• ই-পেপার

করোনা মোকাবেলায় জনগণের পাশে ব্র্যাক

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৪ জুলাই)

অনলাইন ডেস্ক
একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (১৪ জুলাই)
বন্যায় বিপুল ক্ষতি, মৃত্যু ৫৪

বন্যায় বিপুল ক্ষতি, মৃত্যু ৫৪

সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা, সিলেটের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার...

 

বৃষ্টি-বন্যায় পরীক্ষা নিয়ে অসন্তোষ

বৃষ্টি-বন্যায় পরীক্ষা নিয়ে অসন্তোষ

সারা দেশে সব কয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ১১ বছর পর এ বছরের...

 

পে স্কেল কিছুটা পিছিয়ে দিতে বলল আইএমএফ

পে স্কেল কিছুটা পিছিয়ে দিতে বলল আইএমএফ

বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের বৃত্ত ভেঙে ধীরে হলেও কিছুটা স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছে...

 

মডেল মসজিদ নির্মাণ ব্যয়ের তদন্ত করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মডেল মসজিদ নির্মাণ ব্যয়ের তদন্ত করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারা দেশে নির্মিত মডেল মসজিদগুলোর প্রকল্প ব্যয় ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের সার্বিক বিষয় তদন্তে...

 

এমবাপ্পে না ইয়ামাল

এমবাপ্পে না ইয়ামাল

শেষ অঙ্কে পৌঁছে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রথা ভেঙে তিন দেশের উদ্বোধন দিয়ে গত ১১ জুন ৪৮ দল নিয়ে শুরু হয়েছিল...

 

জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না

জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই...

 

বাংলাদেশ নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করুক

বাংলাদেশ নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করুক

কালের কণ্ঠ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই সময় ইরান কিভাবে...

 

টানা বৃষ্টি-বন্যায় নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির

টানা বৃষ্টি-বন্যায় নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির

দেশজুড়ে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন এলাকায় বন্যা-জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারে।...

 

‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দিবি, মাসে ১০ লাখ’

‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দিবি, মাসে ১০ লাখ’

চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ফোন করে এককালীন দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।...

 

জার্সিতে আশা-নিরাশার গল্প

জার্সিতে আশা-নিরাশার গল্প

একটা জার্সিই তো! সেটি আবার কিভাবে গল্পের উপজীব্য হয়ে ওঠে? বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনার নীল-কালো রঙের অ্যাওয়ে জার্সির...

 

বন্যার্তদের দুর্ভোগ দেখলে কান্না লুকানো যায় না

বন্যার্তদের দুর্ভোগ দেখলে কান্না লুকানো যায় না

এক প্যারালাইজড মা চার-পাঁচ দিন ধরে ঘরে বন্দি, রাতে আমরা যখন পানি পেরিয়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছি, শব্দ শুনে তিনি আমাদের...

 

জন্মদিনে পুতুলের বেখেয়ালি মন

জন্মদিনে পুতুলের বেখেয়ালি মন

গতকাল ছিল কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে প্রিয়জনদের কাছ থেকে উপহার তো পেয়েছেনই, তবে...

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন অধ্যায়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন অধ্যায়

ইরানকে পরমাণু কর্মসূচির বাইরে রাখা নিয়ে যে যুদ্ধের শুরুটা হয়েছিল, এই পর্যায়ে এটা এসে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালির...

 

জলবায়ু সাক্ষরতা : এখন টিকে থাকার প্রশ্ন

জলবায়ু সাক্ষরতা : এখন টিকে থাকার প্রশ্ন

আমরা জলবায়ু সংকট নিয়ে প্রতিদিন কথা বলছি। সংবাদে দেখছি, কোথাও দাবদাহে মানুষ মারা যাচ্ছে অথবা কোথাও বন্যায় জনপদ...

 

ইসলামের চোখে দ্বিন ও দুনিয়া বিচ্ছিন্ন নয়

ইসলামের চোখে দ্বিন ও দুনিয়া বিচ্ছিন্ন নয়

মুসলিম সমাজে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যারা আল্লাহর দ্বিনের বিধানকে দুনিয়ার বিষয় থেকে আলাদা করতে চায়। তারা...

 

ডিভাইস আসক্তি কেড়ে নিচ্ছে নামাজের মনোযোগ!

ডিভাইস আসক্তি কেড়ে নিচ্ছে নামাজের মনোযোগ!

প্রযুক্তি আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। কিন্তু যে প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, সেই প্রযুক্তিই নীরবে আমাদের...

 

বন্যায় সাপের উপদ্রব সচেতনতার এখনই সময়

বন্যায় সাপের উপদ্রব সচেতনতার এখনই সময়

বর্ষাকাল বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেমন রহমতের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি অতিবৃষ্টি ও বন্যা অনেক সময় তা দুর্ভোগে...

 

নিজের বায়োপিকে হেমার পছন্দ দীপিকা

নিজের বায়োপিকে হেমার পছন্দ দীপিকা

বলিউডের ড্রিমগার্ল তিনি। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কখনো যদি তাঁর বায়োপিক নির্মাণ করা...

 

বানভাসিদের সহায়তায় তৌসিফ

বানভাসিদের সহায়তায় তৌসিফ

বন্যার্তদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আর্থিক...

 

আর মঞ্চে উঠবেন না কমল

আর মঞ্চে উঠবেন না কমল

৯ বছর আগে একবার জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ ছেড়ে দেন ইব্রাহিম আহমেদ কমল। পরে আবার যোগও দিয়েছিলেন। তিনি ব্যান্ডটির...

 

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

দেশের পাঁচ বিভাগে অতি ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান আছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ‍পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মা-বাবার চোখের শীতলতা নেক সন্তান

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
মা-বাবার চোখের শীতলতা নেক সন্তান

আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো কোনো বান্দাকে নেককার ও সৎ সন্তান দান করা। এটি এমন এক মহামূল্যবান অনুগ্রহ, যার মাধ্যমে চোখ শীতল হয়, হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে, বক্ষ প্রশস্ত হয় এবং মন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে।

সৎ ও নেক সন্তান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণের কারণ হয়। তারা পিতা-মাতার আনুগত্য করে, তাদের সম্মান করে, তাদের সেবা করে, একাকিত্ব দূর করে, প্রয়োজনের সময় সাহায্য করে, তাদের জন্য দোয়া করে এবং তাদের কারণে মানুষও পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে। এমন সন্তান হলো সেই মিষ্টি ফল, যা একজন মানুষ বহু ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর লাভ করতে চায়। সে একজন দ্বিনদার স্ত্রী নির্বাচন করে, মোহর প্রদান করে, সংসার গড়ে তোলে, বিবাহের ওয়ালিমা করে।

এরপর প্রথম সন্তানের জন্মে আনন্দিত হয়, তার আকিকা করে। পরবর্তী সময়ে অন্য সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই দায়িত্ব পালন করে। নিজের অর্থ, সময়, শ্রম, চিন্তা ও ভালোবাসা অকাতরে ব্যয় করে এই আশায় যে তার ছেলেরা হবে সৎ, নেক ও দ্বিনের পথে অটল; মেয়েরা হবে লজ্জাশীলা, মার্জিত ও সচ্চরিত্রা। সে একটি শান্ত, স্থিতিশীল ও আদর্শ পরিবার গড়ে তুলতে চায়, যা হবে একটি শক্তিশালী সমাজের দৃঢ় ভিত্তি—যে সমাজকে পরিবর্তনের ঝড় টলাতে পারবে না এবং ফিতনা-ফ্যাসাদের ভূমিকম্পও ধ্বংস করতে পারবে না।

নিঃসন্তান থাকা নিঃসন্দেহে মানুষের একটি বাহ্যিক দুঃখের বিষয়। কিন্তু এর চেয়েও বড় ও অধিক বেদনাদায়ক বিষয় হলো সন্তান থাকার পরও যদি দেখা যায় তারা পিতা-মাতার আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি, তখন তাদের অস্তিত্বই হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তার কারণ, এমনকি কখনো কখনো তারা কষ্ট ও ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই সন্তান প্রতিপালন একটি বিরাট আমানত ও গুরুদায়িত্ব। এটি শুধু ভালোবাসা দিয়ে সম্পন্ন হয় না; বরং এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও দূরদৃষ্টি, সৎ নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা, নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিক শ্রম, ধারাবাহিক শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত উপদেশ ও তদারকি এবং এমন জ্ঞান, যার মাধ্যমে সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

সন্তানদের ঈমান-আকিদা রক্ষা করা, তাদের চরিত্র ও নৈতিকতা সংরক্ষণ করা—এ এক মহান দায়িত্ব, ভারী আমানত এবং দীর্ঘমেয়াদি অব্যাহত একটি দায়িত্ব, যা আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার কাঁধে অর্পণ করেছেন।

এ দায়িত্ব পালনে পিতা ও মাতাকে একে অপরের সহযোগী হতে হবে। ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অবিরাম তদারকির মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ফলাফল আল্লাহর অনুগ্রহে শুধু পিতা-মাতার জন্য নয়; সন্তান, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার জন্য কল্যাণকর।

পক্ষান্তরে সন্তানদের অবহেলা করা, তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন না করা—দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতি, লাঞ্ছনা, অনুশোচনা ও দুর্ভাগ্যের কারণ। মহান আল্লাহ প্রত্যেক অভিভাবককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তিনি প্রত্যেক আমানতদারকে তার অর্পিত আমানতের হিসাব নেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা : আত-তাহরিম, আয়াত : ৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার সবচেয়ে বড় অধিকারগুলোর একটি হলো তাদের বিশুদ্ধ আকিদার ওপর গড়ে তোলা। তাদের অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব, ভালোবাসা ও সর্বদা তাঁর উপস্থিতির অনুভূতি সৃষ্টি করা। ছোটবেলা থেকেই তাদের অন্তরে তাওহিদের বীজ বপন করা এবং এ ক্ষেত্রে নবী-রাসুল ও নেককারদের অনুসরণ করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইবরাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এ মর্মে উপদেশ দিয়েছিলেন—হে আমার সন্তানরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বিনকে মনোনীত করেছেন। অতএব, তোমরা মুসলিম না হয়ে কখনো মৃত্যুবরণ কোরো না।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৩২)

লুকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় পুত্র! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক এক মহা জুলুম।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৩)

ঈমান, তাকওয়া, আল্লাহর দ্বিনের ওপর অবিচল থাকা, ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা, ইসলামী বিধানসমূহের সম্মান রক্ষা করা এবং উত্তম চরিত্রে ভূষিত হওয়া—এগুলোই হলো পিতা-মাতা তাঁদের সন্তানদের জন্য রেখে যেতে পারেন এমন সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার। এর চেয়ে মূল্যবান সম্পদ তাঁরা সন্তানদের আর কিছুই দিতে পারেন না।

সন্তানদের খোঁজখবর না রাখা, তাদের বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা ও ভ্রান্ত মতাদর্শের হাতে ছেড়ে দেওয়া, তাদের বিচ্যুতি দেখে নীরব থাকা, তাদের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরার সঙ্গীদের না চেনা, তাদের সামাজিক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং সব সময় তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ছেড়ে দেওয়া, যাতে সেগুলোই তাদের ধর্মীয় চেতনা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে—এসবই বর্তমান যুগে বহু পরিবারের সবচেয়ে বড় অবহেলার দৃষ্টান্ত।

এ ছাড়া সন্তানদের অসৎ সঙ্গী থেকে সতর্ক না করা, ধ্বংসের পথ থেকে রক্ষা না করা, এমন পরিবেশ থেকে দূরে না রাখা, যা তাদের চরিত্র নষ্ট করে, পাপকে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলে—এসবও মারাত্মক দায়িত্বহীনতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো সুগন্ধি বিক্রেতা এবং কামারের হাপরের মতো। সুগন্ধি বিক্রেতার কাছ থেকে হয় তুমি উপহার পাবে, নয়তো কিছু কিনবে, অথবা অন্তত সুন্দর সুগন্ধ পাবে। আর কামারের হাপর হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় দুর্গন্ধ তোমার নাকে আসবে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

পিতা-মাতা যতই চেষ্টা করুন না কেন, মানুষের অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারেন না; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। আর তিনিই ভালো জানেন কে হেদায়েতপ্রাপ্ত।’ (সুরা : আল-কাসাস, আয়াত : ৫৬)

তাই সন্তানদের জন্য নিয়মিত দোয়া করা, তাদের হেদায়েত ও নেককার হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করা—তাদের সৎ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। এটাই ছিল নবী-রাসুল ও নেককার বান্দাদের পদ্ধতি।

সাইবার স্পেসেও মাদক কারবারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার স্পেসেও মাদক কারবারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনে নতুন আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল পাস হয়েছে। পাস হওয়া বিলে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও প্রচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আজ সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। 

এরআগে সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তবে তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। 

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা ও যোগাযোগ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

এ ছাড়া এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) ইত্যাদি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করাও অপরাধের শামিল হবে। নতুন আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না; ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও লেনদেনের ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা যাবে। এই অপরাধের সাজা হিসেবে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, এই ধরনের অপরাধ যদি আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে সংগঠিত অথবা পুনঃসংগঠিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের বা ক্ষেত্রবিশেষে, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে ব্লক, অপসারণ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই অপরাধের বিস্তার রোধে নতুন বিধানের পাশাপাশি বিলে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিদ্যমান বিধান অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের মাদক-সংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানটি পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং চোরাচালান ও মাদক চিহ্নিত করতে বিশেষ ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের আইনি বিধানও বিলে যুক্ত করা হয়েছে।

বিরোধী দলের সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচায় খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাশক্তি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান মামলার চাপে সাধারণ আদালতে এসব অপরাধের বিচারকার্য সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। তাই মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে অভিযান পরিচালনা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার ও ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধানও বিলে রাখা হয়েছে।

গত ২৮ জুন সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
 

করোনা মোকাবেলায় জনগণের পাশে ব্র্যাক | কালের কণ্ঠ