরিপ এবং ৭০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) সাইসমিক জরিপ সম্পন্ন করা। পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে বাপেক্সের নিজস্ব রিগ ব্যবহার করে ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রমে সক্ষমতা বাড়াতে নতুন অনুসন্ধান রিগ কেনা হবে। সমুদ্রাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড’ ঘোষণা করা হবে এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (পিএসসি) সংশোধন করা হবে।

বাজেটে আরো বলা হয়, জ্বালানি আমদানিতে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণ নীতি অনুসরণ করা হবে। মহেশখালীতে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়িতে একটি স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেজড) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জ্বালানি তেল পরিবহনে নির্মিত ৬০১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তেল খালাস কার্যক্রমে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধন সক্ষমতার নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।