• ই-পেপার

সচিবালয়ের সামনে নন-এমপিও শিক্ষকদের অবস্থান, ৩ জনকে আটকের অভিযোগ

নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের ফলচক্র অনুষ্ঠিত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের ফলচক্র অনুষ্ঠিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাংবাদিক সংগঠন নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ‘মধুমাসের সুবাসে, মেতে উঠি উল্লাসে’ প্রতিপাদ্যে ফলচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, প্রক্টর অধ্যাপক এ এম এফ আরিফুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিবলুর রহমান, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামারুজ্জামানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ খান বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্ক ও ইতিবাচক যোগাযোগেরও একটি মাধ্যম। ফলচক্রের মতো আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, মধুমাসের দেশীয় ফল বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষক, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রেস ক্লাবের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও মধুমাসের ফল দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মৌসুমি ফল উপভোগ করেন এবং মতবিনিময়ে অংশ নেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বাজেটে শিক্ষা খাত

কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেটে অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম শিক্ষা, যেখানে কারিকুলাম সংস্কার থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের রূপান্তর আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি, জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সেসব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থাও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরো উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, বাড়ছে সেশনজট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, বাড়ছে সেশনজট
ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বর্তমানে তীব্র সেশনজটের এক প্রকট উদাহরণে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ করোনা-পরবর্তী ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পন্ন করে সেশনজট নিরসনে সফল হলেও আইইআরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, পরীক্ষার সূচি প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এবং ফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সময়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর যেখানে আধুনিক শিক্ষা কারিকুলাম ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে, সেখানে জবির এই ইনস্টিটিউটটি যেন অভিভাবকহীন ও স্থবির একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের ১৬ থেকে ২০—সবকটি ব্যাচই বর্তমানে সেশনজটের কবলে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যেখানে মাস্টার্স শেষ করার পর্যায়ে, সেখানে আইইআরের ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এখনো অনার্স চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার (৪-২) শেষ হয়নি।

মিডটার্ম পরীক্ষা শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে না পারার শঙ্কায় রয়েছেন শত শত শিক্ষার্থী।

একইভাবে ২০১৭ ব্যাচের ৩-২ সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষা গত ১ এপ্রিল শেষ হলেও মে মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ হয়নি। ২০১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। তারা ৩-১ সেমিস্টারের মিডটার্ম শেষ করেও সেমিস্টার সমাপ্তির প্রক্রিয়া শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে ২০১৯ ব্যাচের ২-১ সেমিস্টারের ক্লাস ও মিডটার্ম শেষ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ফাইনাল পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সাধারণত একটি সেমিস্টার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও আইইআরে চার থেকে পাঁচ মাসের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতেই আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে পুরো ইনস্টিটিউটে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট নিরসনে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি নতুন পরিচালক দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

এর সঙ্গে আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা। একটি সেমিস্টার শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পরও ফলাফল প্রকাশ না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ হওয়ার আগের দিন প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তারা অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দ্রুত পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও চার বছরের কোর্স ছয় বছরেও শেষ না হওয়ার শঙ্কা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া একাডেমিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট ও ভাইভায় হয়রানির আশঙ্কাও থাকে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যোগ্য খণ্ডকালীন শিক্ষকের মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনা, পরীক্ষা শেষের এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে সেমিস্টার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

সার্বিক অচলাবস্থা ও কাঠামোগত সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, ‘আমাদের এখানে শিক্ষক সংকটই মূল সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরে যেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে আমাদের শিক্ষক মাত্র পাঁচজন। এই অল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে পাঁচটি ব্যাচের প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি কোর্সের ক্লাস কোনোভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউজিসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন জটিলতার কারণে নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হচ্ছে না। সংকট কাটাতে বাইরে থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক আনার চেষ্টা করা হলেও দূরত্বের কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস নিতে পারেন না। ফলে বর্তমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষককে চার থেকে পাঁচটি কোর্স পড়াতে হচ্ছে, যা স্বাভাবিক কর্মপরিধির তুলনায় অনেক বেশি। এতে গবেষণা ও মানসম্মত পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি মনে করেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হলে ইনস্টিটিউটের প্রায় ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আইইআরের শিক্ষক সংকট ও সেশনজট সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। পাশাপাশি খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশেষ একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়েও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমিয়ে একটি সুন্দর শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।’

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন নীতিমালার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন নীতিমালার পরিকল্পনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বদলি, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নতুন এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর নতুন এই পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে ২০২৮ সাল থেকে।

গত ৮ জুন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দুইটি চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদের  ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং  ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা  ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পড়তে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

নতুন কারিকুলাম নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব বিষয়ে একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এ জন্য এখনই সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে হবে।

এদিকে, নতুন বিষয়গুলো আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যেন যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। সে লক্ষ্যে কিভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কিভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায় সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো গ্রেড বা জিপিএ নির্ধারণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের কেবল পাশ বা ফেল হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।