• ই-পেপার

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

মা-বাবার চোখের শীতলতা নেক সন্তান

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
মা-বাবার চোখের শীতলতা নেক সন্তান

আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো কোনো বান্দাকে নেককার ও সৎ সন্তান দান করা। এটি এমন এক মহামূল্যবান অনুগ্রহ, যার মাধ্যমে চোখ শীতল হয়, হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে, বক্ষ প্রশস্ত হয় এবং মন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে।

সৎ ও নেক সন্তান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণের কারণ হয়। তারা পিতা-মাতার আনুগত্য করে, তাদের সম্মান করে, তাদের সেবা করে, একাকিত্ব দূর করে, প্রয়োজনের সময় সাহায্য করে, তাদের জন্য দোয়া করে এবং তাদের কারণে মানুষও পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে। এমন সন্তান হলো সেই মিষ্টি ফল, যা একজন মানুষ বহু ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর লাভ করতে চায়। সে একজন দ্বিনদার স্ত্রী নির্বাচন করে, মোহর প্রদান করে, সংসার গড়ে তোলে, বিবাহের ওয়ালিমা করে।

এরপর প্রথম সন্তানের জন্মে আনন্দিত হয়, তার আকিকা করে। পরবর্তী সময়ে অন্য সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই দায়িত্ব পালন করে। নিজের অর্থ, সময়, শ্রম, চিন্তা ও ভালোবাসা অকাতরে ব্যয় করে এই আশায় যে তার ছেলেরা হবে সৎ, নেক ও দ্বিনের পথে অটল; মেয়েরা হবে লজ্জাশীলা, মার্জিত ও সচ্চরিত্রা। সে একটি শান্ত, স্থিতিশীল ও আদর্শ পরিবার গড়ে তুলতে চায়, যা হবে একটি শক্তিশালী সমাজের দৃঢ় ভিত্তি—যে সমাজকে পরিবর্তনের ঝড় টলাতে পারবে না এবং ফিতনা-ফ্যাসাদের ভূমিকম্পও ধ্বংস করতে পারবে না।

নিঃসন্তান থাকা নিঃসন্দেহে মানুষের একটি বাহ্যিক দুঃখের বিষয়। কিন্তু এর চেয়েও বড় ও অধিক বেদনাদায়ক বিষয় হলো সন্তান থাকার পরও যদি দেখা যায় তারা পিতা-মাতার আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি, তখন তাদের অস্তিত্বই হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তার কারণ, এমনকি কখনো কখনো তারা কষ্ট ও ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই সন্তান প্রতিপালন একটি বিরাট আমানত ও গুরুদায়িত্ব। এটি শুধু ভালোবাসা দিয়ে সম্পন্ন হয় না; বরং এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও দূরদৃষ্টি, সৎ নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা, নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্তরিক শ্রম, ধারাবাহিক শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত উপদেশ ও তদারকি এবং এমন জ্ঞান, যার মাধ্যমে সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

সন্তানদের ঈমান-আকিদা রক্ষা করা, তাদের চরিত্র ও নৈতিকতা সংরক্ষণ করা—এ এক মহান দায়িত্ব, ভারী আমানত এবং দীর্ঘমেয়াদি অব্যাহত একটি দায়িত্ব, যা আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার কাঁধে অর্পণ করেছেন।

এ দায়িত্ব পালনে পিতা ও মাতাকে একে অপরের সহযোগী হতে হবে। ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অবিরাম তদারকির মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ফলাফল আল্লাহর অনুগ্রহে শুধু পিতা-মাতার জন্য নয়; সন্তান, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার জন্য কল্যাণকর।

পক্ষান্তরে সন্তানদের অবহেলা করা, তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন না করা—দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতি, লাঞ্ছনা, অনুশোচনা ও দুর্ভাগ্যের কারণ। মহান আল্লাহ প্রত্যেক অভিভাবককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তিনি প্রত্যেক আমানতদারকে তার অর্পিত আমানতের হিসাব নেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা : আত-তাহরিম, আয়াত : ৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার সবচেয়ে বড় অধিকারগুলোর একটি হলো তাদের বিশুদ্ধ আকিদার ওপর গড়ে তোলা। তাদের অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ব, ভালোবাসা ও সর্বদা তাঁর উপস্থিতির অনুভূতি সৃষ্টি করা। ছোটবেলা থেকেই তাদের অন্তরে তাওহিদের বীজ বপন করা এবং এ ক্ষেত্রে নবী-রাসুল ও নেককারদের অনুসরণ করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইবরাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এ মর্মে উপদেশ দিয়েছিলেন—হে আমার সন্তানরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বিনকে মনোনীত করেছেন। অতএব, তোমরা মুসলিম না হয়ে কখনো মৃত্যুবরণ কোরো না।’ (সুরা : আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৩২)

লুকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় পুত্র! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক এক মহা জুলুম।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৩)

ঈমান, তাকওয়া, আল্লাহর দ্বিনের ওপর অবিচল থাকা, ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা, ইসলামী বিধানসমূহের সম্মান রক্ষা করা এবং উত্তম চরিত্রে ভূষিত হওয়া—এগুলোই হলো পিতা-মাতা তাঁদের সন্তানদের জন্য রেখে যেতে পারেন এমন সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার। এর চেয়ে মূল্যবান সম্পদ তাঁরা সন্তানদের আর কিছুই দিতে পারেন না।

সন্তানদের খোঁজখবর না রাখা, তাদের বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারা ও ভ্রান্ত মতাদর্শের হাতে ছেড়ে দেওয়া, তাদের বিচ্যুতি দেখে নীরব থাকা, তাদের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরার সঙ্গীদের না চেনা, তাদের সামাজিক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং সব সময় তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ছেড়ে দেওয়া, যাতে সেগুলোই তাদের ধর্মীয় চেতনা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে—এসবই বর্তমান যুগে বহু পরিবারের সবচেয়ে বড় অবহেলার দৃষ্টান্ত।

এ ছাড়া সন্তানদের অসৎ সঙ্গী থেকে সতর্ক না করা, ধ্বংসের পথ থেকে রক্ষা না করা, এমন পরিবেশ থেকে দূরে না রাখা, যা তাদের চরিত্র নষ্ট করে, পাপকে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলে—এসবও মারাত্মক দায়িত্বহীনতা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো সুগন্ধি বিক্রেতা এবং কামারের হাপরের মতো। সুগন্ধি বিক্রেতার কাছ থেকে হয় তুমি উপহার পাবে, নয়তো কিছু কিনবে, অথবা অন্তত সুন্দর সুগন্ধ পাবে। আর কামারের হাপর হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় দুর্গন্ধ তোমার নাকে আসবে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

পিতা-মাতা যতই চেষ্টা করুন না কেন, মানুষের অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত দিতে পারেন না; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। আর তিনিই ভালো জানেন কে হেদায়েতপ্রাপ্ত।’ (সুরা : আল-কাসাস, আয়াত : ৫৬)

তাই সন্তানদের জন্য নিয়মিত দোয়া করা, তাদের হেদায়েত ও নেককার হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে কাকুতি-মিনতি করা—তাদের সৎ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। এটাই ছিল নবী-রাসুল ও নেককার বান্দাদের পদ্ধতি।

সাইবার স্পেসেও মাদক কারবারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার স্পেসেও মাদক কারবারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনে নতুন আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল পাস হয়েছে। পাস হওয়া বিলে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও প্রচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আজ সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। 

এরআগে সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তবে তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। 

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা ও যোগাযোগ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

এ ছাড়া এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) ইত্যাদি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করাও অপরাধের শামিল হবে। নতুন আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না; ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও লেনদেনের ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা যাবে। এই অপরাধের সাজা হিসেবে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, এই ধরনের অপরাধ যদি আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে সংগঠিত অথবা পুনঃসংগঠিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের বা ক্ষেত্রবিশেষে, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে ব্লক, অপসারণ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই অপরাধের বিস্তার রোধে নতুন বিধানের পাশাপাশি বিলে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিদ্যমান বিধান অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের মাদক-সংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানটি পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং চোরাচালান ও মাদক চিহ্নিত করতে বিশেষ ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের আইনি বিধানও বিলে যুক্ত করা হয়েছে।

বিরোধী দলের সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচায় খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাশক্তি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান মামলার চাপে সাধারণ আদালতে এসব অপরাধের বিচারকার্য সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। তাই মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে অভিযান পরিচালনা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার ও ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধানও বিলে রাখা হয়েছে।

গত ২৮ জুন সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
 

মানসিক রোগীর ৯২ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মানসিক রোগীর ৯২ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত ৯২ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু/কিশোর-কিশোরী কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায় না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ (১৩ জুলাই) সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী অক্ষমতাজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মানসিক রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা বর্তমানে মানুষের অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে হৃদরোগ ও ক্যান্সার এখনো শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে মানুষের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক ব্যাধিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা নেন না বা সেবার আওতার বাইরে থেকে যান। বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দেশে প্রতি ১ লাখ জনগণের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। এ ছাড়া সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন, যা বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

এই বিশাল ঘাটতি পূরণে এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বাড়াতে সরকারের নানান পরিকল্পনার কথা সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে দেশের প্রধান বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যখাতের আইনি ও কৌশলগত উন্নয়নে এরইমধ্যে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা (২০২০-২০৩০) বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম আরো গতিশীল ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পৃথক পরিচালক পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্তরে মানসিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রাম’ বা এমএইচজিএপ-এর আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, বান্দরবান, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম এই ১০টি জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান। এর পাশাপাশি দেশে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের যৌথ সহযোগিতায় দেশের যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চার জেলায় বর্তমানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পে স্কেল বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন, যেসব বিষয়ে অগ্রগতি

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেল বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন, যেসব বিষয়ে অগ্রগতি
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রচলিত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলে শুধু গ্রেড নয়, কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাস্তব চাহিদাকেও গুরুত্ব দিয়ে বেতন নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডে প্রায় একই হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন কাঠামোতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সচিব কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইনি যাচাই-বাছাই এবং প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন ও সম্ভাব্য বকেয়া অর্থ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে হাতে পেতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর যেন কোনো আইনি বা কারিগরি জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য খসড়া প্রজ্ঞাপনের আইনি যাচাই, বিধিমালা সংশোধন এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে।

জানা গেছে, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

বেতন বৃদ্ধির এ নতুন নীতিমালার পেছনে সরকারের পরিচালিত একটি বিস্তৃত জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান।

জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।

বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধিরও প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।