• ই-পেপার

বিশ্বকাপের ফল বলে ‘জ্যোতিষী’ বনে যাওয়া প্রাণীরা

নেইমারকে ছাড়াই গ্রুপ পর্ব খেলতে হতে পারে ব্রাজিলের

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমারকে ছাড়াই গ্রুপ পর্ব খেলতে হতে পারে ব্রাজিলের
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে বাকি আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন ফুটবলাররা। তবে ব্রাজিলের শিবিরে আনন্দের আবহ থাকলেও চিন্তার ভাঁজ দলের সেরা তারকা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে। চোটের সঙ্গে লড়াই চলায় এখনও সেলেসাওদের মূল অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।

আগামী রবিবার নিউ ইয়র্কে মরক্কোর মুখোমুখি হয়ে হেক্সা মিশনের যাত্রা শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নিউ জার্সির মরিসটাউনে চলছে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ক্যাম্প। তবে সেখানে বুধবারের অনুশীলনেও অনুপস্থিত ছিলেন নেইমার।

গত মাসে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় পায়ের মাংসপেশির চোটে পড়েন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। পরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার মাংসপেশি দ্বিতীয় মাত্রায় (সেকেন্ড ডিগ্রি) ছিঁড়ে গেছে। বর্তমানে নিবিড় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

পরিস্থিতি যা, তাতে মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। শুধু তাই নয়, গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নেইমারের মতো প্রধান অস্ত্রকে ছাড়াই বিশ্বকাপ শুরু করতে হচ্ছে, তবে এতে আশাহত হচ্ছেন না দেশটির সাবেক তারকারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য জিনহোর মতে, বর্তমান দলটির শিরোপা উঁচিয়ে ধরার মতো যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে জিনহো বলেন, ‘ব্রাজিলকে হয়তো এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেবারিট বলা যাবে না। তবে এই স্কোয়াডে এমন কিছু চমৎকার ফুটবলার আছে, যারা একসঙ্গে জ্বলে উঠলে দারুণ কিছু করা সম্ভব। আমার বিশ্বাস, এবার ব্রাজিলের ভালো সুযোগ রয়েছে।’

বসুন্ধরা কিংসকে অভিনন্দন জানালেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

ক্রীড়া ডেস্ক
বসুন্ধরা কিংসকে অভিনন্দন জানালেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের আধিপত্যের স্বীকৃতি এবার মিলেছে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার কাছ থেকেও। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্বে ক্লাবটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে বসুন্ধরা কিংসের একটি ছবি শেয়ার করেন ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বসুন্ধরা কিংসকে অভিনন্দন।’

বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধানের কাছ থেকে এমন শুভেচ্ছা বার্তা পাওয়াকে দেশের ক্লাব ফুটবলের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এটি শুধু বসুন্ধরা কিংসের সাফল্যের স্বীকৃতিই নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিরও প্রতিফলন।

সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ফেডারেশন কাপ এবং চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে ঘরোয়া ট্রেবল সম্পন্ন করেছে দলটি। পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ছয়বার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। এর মধ্যে পাঁচটিই এসেছে টানা। এ ছাড়া ফেডারেশন কাপেও পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি, যার মধ্যে সর্বশেষ তিনটি শিরোপা টানা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে গত কয়েক বছর ধরে যে মানদণ্ড স্থাপন করেছে বসুন্ধরা কিংস, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ফিফা সভাপতির অভিনন্দন বার্তা সেই সাফল্যেরই আরেকটি বড় স্বীকৃতি হয়ে থাকল।

বিশ্বকাপ-জ্বরে মোবাইল ফোনে নামাতে পারেন যে ৫ গেম

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ-জ্বরে মোবাইল ফোনে নামাতে পারেন যে ৫ গেম
ছবি : এআই

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি ভক্তের আবেগ, উত্তেজনা আর রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মোবাইল গেমেও ফুটবলের স্বাদ নিতে চাইছেন অনেকেই। যারা স্মার্টফোনে ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের আবহ আরো উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও বিনা মূল্যের গেম।

১. ইএ স্পের্টস এফসি ফুটবল মোবাইল ২৬

বর্তমানে মোবাইল ফুটবল গেমের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামগুলোর একটি ‘EA Sports FC Mobile 26’। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন আপডেটে যুক্ত হয়েছে বিশেষ টুর্নামেন্ট মোড, যেখানে জাতীয় দল নিয়ে বিশ্বসেরার লড়াইয়ে নামা যাবে। ৫০টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত জাতীয় দল, বাস্তব খেলোয়াড় এবং ক্লাব নিয়ে নিজের স্বপ্নের স্কোয়াডও তৈরি করা সম্ভব।

এ ছাড়া উন্নত গ্রাফিকস, নতুন প্লে-স্টাইল, অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাচ এবং নিয়মিত লাইভ ইভেন্ট গেমটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

২. ড্রিম লিগ সকার ২০২৬

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গেম ‘Dream League Soccer 2026’। ২০২৬ সংস্করণে রয়েছে নতুন ডিজাইন, উন্নত অ্যানিমেশন এবং ৪ হাজারের বেশি ফিফপ্রো লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফুটবলার।

নিজের পছন্দের দল গঠন করে বিভিন্ন ডিভিশন পেরিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন খেলোয়াড়রা। বাস্তবধর্মী ধারাভাষ্য ও মসৃণ গেমপ্লে গেমটিকে আরো উপভোগ্য করেছে।

৩.  ই-ফুটবল ২০২৬

কনামির জনপ্রিয় ফুটবল গেম ‘eFootball 2026’-ও বিশ্বকাপের সময় দারুণ একটি পছন্দ হতে পারে। বাস্তবসম্মত পাসিং, ড্রিবলিং ও কৌশলভিত্তিক গেমপ্লের জন্য এটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।

বিভিন্ন ক্লাব ও তারকাখচিত স্কোয়াড নিয়ে অনলাইন ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। যারা তুলনামূলক বাস্তবধর্মী ফুটবল অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।

৪. সকার সুপারস্টার

সব সময় দীর্ঘ ম্যাচ খেলতে না চাইলে ‘Soccer Superstar’ হতে পারে চমৎকার বিকল্প। সহজ টাচ কন্ট্রোলের মাধ্যমে দ্রুতগতির ম্যাচ খেলা যায় এই গেমে।

ক্যারিয়ার মোডে একজন ফুটবলারের যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে তারকা হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। অফলাইনেও খেলা যায় বলে যেকোনো সময় উপভোগ করা সম্ভব।

৫. টপ ইলেভেন ফুটবল ম্যানেজার

যারা মাঠে নেমে খেলার চেয়ে দল পরিচালনা করতে বেশি পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘Top Eleven Football Manager’ দারুণ একটি গেম। এখানে একজন ম্যানেজারের ভূমিকায় দল গঠন, কৌশল নির্ধারণ, খেলোয়াড় কেনাবেচা এবং ক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিশ্বজুড়ে লাখো খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের ক্লাবকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যুদ্ধ নয় শান্তি, মিসাইল নয় গোল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
যুদ্ধ নয় শান্তি, মিসাইল নয় গোল

দেশের সব গণমাধ্যম বিশ্বকাপময় আজ। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বই এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন খেলা জনপ্রিয়। সব দেশে সব খেলা হয়ও না। কিন্তু ফুটবল একমাত্র খেলা যার আবেদন বিশ্বময়। বিশ্বের প্রতিটি কোনায় ফুটবল খেলা হয়। জীবনে কোনো দিন ফুটবলে লাথি দেয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। ২১১টি দেশ ফিফার সদস্য, জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। এবারের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বেই অংশ নিয়েছিল ২০৬টি দেশ। যার মধ্যে ৪৮টি দেশ মূল পর্বে খেলছে।

এবারই প্রথম ৪৮টি দেশ বিশ্বকাপ মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। বাছাই পর্বে অংশ নেয়া ২০৬টি দলের মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ কখনোই বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়নি। নিকট ভবিষ্যতে পাবে, তেমন বাস্তবতাও নেই। তবে ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, উন্মাদনা নিয়ে কোনো বিশ্বকাপ আয়োজন হলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই সেরা চারে থাকবে। মেক্সিকো, কানাডা সঙ্গে থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বাঙালি আক্ষেপ করে ফেসবুকে লিখেছেন, নিউইয়র্কে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তিনি মেসির নাম লেখা কোনো জার্সি পাননি। আর বাংলাদেশে বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে থেকেই জার্সির জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে। বাংলাদেশে শুধু জার্সির মার্কেটই কয়েক কোটি টাকার। যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় হাঁটলে নাকি বোঝা যায় না, এখানে বিশ্বকাপ হচ্ছে। আর মাসখানেক আগে থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ছোঁয়ায় রঙিন। বাড়িতে বাড়িতে উড়ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা। প্রিয় দলের রঙে গোটা বাড়ি রাঙিয়ে নিয়েছেন অনেকে। অনেক এলাকার চেহারাই বদলে গেছে।

আগামী দেড় মাস বাংলাদেশের রুটিনই বদলে যাবে। রাতভর খেলা দেখে ঘুম ঘুম চোখে অফিসে যাবে লোকজন। অফিসেও কাজের চেয়ে আগের রাতের খেলার বিশ্লেষণ হবে বেশি। বিশ্বকাপ এলেই টিভি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন হয়। ঘরে ঘরে রাতভর খেলা দেখার জন্য বিশেষ খাবার, বন্ধু-বান্ধব মিলে একসঙ্গে খেলা দেখা—অন্য রকম এক উৎসবের আবহ দেশজুড়ে।

বাংলাদেশ বিভক্ত হয়ে যাবে ব্রাজিল-আজেন্টিনায়। পাশের টেবিলের সহকর্মী, ভাই-বোন, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, এমনকি বাবা-ছেলেও এই দেড় মাস ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, মানে শত্রুপক্ষ। কথা-কাটাকাটি, ঝগড়াঝাাঁটি, মান-অভিমান, এমনকি মারামারি পর্যন্ত হবে। দেড় মাস পর গালাগাল আবার গালাগালে বদলে যাবে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যা করে, তা দেখে লজ্জা পাবেন বা অনুপ্রাণিত হতে পারেন খোদ ব্রাজিলিয়ান বা আর্জেন্টাইনরাও।

একসময় বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমর্থক বেশি ছিল। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ জেতার পর আর্জেন্টিনার সমর্থন হু হু করে বাড়তে থাকে। আর মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর তা চূড়ায় উঠেছে। আর্জেন্টিনার মোট জনসংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি। সম্ভবত বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থক আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি। আসলেই বাংলাদেশে ফুটবল এক আনন্দময় উন্মাদনার নাম। বিশ্বকাপ আসলে বাংলাদেশের মানুষ, এমনকি বাংলাদেশকেও ভুলে যায়।

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল এখন বাংলাদেশ সফর করছে। দুই দিন আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের দুয়ারে। আজ জিতলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতবে। একসময় যেটা কল্পনা করতেও সাহস লাগত। ম্যাচটি হবে ঢাকার মিরপুরে। কিন্তু কোথাও কোনো আওয়াজ নেই।

বিশ্বকাপের ভিড়ে আজকের পত্রিকায় বাংলাদেশের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের খবর খুঁজে পেতে অনুবীক্ষণযন্ত্র লাগবে। এমনকি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাজেট পেশের খবরও ফুটবলের আড়ালে চলে গেছে। ফুটবলের আড়ালে চলে গেছে আরেকটি খবরও।

যুক্তরাষ্ট্রে যখন বিশ্বকাপের ঢক্কানিনাদ, ইরানে তখন নতুন করে বাজছে যুদ্ধের দামামা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একতরফা যৌথ আক্রমণে যে যুদ্ধ শুরু, তা থামেনি এখনো। মাঝে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, পাকিস্তানের দূতিয়ালিতে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টাও হচ্ছে। একবার পাকিস্তানে দুই পক্ষ সামনাসামনি বসেছেও। নানা শর্ত বিনিময় হচ্ছে। কিন্তু কারো কারো গোয়ার্তুমি আর শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে যুদ্ধবন্ধের সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্র একটু নমনীয় হলে ইসরায়েল আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা শুরু করলে যুদ্ধে নতুন নতুন উত্তেজনা বাড়ে। ক্ষিপ্ত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ‘উন্মাদ’ বলেছেন। আসলে ব্যাপারটা ‘এক বুড়িকে আরেক বুড়ির নানি’ বলার মতো।

ট্রাম্প নিজেই নেতানিয়াহুর চেয়েও বড় উন্মাদ। এই দুই যুদ্ধ উন্মাদ মিলে গোটা বিশ্বকেই গভীর এক খাদের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ পাঁচ ভাগের এক ভাগ কমে গেছে। তাতে বেড়ে গেছে দাম। আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে যে সব কিছুর দাম বাড়ে, এটা অথনীতি একদম না বোঝা মানুষটাও জানে। এ যুদ্ধ বিশ্ব অথনীতিকে এক অবশ্যম্ভাবী মন্দার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ যত প্রলম্বিত হবে, মন্দা তত তীব্র হবে। ফুটবলও এক ধরনের যুদ্ধ। ফুটবল মাঠেও আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ হয়। কিন্তু ফুটবলের লড়াই আসল যুদ্ধের মতো ধ্বংস ডেকে আনে না।

আগামী দেড় মাস হয়তো সবাই সব কিছু ভুলে থাকবে। প্রিয় দলের গোলের পর সারা বিশ্বে সম্মিলিত চিৎকার হয়তো মিসাইলের শব্দকেও ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু এই সময়ে যুদ্ধ না থামলে ফুটবল শেষে মানুষ দেখবে তাদের খাবার প্লেটে টান পড়েছে। গোল বা ট্রফিতে তো আর পেট ভরবে না। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, জনমতের কথা বলি। কিন্তু ভিন্নমতকে মানি না। গোটা বিশ্বে যদি এখন গণভোট হয়, প্রায় সবাই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে রায় দেবেন। এমনকি খোদ আমেরিকাতেও অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ারে যারা বসে আছেন তাদের কাছে জনমতের গুরুত্ব সামান্যই। মানুষ কী ভাবল তাতে তাদের বয়েই গেছে। ফুটবলের খবর আপাতত যুদ্ধের খবরকে একটু আড়াল করতে পেরেছে। একেবারে যুদ্ধটা আড়াল করে ফেলতে পারত!