kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

পশ্চিমবঙ্গে আটক চার জেএমবি সদস্যের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ জুন, ২০১৯ ১১:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পশ্চিমবঙ্গে আটক চার জেএমবি সদস্যের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারত ও বাংলাদেশে যুদ্ধ করবে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশ নিয়ে গড়ে তোলা হবে 'হিন্দ'। এক 'খলিফা' শাসন চালাবেন ওই বৃহত্তর বাংলাদেশে। সেখানে চলবে জঙ্গিদের শাসন।

এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি'র চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে।

মঙ্গলবার ওই চার সদস্যকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। দাবি করা হয়, আটকদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি। এরা হলেন জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন, মামুনুর রশিদ, মহম্মদ শাহিন আলম ওরফে আলামিন এবং রবিউল ইসলাম। এদের মধ্যে রবিউল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের বীরভূমের নয়াগ্রামের বাসিন্দা।

আটকের পর নব্য জেএমবি'র চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে এসটিএফ'র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে নব্য জেএমবি সদস্যরা জানিয়েছেন বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'ইমো'র মাধ্যমে সংগঠনটিতে সদস্য নিয়োগ করা হয়। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমও 'ইমো'। এর মাধ্যমেই ছড়িয়ে দেওয়া হতো লস্করের হাফিজ সইদ, জইশের মাসুদ আজহারের ভিডিও। পাঠানো হতো জেহাদি বইয়ের ছবি।

কলকাতা পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার জঙ্গির মোবাইলে 'ইমো' নামের  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সন্ধান মেলে। বাংলাদেশে এই 'ইমো' সামাজিক নেটওয়ার্কটি বেশ জনপ্রিয়।

বীরভূমের বাসিন্দা রবিউলের 'ইমো' ঘেঁটে গোয়েন্দারা দেখেন, ওই জেলায় বসেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। এদের মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মামুনুর রশিদ, আলামিন এবং মহসিনের 'ইমো' অ্যাকাউন্টও। ওই তিন বাংলাদেশি চোরাইপথে সীমান্ত পেরিয়ে কাদের সাহায্য নিয়ে এই রাজ্যে অনুপ্রবেশ করেছে, তা জানতে চেয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বিএসএফ গোয়েন্দারাও। এর পেছনে জাড়িতদের সন্ধান চলাচ্ছেন তাঁরা। আটক চারজনের মোবাইল ফোন থেকে প্রচুর যুবক ও তরুণের অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। তাদেরকে বেশ কিছু জেহাদি ভিডিও পাঠিয়েছে জঙ্গিরা। ভিডিওগুলোতে রয়েছে লস্কর-ই-তইবার নেতা হাফিজ সঈদ, জইশ-ই-মহম্মদের নেতা মাসুদ আজহার ও আইএস জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের ভাষণ। 

জেহাদি বইয়ের প্রচুর ছবি তুলে পাঠানো হয়েছে তাদের। কেন জঙ্গি হতে হবে ও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, তা স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু জেহাদি নথিতে। নথিগুলোতে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস যুদ্ধ করবে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডের কিছুটা অংশ নিয়ে তৈরি হবে 'হিন্দ'। এক 'খলিফা' তাঁর শাসন চালাবেন ওই বৃহত্তর বাংলাদেশে। সেখানে চলবে জঙ্গিদেরই শাসন।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশ ও এই রাজ্যের কয়েকটি জেলার বহু যুবক ও তরুণকে বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  তাদের পাঠানো হচ্ছে এই মেসেজগুলো। এদের মধ্যে থেকেই জঙ্গি সদস্য নিয়োগের চেষ্টা করছে আইএস ও নব্য জেএমবি।

গোয়েন্দারা জানান, আটক চারজনকে জেরা করে ও তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই জানার চেষ্টা হচ্ছে এই রাজ্যে আইএস বা নব্য  জেএমবি'তে 'আমির' পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়েছে কি-না। যে জঙ্গি নেতার সঙ্গে বৈঠক করতে এই সদস্যরা কলকাতায় আসেন, সেই নেতার পরিচয়ও জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

এর আগেও গোয়েন্দারা দেখেছিলেন, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি)-এর নেতা সালাউদ্দিন বা কওসররা মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানসহ বেশ কিছু জায়গায় যুবকদের মগজধোলাই করেছিলেন। দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ের কাছে একটি জায়গায় কয়েকজন যুবককে নাশকতার প্রশিক্ষণ দিতেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত নব্য জেএমবি নাশকতার প্রশিক্ষণ শুরু করেছে, এমন কোনও প্রমাণ গোয়েন্দারা পাননি। 

তবে একথা গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এ রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ঘাঁটি তৈরি করতে শুরু করেছে জঙ্গিরা। জঙ্গি সদস্য নিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে তহবিল বাড়ানোর জন্যও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতেন তারা। 

জঙ্গিরা জানিয়েছেন, তারা নিজেদের ভেতর থেকেই তহবিল সংগ্রহ করতেন। যদিও এই রাজ্যে তাদের সহকর্মী কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে তারা যে তহবিল সংগ্রহ করতেন, গোয়েন্দারা তা জানতে পেরেছেন। এবং সেই সমস্ত ব্যক্তিদের সন্ধানও শুরু করেছেন। 

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা