• ই-পেপার

শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, বাড়ছে সেশনজট

মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ দেখানো হবে বড় পর্দায়

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাভাবিপ্রবিতে বিশ্বকাপ দেখানো হবে বড় পর্দায়
ছবি: কালের কণ্ঠ

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত এ স্ক্রিনে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাধুলা এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এর আগে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে খেলা দেখার ব্যবস্থা করার দাবিতে মাভাবিপ্রবি ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। গত ৯ জুন দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় পর্দার মাধ্যমে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগের সুযোগ তৈরির দাবি জানানো হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরো দৃঢ় করবে।

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বকাপ ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের দল ও তারকা খেলোয়াড়দের ছবি নিয়ে থিমভিত্তিক ডিসপ্লেরও ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, বিশ্বকাপ চলাকালে এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি খেলা উপভোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি আরো বিকশিত হবে।

নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের ফলচক্র অনুষ্ঠিত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের ফলচক্র অনুষ্ঠিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাংবাদিক সংগঠন নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ‘মধুমাসের সুবাসে, মেতে উঠি উল্লাসে’ প্রতিপাদ্যে ফলচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, প্রক্টর অধ্যাপক এ এম এফ আরিফুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিবলুর রহমান, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামারুজ্জামানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ খান বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্ক ও ইতিবাচক যোগাযোগেরও একটি মাধ্যম। ফলচক্রের মতো আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, মধুমাসের দেশীয় ফল বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষক, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রেস ক্লাবের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও মধুমাসের ফল দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি নোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মৌসুমি ফল উপভোগ করেন এবং মতবিনিময়ে অংশ নেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বাজেটে শিক্ষা খাত

কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

অনলাইন ডেস্ক
কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় ভাষা, উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা

বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেটে অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম শিক্ষা, যেখানে কারিকুলাম সংস্কার থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের রূপান্তর আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি, জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সেসব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থাও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরো উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।

সচিবালয়ের সামনে নন-এমপিও শিক্ষকদের অবস্থান, ৩ জনকে আটকের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
সচিবালয়ের সামনে নন-এমপিও শিক্ষকদের অবস্থান, ৩ জনকে আটকের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। শিক্ষকদের দাবি, তাদের তিনজন শিক্ষক নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিয়ে গেছে।

শিক্ষকরা ‘আটক’ শিক্ষক নেতাদের মুক্তি দিতে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। না হলে তারা কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি থেকে আজকের কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মিলিত নন-মপিও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা।