kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ভার্চুয়াল সেমিনারে নীতি নির্ধারকদের অভিমত প্রকাশ

বেড়িবাঁধ সংস্কারে জরুরি বরাদ্দ প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেড়িবাঁধ সংস্কারে জরুরি বরাদ্দ প্রয়োজন

কোস্ট ট্রাস্ট ও স্থায়িত্বশীল গ্রামীণ জীবন-জীবিকার জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো আগামী শুকনো মৌসুমে মেরামতের জন্য জরুরি বরাদ্দের সুপারিশ করেছেন।

আজ শনিবার ‘শুকনো মৌসুমে বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি বাজেট বরাদ্দ দাবি’ শীর্ষক ভার্চুয়াল এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমাদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোঃ তালুকদার আবদুল খালেক, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক (কক্সবাজার-২), নুরুন্নবী চৌধুরী (ভোলা-৩), মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (গাইবান্ধা ৪), ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু (বরগুনা-২) ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (গাইবান্ধা-১)।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় কোস্ট ট্রাস্টের আরিফ দেওয়ান উল্লেখ করেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্যায় সারা দেশে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় রোধে আসন্ন শুকনো মৌসুমে বেড়িবাঁধগুলোর জরুরি মেরামতের প্রয়োজন। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের মাত্র ৩.০% অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে পাঁচ বছরের জলবায়ু পরিবর্তন সহনীয় বাঁধ নির্মাণের খরচ মেটানো সম্ভব।

তিনি বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন, সেগুলো হলো: (১) আসন্ন শুকনো মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের জন্য জরুরি বরাদ্দ হিসেবে কমপক্ষে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা উচিত, (২) দীর্ঘমেয়াদী বাঁধ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে (৩) তথাকথিত উপ-ঠিকাদারি ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে, এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।

এ সময় সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, টেকসই বাঁধ ও নদী ব্যবস্থাপনার নীতিমালা না থাকায় প্রতিবছর বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের নামে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন, এবং পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। অন্যান্য উন্নয়নের বিষয়গুলোর পাশাপাশি বাঁধ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার জন্য আমাদের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি প্রয়োজন। এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে এবং এতে সমাধানগুলো স্থায়িত্বশীল হতে পারে।



সাতদিনের সেরা