প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেছেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সাথে যেভাবে জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তাও বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসাথেই বাস্তবায়ন করছে সরকার। শুক্রবার (১৮ জুলাই) বর্তমান সরকারের ৫ মাস পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, বিগত সরকারের সময় উন্নয়নের গালগল্প অনেক হয়েছে, কিন্তু কোথায় সেই উন্নয়ন? অনেক স্থানে অবনতি হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবনতি ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যোবোধের অবক্ষয় হয়েছে। যতক্ষণ মানসিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের উন্নয়ন না হবে, ততক্ষণ কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে দেশের গুণগত পরিবর্তনে নিজেই কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলেরই হোক, যে মতের হোক, মতাদর্শ যাই হোক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। মতের পার্থক্য ব্যালটে হতে পারে, কিন্তু দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসাথে হতে হবে।
আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছেন। কোথাও কারো কোন বন্দনা করেন না। আগে যা অহরহ দেখা যেতো। প্রধানমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন। প্রতিমাসেই তিনি জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকার বাইরে কোনো না কোনো জেলায় যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এবারের বাজেট সরকারের একটা অর্জন। এবার বাজেট পাশ হওয়ার পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, জনজীবনে অস্থিরতা বাড়েনি। এটা একটা জীবনবান্ধব বাজেট।
বানভাসী শিশুদের পাশে দাঁড়াতে খেলাঘরের মানববন্ধন
নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রেসসচিব

সরকারের ৫ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক দ্রুত অপসারণে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশদূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে এ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ইট উৎপাদনের জন্যে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কিভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া রাজধানীতে আরো অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
‘নজরুল কেবল আমাদের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁরও এক অনন্য রূপকার বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, নজরুলের সৃষ্টি, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম উপমহাদেশের মানুষের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করেছে। তার রচিত রণসঙ্গীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরান অন্যতম।
শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ স্থাপনের মাধ্যমে নজরুল গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এটি স্থানীয় সংস্কৃতি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’-এর কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে এনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি জাতীয় কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে ‘নজরুল ভিলেজ’ চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন ভূমিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে যেকোনো দল বা গোষ্ঠী নজরুলের নাটক, পালাগান, কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে চর্চা করতে পারবেন।
নজরুল চর্চাকে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সারা বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হবে। আগামী মাসের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো যাতে এই প্রাঙ্গণে আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যে দ্রুত ‘নজরুল মঞ্চ’-এর নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় কবির সাহিত্য, কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

