• ই-পেপার

এ বছর শীত কেমন হবে, কম নাকি বেশি?

দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে যেসব অঞ্চলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে যেসব অঞ্চলে
সংগৃহীত ছবি

বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে দাপটে রয়েছে আষাঢ়ের বৃষ্টি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও দেশে সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এই অবস্থায় শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতের মধ্যেই দেশের ১৭ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ৫ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ১টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৫ দিনও দেশজুড়ে দাপটে থাকতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপ আকারে মধ্য উত্তর প্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আর এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজমান আছে।

এই অবস্থায় শনি, রবি ও সোমবার (১১-১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই ৩ দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এদিনও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও অপরিবর্তিত থাকতে পারে রাতের তাপমাত্রা।

এ ছাড়া আগামী ‍বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এই সময়েও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে দেশের সর্বোচ্চ ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি এই সময়ে কক্সবাজারের টেকনাফে ২০৯ মিলিমিটার ছাড়াও সাতক্ষীরায় ১৭৯, গোপালগঞ্জে ১৬৩, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১৫৩, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৩৮, বান্দরবানে ১৩১, টাঙ্গাইলে ১২৪, কক্সবাজারে ৯৯, বরিশালে ৯৪, রাঙামাটিতে ৯২ মিলিমিটারসহ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বর্ধিত ৫ দিনে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চট্টগ্রামের বন্যা উন্নতির পূর্বাভাস, সিলেট-রংপুরে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের বন্যা উন্নতির পূর্বাভাস, সিলেট-রংপুরে শঙ্কা
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলাসহ কক্সবাজারে চলমান বন্যা পরিস্থিতি ধীরগতিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে রংপুর ও সিলেট বিভাগে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে এ সময়ে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপ আকারে মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে বোর্ড।

প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ

১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষদের কাছে দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশনব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন, সশরীরে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। একই সঙ্গে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে। এই সংকটে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ জনগণের পাশে রয়েছে।

৮. ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯. এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

১০. টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য সরকার নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে।

১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতালের অনুমোদন

বাসস
১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতালের অনুমোদন

দেশের গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরো শক্তিশালী করতে বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি নতুন ১৩টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত ৮ জুলাই জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পত্রে বলা হয়, দেশের গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নতুন ১৩টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সম্মতি পাওয়া গেছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির (পদ সৃজন) প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বৃদ্ধি এবং নতুন ১৩টি উপজেলায় হাসপাতাল স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ থেকে ৫০টি শয্যা রয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা, রোগী ভর্তি সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাতীয় সংসদ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর : কিরণ

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর : কিরণ
ফাইল ছবি

‘বিগত শাসনামলে আমরা কোনো কার্যকর জাতীয় সংসদ পাইনি। অথচ জাতীয় সংসদ হচ্ছে জাতির আশা- আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর’ বলে মন্তব্য করেছেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ হিসেবে ইতিমধ্যে জনগণের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। এই সংসদ মানুষের অধিকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সরকারি ও বিরোধী দল যুক্তি-পাল্টাযুক্তির মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশার কথাগুলো বলছে। ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিতের কথা বলছে।’

আজ শুক্রবার ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামিম আরা লুনা।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘মেধা ও মননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অন্য পক্ষের মতামত ও যুক্তিকে যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে পাল্টা যুক্তি প্রয়োগ করতে হয়। এতে বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ে।’

সংসদে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা আলোচনার মঞ্চে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করলেও দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহানাজ পারভীন, ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর অধ্যপক ড. আফরোজা বেগম, ক্লাবের সভাপতি ফাতেমা তুজ জোহরা সুরভী প্রমুখ।

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ২৪টি বিতর্ক দল অংশগ্রহণ করছে। আগামী রবিবার (১২ জুলাই) প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর শীত কেমন হবে, কম নাকি বেশি? | কালের কণ্ঠ