• ই-পেপার

জুনের শেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : ডেপুটি স্পিকার

চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিবৃতি

বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। 

তিনি বলেছেন, একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রোগীর পরিবার ও স্বজনদের শোক, কষ্ট ও আবেগ আমরা সম্মান করি। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ওই শোক বা ক্ষোভকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর ওপর শারীরিক হামলা, অপমান, ভাঙচুর বা হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

চিকিৎসাসেবাকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিন সীমিত জনবল, সীমিত সম্পদ, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ শারীরিক অথবা মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। কিন্তু রিপোর্টিং রেট ছিল মাত্র ২৭.৮ শতাংশ অর্থাৎ অধিকাংশ ঘটনা জানানোই হয় না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই ধরনের নিপীড়নের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ তদন্তের সুযোগ আছে, জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে, প্রয়োজনে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পথও খোলা আছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন চিকিৎসক বা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর আঘাত নয়; এটি পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীর সেবা পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এই ধরনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করাসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মানসিকভাবে ভীত, অনিরাপদ ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীর চিকিৎসাসেবার ওপর এবং রোগীদেরকে বিদেশমুখী করবে। তাই স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের সব সচেতন মানুষের দায়িত্ব।

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বরাদ্দ সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে বরাদ্দ সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপির সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি বলা হয়েছিল ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই দুই কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বাজেটে এমন প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার গত ১৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্য চাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিদেরও এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের সব কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণ প্রতি বছর একবার দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি আরও ১০ ধরনের বহুমুখী সুবিধা পাবেন। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বাবদ এক হাজার ৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং চলতি অর্থ বছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে 'ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি' চালু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি সারা দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের 'মা' বা 'নারী প্রধান' সদস্যের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা সরাসরি মোবাইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে। এ হার বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার হার অপেক্ষা প্রায় তিন গুণ।

২০৩০ সালের মধ্যে এ কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করতে চাই। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪ জন পরিবারের নারী প্রধানকে এ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লক্ষ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য বাজেটে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা,  বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রতিরক্ষায় প্রায় ২ হাজার কোটি বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিরক্ষায় প্রায় ২ হাজার কোটি বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। এটি বিদায়ি অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বেশি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী অর্থবছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

এদিকে, আগামী অর্থবছরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি টাকা।

দেশে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে ফ্রান্সের সহযোগিতা কামনা

অনলাইন ডেস্ক
দেশে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে ফ্রান্সের সহযোগিতা কামনা

বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে ফ্রান্সের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এ আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

সাক্ষাৎকালে তারা শিক্ষা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে সরকারের উদ্যোগে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। এ সময় ফরাসি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার অন্যতম প্রধান বিকল্প হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কথা বলেন। মাহদী আমিন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফরাসি ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ফ্রান্সের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগবান্ধব বাজেট ও ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার বিভিন্ন দিক রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উদীয়মান সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরো বেশি বিনিয়োগের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি সংযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরো শক্তিশালী করার ওপর উভয় পক্ষই গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারির মাধ্যমে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার দূতাবাসের রিজিওনাল ইকোনমিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান ফ্লোরেন্ট ম্যানগিন উপস্থিত ছিলেন।