মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَ لَقَدۡ كَتَبۡنَا فِی الزَّبُوۡرِ مِنۡۢ بَعۡدِ الذِّكۡرِ اَنَّ الۡاَرۡضَ یَرِثُهَا عِبَادِیَ الصّٰلِحُوۡنَ
সরল অনুবাদ :
‘আর উপদেশ দেওয়ার পর আমি কিতাবে লিখে দিয়েছি যে, আমার নেককার বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৫)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
আয়াতে زبور শব্দটি একবচন, এর বহুবচন হলো زبر। এর অর্থ কিতাব। দাউদ (আ.)-এর প্রতি নাজিলকৃত বিশেষ কিতাবের নামও জাবুর। তবে এখানে জাবুর বলে কি বোঝানো হয়েছে, এ সম্পর্কে বিভিন্ন উক্তি আছে। কারো কারো মতে ذكر বলে তাওরাত আর زبور বলে তওরাতের পর নাজিলকৃত আল্লাহর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ বোঝানো হয়েছে; যথা ইঞ্জিল, জাবুর ও পবিত্র কোরআন। আবার কোন কোন মুফাসসিরের মতে ذكر বলে লাওহে মাহফুজ আর زبور বলে নবীদের ওপর নাজিলকৃত সকল ঐশী গ্রন্থই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে কুরতুবি, ইবন কাসির, ফাতহুল কাদির)
কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে পৃথিবী বলে বর্তমান সাধারণ দুনিয়ার জমিন ও জান্নাতের জমিন উভয়টিই বোঝানো হয়েছে। জান্নাতের জমিনের মালিক যে এককভাবে সৎকর্মপরায়ণরা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এক সময় তারা এককভাবে দুনিয়ার জমিনের মালিক হবে বলেও প্রতিশ্রুতি আছে। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে এই সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবী তো আল্লাহরই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে সেটার উত্তরাধিকারী করেন। এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১২৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫) (ইবন কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)
নিশ্চয় আমার সৎকর্মশীল বান্দারা পৃথিবীর অধিকারী হবে। কোন কোন মুফাস্সির الأرض (পৃথিবী) বলতে জান্নাত অর্থ নিয়েছেন। আবার কেউ বলেছেন, তার অর্থ : কাফেরদের দেশ ও জমি-জায়গা। আয়াতের অর্থ হল, আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দারাই পৃথিবীর অধিকারী হবে। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মুসলিমরা যতদিন সৎকর্মশীল ছিল, ততদিন তারাই পৃথিবীর উপর ক্ষমতাসীন হয়ে উন্নতশির ছিল এবং ভবিষ্যতেও যখনই তারা এই গুণের অধিকারী হবে, আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৃথিবীর শাসন-ক্ষমতা তাদের হাতেই আসবে। বলা বাহুল্য, মুসলিমদের পৃথিবীর শাসন-ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত থাকার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে যেন কোন প্রকার সংশয় ও প্রশ্ন উদিত না হয়।
যেহেতু এ প্রতিশ্রুতি মুসলিমদের সৎকর্মশীলতার সাথে শর্ত-সাপেক্ষ। তাই যখন মুসলিমরা ঐ শর্ত পালনে অক্ষম হল, তখন তারা পৃথিবীর শাসন-ক্ষমতা ও আধিপত্য থেকে বঞ্চিত হল। সুতরাং এখানে শাসন-ক্ষমতা পাওয়ার উপায় ও পথ বলে দেওয়া হয়েছে, আর তা হল সৎকর্ম। অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিধি-বিধান অনুসারে জীবন-যাপন করা এবং শরীয়তের নিয়ম-কানুন ও সীমা মেনে চলা। মুসলিমরা যেদিন নিজেদের জীবন ও পরিবারে ইসলামী সংবিধানকে বাস্তবায়িত করতে পারবে, সেদিনই ফিরে পাবে পৃথিবীর শাসন-ক্ষমতা। ইনশাআল্লাহ । (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)




