• ই-পেপার

যুদ্ধ নয় শান্তি, মিসাইল নয় গোল

বিশ্বকাপের ফল বলে ‘জ্যোতিষী’ বনে যাওয়া প্রাণীরা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের ফল বলে ‘জ্যোতিষী’ বনে যাওয়া প্রাণীরা

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় আসে কিছু অদ্ভুত ‘ভবিষ্যদ্বক্তা’ প্রাণী। বিভিন্ন দলের পতাকা বা খাবারের পাত্র বেছে নিয়ে ম্যাচের ফল অনুমান করে তারা বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীরা এসব ভবিষ্যদ্বাণীকে নিছক কাকতালীয় ঘটনা বলেই মনে করেন, তবু কয়েকটি প্রাণী বিশ্বকাপ ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

পল দ্য অক্টোপাস (২০১০ বিশ্বকাপ)

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বক্তা প্রাণী নিঃসন্দেহে পল দ্য অক্টোপাস। জার্মানির একটি অ্যাকুয়ারিয়ামে থাকা পলের সামনে দুটি বাক্স রাখা হতো, যার প্রতিটিতে থাকত প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের পতাকা। যে বাক্সটি সে প্রথম খুলত, সেটিকেই ধরা হতো তার ভবিষ্যদ্বাণী।

২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির সাতটি ম্যাচের ফল সঠিকভাবে অনুমান করার পাশাপাশি ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের পূর্বাভাসও দিয়েছিল পল। মোট ৮টি ভবিষ্যদ্বাণীর সবকটিই সঠিক হয়েছিল, যা তাকে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

শাহীনের উট (২০১৪ বিশ্বকাপ)

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি উট ‘শাহীন’ ২০১৪ বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি ম্যাচের ফল অনুমান করে সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। নকআউট পর্বের কয়েকটি ম্যাচে সঠিক পূর্বাভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি সে।

নেলি দি এলিফ্যান্ট (২০১৪ বিশ্বকাপ)

জার্মানির হাতি নেলি বল মেরে দুই দেশের পতাকাচিহ্নিত গোলপোস্টের একটি বেছে নিত। ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জার্মানির জয় সঠিকভাবে অনুমান করে আলোচনায় আসে নেলি। তবে সব ম্যাচে তার ভবিষ্যদ্বাণী সফল হয়নি।

অ্যাকিলিস দ্য ক্যাট (২০১৮ বিশ্বকাপ)

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি জাদুঘরে থাকা বধির সাদা বিড়াল অ্যাকিলিস ২০১৮ বিশ্বকাপে জনপ্রিয়তা পায়। খাবারের বাটির মাধ্যমে ম্যাচের ফল অনুমান করত সে। রাশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফল সঠিকভাবে বললেও টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তার সাফল্যের হার কমে যায়।

ক্যাবেসাও দ্য টার্টল (২০১৪ বিশ্বকাপ)

ব্রাজিলের সামুদ্রিক কচ্ছপ ক্যাবেসাও বিভিন্ন দেশের পতাকার নিচে রাখা মাছের মধ্যে একটি বেছে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করত। ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় সঠিকভাবে অনুমান করলেও পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি ভুল পূর্বাভাস দেয়।

হ্যারি দ্য ক্রোকোডাইল (২০১০ বিশ্বকাপ)

অস্ট্রেলিয়ার কুমির হ্যারি ২০১০ বিশ্বকাপে বেশ কিছু ম্যাচের ফল অনুমান করেছিল। বিশেষ করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস সঠিক হওয়ায় আলোচনায় আসে সে। তবে পরবর্তী সময়ে তার বেশ কিছু পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়।
 
ফিওনা দ্য হিপ্পো (২০১৮ বিশ্বকাপ)

যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি চিড়িয়াখানার জলহস্তী ফিওনাও বিশ্বকাপ উপলক্ষে ম্যাচের ফল অনুমান করেছিল। কিছু পূর্বাভাস সঠিক হলেও তাকে মূলত দর্শক আকর্ষণের অংশ হিসেবেই দেখা হয়।

পলের রেকর্ড এখনো অক্ষত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রাণীর সাফল্যের পেছনে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয়, বরং সম্ভাবনা ও কাকতালীয় ঘটনাই কাজ করে। তবু ২০১০ বিশ্বকাপে পল দ্য অক্টোপাসের টানা আটটি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

আজও নতুন কোনো প্রাণী বিশ্বকাপের ফল অনুমান করতে শুরু করলে তার তুলনা করা হয় পলের সঙ্গে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই সেই কিংবদন্তি অক্টোপাসের নিখুঁত রেকর্ডের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।

বসুন্ধরা কিংসকে অভিনন্দন জানালেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

ক্রীড়া ডেস্ক
বসুন্ধরা কিংসকে অভিনন্দন জানালেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের আধিপত্যের স্বীকৃতি এবার মিলেছে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার কাছ থেকেও। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্বে ক্লাবটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে বসুন্ধরা কিংসের একটি ছবি শেয়ার করেন ইনফান্তিনো। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বসুন্ধরা কিংসকে অভিনন্দন।’

বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধানের কাছ থেকে এমন শুভেচ্ছা বার্তা পাওয়াকে দেশের ক্লাব ফুটবলের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এটি শুধু বসুন্ধরা কিংসের সাফল্যের স্বীকৃতিই নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিরও প্রতিফলন।

সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ফেডারেশন কাপ এবং চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে ঘরোয়া ট্রেবল সম্পন্ন করেছে দলটি। পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্য, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত ছয়বার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে বসুন্ধরা কিংস। এর মধ্যে পাঁচটিই এসেছে টানা। এ ছাড়া ফেডারেশন কাপেও পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি, যার মধ্যে সর্বশেষ তিনটি শিরোপা টানা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে গত কয়েক বছর ধরে যে মানদণ্ড স্থাপন করেছে বসুন্ধরা কিংস, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ফিফা সভাপতির অভিনন্দন বার্তা সেই সাফল্যেরই আরেকটি বড় স্বীকৃতি হয়ে থাকল।

বিশ্বকাপ-জ্বরে মোবাইল ফোনে নামাতে পারেন যে ৫ গেম

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ-জ্বরে মোবাইল ফোনে নামাতে পারেন যে ৫ গেম
ছবি : এআই

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি ভক্তের আবেগ, উত্তেজনা আর রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মোবাইল গেমেও ফুটবলের স্বাদ নিতে চাইছেন অনেকেই। যারা স্মার্টফোনে ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের আবহ আরো উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ও বিনা মূল্যের গেম।

১. ইএ স্পের্টস এফসি ফুটবল মোবাইল ২৬

বর্তমানে মোবাইল ফুটবল গেমের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামগুলোর একটি ‘EA Sports FC Mobile 26’। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন আপডেটে যুক্ত হয়েছে বিশেষ টুর্নামেন্ট মোড, যেখানে জাতীয় দল নিয়ে বিশ্বসেরার লড়াইয়ে নামা যাবে। ৫০টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত জাতীয় দল, বাস্তব খেলোয়াড় এবং ক্লাব নিয়ে নিজের স্বপ্নের স্কোয়াডও তৈরি করা সম্ভব।

এ ছাড়া উন্নত গ্রাফিকস, নতুন প্লে-স্টাইল, অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার ম্যাচ এবং নিয়মিত লাইভ ইভেন্ট গেমটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

২. ড্রিম লিগ সকার ২০২৬

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গেম ‘Dream League Soccer 2026’। ২০২৬ সংস্করণে রয়েছে নতুন ডিজাইন, উন্নত অ্যানিমেশন এবং ৪ হাজারের বেশি ফিফপ্রো লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফুটবলার।

নিজের পছন্দের দল গঠন করে বিভিন্ন ডিভিশন পেরিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন খেলোয়াড়রা। বাস্তবধর্মী ধারাভাষ্য ও মসৃণ গেমপ্লে গেমটিকে আরো উপভোগ্য করেছে।

৩.  ই-ফুটবল ২০২৬

কনামির জনপ্রিয় ফুটবল গেম ‘eFootball 2026’-ও বিশ্বকাপের সময় দারুণ একটি পছন্দ হতে পারে। বাস্তবসম্মত পাসিং, ড্রিবলিং ও কৌশলভিত্তিক গেমপ্লের জন্য এটি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।

বিভিন্ন ক্লাব ও তারকাখচিত স্কোয়াড নিয়ে অনলাইন ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। যারা তুলনামূলক বাস্তবধর্মী ফুটবল অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।

৪. সকার সুপারস্টার

সব সময় দীর্ঘ ম্যাচ খেলতে না চাইলে ‘Soccer Superstar’ হতে পারে চমৎকার বিকল্প। সহজ টাচ কন্ট্রোলের মাধ্যমে দ্রুতগতির ম্যাচ খেলা যায় এই গেমে।

ক্যারিয়ার মোডে একজন ফুটবলারের যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে তারকা হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। অফলাইনেও খেলা যায় বলে যেকোনো সময় উপভোগ করা সম্ভব।

৫. টপ ইলেভেন ফুটবল ম্যানেজার

যারা মাঠে নেমে খেলার চেয়ে দল পরিচালনা করতে বেশি পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘Top Eleven Football Manager’ দারুণ একটি গেম। এখানে একজন ম্যানেজারের ভূমিকায় দল গঠন, কৌশল নির্ধারণ, খেলোয়াড় কেনাবেচা এবং ক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিশ্বজুড়ে লাখো খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের ক্লাবকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বকাপে ৮ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি ম্যারাডোনা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ৮ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি ম্যারাডোনা
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এই মহানায়ককে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। তবে মজার বিষয় নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৪টি বিশ্বকাপ খেললেও মূল ম্যাচে পেনাল্টি থেকে কোনো গোল করেননি ম্যারাডোনা!

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে পেনাল্টি থেকে গোল করে অনেক তারকা নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন, তবে ‘এল দিয়েগো’র ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে মোট ২১টি ম্যাচ খেলে তিনি গোল করেছেন ৮টি। কিন্তু এই ৮টি গোলের একটিও পেনাল্টি স্পট থেকে আসেনি। তার করা প্রতিটি গোলই ছিল ওপেন প্লে বা সেট-পিস (ফ্রি-কিক) থেকে।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়া এবং ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে ম্যারাডোনা পেনাল্টি শ্যুট-আউটে শট নিয়েছিলেন। তবে ফুটবলের নিয়মানুযায়ী, টাইব্রেকারের গোলগুলো কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত গোল হিসেবে গণনা করা হয় না।