মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ
বর্ষায় জুতা ভালো রাখবেন কিভাবে? রইল কিছু সহজ উপায়
অনলাইন ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
বর্ষা এলে আশপাশে সবুজ-সতেজ হয়ে উঠলেও, বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বের হলেই বাধে বিপত্তি। টিপটিপ বৃষ্টি, কাদা আর পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় জুতার। বর্ষার পানি ও কাদায় জুতা যেমন নোংরা হয়, তেমনি চামড়ার জুতা বা স্নিকার্স দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই মৌসুমে জুতার স্থায়িত্ব ধরে রাখতে এবং জু্তাজোড়া নতুনের মতো সতেজ রাখতে রইল কিছু প্রয়োজনীয় টিপস।
চামড়ার জুতার যত্ন
চামড়ার জু্তা খুব সহজেই পানি শুষে নেয়। ফলে বৃষ্টির পানিতে ভিজলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। চামড়ার জুতা ভিজলে দেরি না করে তখনই একটি নরম ও ভেজা কাপড় দিয়ে সেটি ভালোভাবে মুছে নিন। জুতার ভেতরে খবরের কাগজ গুঁজে রাখুন। কাগজ জুতার ভেতরের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেবে এবং জুতার সঠিক আকৃতি বজায় রাখবে। এরপর জুতোটি ঘরের এমন জায়গায় রাখুন যেখানে ভালো বাতাস চলাচল করে। চামড়ার জুতা কড়া রোদে শুকাবেন না। এ ছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা বা হিটারের পাশে রাখাও অনুচিত। জুতা পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর লেদার কন্ডিশনার বা নারিশিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। বর্ষার দিনে জুতা সুরক্ষিত রাখতে ওয়াটারপ্রুফিং স্প্রে-ও ব্যবহার করতে পারেন।
স্নিকার্সের যত্ন
স্নিকার্স জাতীয় জুতা পানিতে ভিজলে তা শুকাতে অনেক বেশি সময় নেয় এবং এটিও দ্রুত পানি শুষে নষ্ট হতে পারে। স্নিকার্স বৃষ্টিতে ভিজলে প্রথমেই জুতার ফিতে এবং ভেতরের ইনসোল খুলে আলাদা করে ফেলুন। জুতার ভেতরে খবরের কাগজ গুঁজে রাখুন। স্নিকার্স রোদে দিয়েও শুকিয়ে নিতে পারেন। ভেজা স্নিকার্সে অনেক সময় গন্ধ হয়ে যায়। জুতার এই দুর্গন্ধ দূর করতে ভেতরে কিছুটা বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিতে পারেন। জুতা পুরোপুরি শুকানোর পরেই কেবল জুতা রাখার ক্যাবিনেটে রাখুন।
রবারের স্লিপার এবং ক্লগস
বর্ষাকালের যাতায়াতের জন্য রবার বা প্লাস্টিকের স্লিপার এবং ক্লগস সবচেয়ে আদর্শ। পানিতে ভিজলেও এগুলোর কোনো ক্ষতি হয় না। তবে এর মানে এই নয় যে এগুলোর যত্নের প্রয়োজন নেই। এই ধরনের জুতা দীর্ঘক্ষণ ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে থাকলে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে, যা থেকে পায়ে সংক্রমণ হতে পারে। বাইরে থেকে ফেরার পর নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে এই জুতা ধুয়ে নিন। বিশেষ করে জুতার তলার খাঁজগুলো ভালো করে স্ক্রাব বা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন, কারণ এখানেই কাদা ও ময়লা সবচেয়ে বেশি জমে থাকে।
সমাজে একটা সময় ছিল, যখন একজন নারীর জীবনের পূর্ণতার মাপকাঠি ছিল বিয়ে ও তার নতুন পরিবার। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। অনেক নারী নিজের শান্তি, স্বাধীনতা ও আত্মসম্মানকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের কেউ সম্পর্কের মধ্যে থেকে সুখ খুঁজে পান, আবার কেউ নিজের মতো করে একা পথ চলার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—একজন মানুষ নিজের জীবনে কতটা শান্তি ও সম্মান অনুভব করছেন।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের বৈবাহিক সম্পর্ক, পারিবারিক চাপ ও নারীর মানসিক শান্তি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনা ওই আলোচনার নতুন করে জন্ম দেয়।
অভিযোগ ওঠেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার পর সুখী দাম্পত্য, নারীদের বৈবাহিক জীবনের বাস্তবতা এবং আধুনিক বা প্রগতিশীল পরিবারেও নারীরা কেন নানা সমস্যার মুখোমুখি হন—এসব প্রশ্ন ভাবাচ্ছে মানুষকে।
সাম্প্রতিক আলাচিত কিছু ঘটনার তথ্য বলছে, জেন জি প্রজন্মের অনেকেই বিয়ে দেরিতে করছেন বা প্রচলিত বিয়ের ধারণা থেকে সরে আসছেন। এর পেছনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব এবং আগের প্রজন্মের বৈবাহিক অভিজ্ঞতা থেকে শেখার ইচ্ছা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেখা ১৯৯০ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একা জীবনযাপন করছেন।
এই পরিবর্তিত ভাবনার মধ্যেই অনেক নারী নিজের মতো করে জীবন বেছে নেওয়ার গল্প শেয়ার করছেন। অনেক বছর আগে থেকেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেখা ১৯৯০ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একা জীবনযাপন করছেন। তিনি দেখিয়েছেন, একা থাকা মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়; বরং নিজের মতো করে শান্তি ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেঁচে থাকাও সম্ভব।
এমন আরেকজন নারী, যিনি লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তার একা থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ৭৪ বছর বয়সী পামেলা অ্যালিন বলেন, আমি একা এবং নিঃসন্তান। গত তিন দশক ধরে আমি একাই জীবন কাটাচ্ছি। জানেন আমি কী শিখেছি? যে দাম্পত্য সম্পর্কে আমি সুখী ছিলাম না, সেখানে আমি একা থাকার চেয়েও বেশি একাকীত্ব অনুভব করেছি।
নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার পামেলা মনে করেন, একজন নারী চাইলে নিজের শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনার মাধ্যমে একা থেকেও সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে পারেন। যারা পরিবারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ছাড়াই কিংবা কারো ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মতো করে জীবন পরিচালনা করতে চান, তাদের জন্য তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
আর্থিকভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
পামেলার প্রথম পরামর্শ হলো—নিজের আর্থিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া। তার মতে, একজন নারী যদি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে চান, তাহলে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুবই জরুরি।
তিনি বলেন, প্রথমত, নিজেকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করুন। আপনার প্রতিটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা জানুন। আপনার নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, কোনো ঋণ বা আর্থিক দায় আছে কি না—এসব বিষয়ে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, আর্থিক স্বাধীনতা শুধু অর্থের বিষয় নয়; এটি একজন মানুষকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাসও দেয়।
পাশাপাশি জীবনের পরিবর্তনের সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার কথাও বলেন তিনি। পামেলা মনে করেন, কঠিন সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা একজন মানুষকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি বলেন, নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে ফেলবেন না। কঠিন সময় এলে পরিবার ও বন্ধুরাই আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটাও সত্যি, কিছু সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং সেখান থেকে নিজেকেই উঠে দাড়াতে হয়।
নিজের জীবনের সীমারেখা ঠিক করুন
পামেলার দ্বিতীয় পরামর্শ হলো—নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিষ্কার থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমারেখা তৈরি করা।
তিনি বলেন, একজন নারী যখন নিজের মতো করে জীবন শুরু করেন, তখন সমাজ বা আশপাশের মানুষ অনেক সময় সেটিকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না। অনেকেই প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী তাকে প্রশ্ন করতে পারেন বা আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার চাপ দিতে পারেন।
এ বিষয়ে পামেলার পরামর্শ, নিজের সিদ্ধান্তের জন্য বারবার অন্যের কাছে জবাবদিহি করার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হোন। যেসব বিষয় আপনার ব্যক্তিগত জীবন ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো নিয়ে অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
তার মতে, নিজের শান্তি ও ভালো থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া স্বার্থপরতা নয়; বরং এটি নিজের প্রতি সম্মান দেখানোর একটি অংশ।
একা থাকা আর একাকীত্ব এক নয়
পামেলার তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—একা থাকা এবং একাকী অনুভব করা এক বিষয় নয়।
তার মতে, অনেক মানুষ সম্পর্কের মধ্যে থেকেও গভীর একাকীত্ব অনুভব করেন। আবার কেউ একা থেকেও নিজের জীবনকে ভালোবাসা, আনন্দ ও অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতায় ভরিয়ে তুলতে পারেন।
তিনি বলেন, আপনি এমন একটি নতুন জীবন গড়ে তুলবেন, যেখানে শান্তি থাকবে। একা থাকা আর একাকীত্ব এক নয়। তাই নিজের জন্য নতুন অভ্যাস তৈরি করুন, নিজের পছন্দের কাজ করুন এবং জীবনের আনন্দগুলো খুঁজে নিন।
ভিডিওর শেষে পামেলা আত্মসম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরে নারীদের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী বার্তা দেন।
তিনি বলেন, মনে রাখবেন, আত্মসম্মান নিয়ে শান্ত একটি জীবন এমন একটি সম্পর্কের চেয়ে অনেক ভালো, যেখানে আপনি নিজেকে অদৃশ্য বা গুরুত্বহীন মনে করেন। তাই আপনি যদি নিজের জন্য নতুন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান, তাহলে আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
পামেলার কথার মূল বার্তা হলো—জীবনের মূল্য শুধু কোনো সম্পর্কের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না; বরং একজন মানুষ নিজের প্রতি কতটা সম্মান, শান্তি ও ভালোবাসা রাখতে পারছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে, জানি নে, জানি নে কিছুতেই কেন যে মন লাগে না...’— বর্ষার দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অমর পঙক্তি যেন আজও প্রতিটি বাঙালির মনের ভাষা।
আকাশে কালো মেঘ জমলেই, জানালার কাচ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়লেই কিংবা দূরে কোথাও মৃদু সুরে বাজতে থাকলে কোনো পুরোনো গান—অকারণেই মনটা যেন অন্য রকম হয়ে ওঠে। মনে পড়ে যায় পুরনো কোনো বিকেল, হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষ, কিংবা না বলা কিছু অনুভূতি।
আষাঢ়-শ্রাবণের দুপুরে হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। ধুলো উড়িয়ে প্রথম বৃষ্টির ঠাণ্ডা হাওয়া জানালায় এসে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই ব্যস্ত শহরটাও যেন বদলে যায় অন্য এক আবেশে। ইট-পাথরের কঠিন বাস্তবতার ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে দেয় বৃষ্টির ফোঁটা।
এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ঝুমবৃষ্টি দেখা আর চারপাশের নিস্তব্ধতা—সব মিলিয়ে মনজুড়ে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত ভালো লাগা, কখনো বা প্রেম, কখনো বিষণ্নতা।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বৃষ্টি নামলেই কেন মন এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে? কেন মেঘলা আকাশ মানুষকে নস্টালজিক করে তোলে? শুধু কবিতা-গান নয়, এর পেছনে রয়েছে মনস্তত্ত্ব ও জীববিজ্ঞানেরও ব্যাখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের আবেগের এই সম্পর্কের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
১. হরমোনের পরিবর্তন ও ভালো লাগার খোঁজ
মেঘলা দিনে সূর্যের আলো কমে যাওয়ায় শরীরে ‘সেরোটোনিন’—যা আমাদের মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে—তার মাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। একই সময়ে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের কার্যকারিতা বাড়ায় শরীর কিছুটা অলস ও শান্ত অনুভব করতে পারে। এই সময় অবচেতন মন এমন কিছু খোঁজে, যা আনন্দের অনুভূতি এনে দেয়। প্রিয় মানুষের কথা মনে পড়া, ভালোবাসার স্মৃতি কিংবা রোমান্টিক অনুভূতি তখন মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ বাড়িয়ে মনকে স্বস্তি দিতে পারে।
২. বৃষ্টির শব্দের সম্মোহনী প্রভাব
টিনের চালে কিংবা জানালার কার্নিশে একটানা বৃষ্টির শব্দকে গবেষকরা অনেক সময় ‘পিঙ্ক নয়েজ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এই ধরনের শব্দ মস্তিষ্ককে শান্ত করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগকে স্থির করতে সহায়তা করতে পারে। চারপাশ যখন শান্ত হয়ে আসে, তখন মনের ভেতরে চাপা পড়ে থাকা অনুভূতিগুলোও সহজে জেগে ওঠে।
৩. ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও উষ্ণতার আকাঙ্ক্ষা
বৃষ্টির দিনে তাপমাত্রা কমে যায়, চারপাশে তৈরি হয় শীতল পরিবেশ। এমন সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই উষ্ণতা খোঁজে—কখনো এক কাপ গরম চায়ে, কখনো পরিবারের সান্নিধ্যে, আবার কখনো প্রিয় মানুষের পাশে। এই স্বাভাবিক মানবিক চাহিদাই অনেক সময় রোমান্টিক অনুভূতিকে আরো গভীর করে তোলে।
৪. স্মৃতি, সংস্কৃতি ও নস্টালজিয়ার টান
বাঙালির সাহিত্য, গান, সিনেমা—সবখানেই বৃষ্টি যেন ভালোবাসার আরেক নাম। ছোটবেলা থেকেই আমরা বৃষ্টিকে প্রেম, অপেক্ষা, বিরহ কিংবা ফিরে পাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখে বড় হয়েছি। তাই বৃষ্টি নামলেই মস্তিষ্ক সেই পুরনো স্মৃতিগুলোকে আবারও জাগিয়ে তোলে। প্রথম প্রেম, স্কুলজীবনের কোনো বিকেল, কিংবা জীবনের কোনো বিশেষ মুহূর্ত—সব যেন নতুন করে ফিরে আসে।
বৃষ্টি মানেই অনুভূতির আরেক নাম
বর্ষা আর বাঙালির আবেগ যেন একই সুতোয় বাঁধা। তাই যুগে যুগে কবি, সাহিত্যিক ও গীতিকাররা বৃষ্টিকে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য হিসেবে দেখেননি; দেখেছেন ভালোবাসা, অপেক্ষা, বিরহ, স্বপ্ন আর জীবনের গভীর অনুভূতির প্রতীক হিসেবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে...’ শুধু একটি গান বা কবিতা নয়, বরং বৃষ্টিভেজা দিনের মনস্তত্ত্বের এক চিরন্তন ভাষ্য। সেই আবহ আজও মানুষের হৃদয়ে একই অনুভূতি জাগায়। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে হঠাৎই মনে পড়ে যায় কোনো প্রিয় মুখ, কোনো অসমাপ্ত গল্প কিংবা হারিয়ে যাওয়া সময়ের কথা। তখন যেন সত্যিই মনে হয়—‘কিছুতেই কেন যে মন লাগে না।’
আরো পড়ুন
আরো পড়ুন
প্রাক্তনকে কেন সহজে ভুলতে পারে না মানুষ?
শৈল্পিক কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় মুখোমুখি সুইসরা
হয়তো এ কারণেই বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু ঋতুর নয়, অনুভূতিরও। কারো কাছে এটি প্রথম প্রেমের স্মৃতি, কারো কাছে অপূর্ণ ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাস, আবার কারো কাছে নতুন করে বাঁচার সাহস।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যস্ত জীবনের গতি থামিয়ে বৃষ্টি মানুষকে কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ করে দেয়। আর সেই নীরব মুহূর্তেই আমরা নিজের ভেতরের আবেগ, ভালোবাসা, স্মৃতি আর স্বপ্নকে নতুন করে অনুভব করি।
তাই বৃষ্টি শুধু আকাশ থেকে ঝরে পড়া জল নয়; বৃষ্টি মানুষের মনেরও একটি ঋতু। এই ঋতুতে যেন একসঙ্গে মিলেমিশে থাকে রবীন্দ্রনাথের প্রেম, হুমায়ূন আহমেদের অপেক্ষা, জীবনানন্দ দাশের নিঃসঙ্গ বিষণ্নতা, বিভূতিভূষণের প্রকৃতিপ্রেম আর আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত কিছু না-বলা স্মৃতি।
ঝুমবৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন পুরনো দিনের কোনো গল্প, কোনো হারিয়ে যাওয়া মুখ কিংবা অপূর্ণ থেকে যাওয়া ভালোবাসার কথা আবার মনে করিয়ে দেয়।
হয়তো সে কারণেই শত ব্যস্ততার মাঝেও জানালার কাচে প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই মন নিঃশব্দে থেমে যায়। তখন আর বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির ঘটনা হয়ে থাকে না; তা হয়ে ওঠে অনুভূতির ভাষা, স্মৃতির আশ্রয়, ভালোবাসার নীরব স্বীকারোক্তি।
বর্ষা যেন প্রতি বছর ফিরে এসে মনে করিয়ে দেয়—মানুষ যতই যন্ত্রের মতো ছুটে চলুক না কেন, তার হৃদয়ের গভীরে এখনো এক টুকরো মেঘ জমে, আর সেই মেঘ ভাঙলেই নেমে আসে অনুভূতির বৃষ্টি।
বর্ষায় স্বস্তিতে চলাফেরার জন্য ব্যাগে রাখুন এসব প্রয়োজনীয় জিনিস
অনলাইন ডেস্ক
ছবি : এআই জেনারেটেড
বর্ষা মানেই একদিকে বৃষ্টির আনন্দ, অন্যদিকে হঠাৎ ভিজে যাওয়া, কাদামাটি, যানজট ও নানা ধরনের বিড়ম্বনা। সকালে রোদ থাকলেও বিকেলে যে বৃষ্টি নামবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই এই মৌসুমে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ব্যাগে কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখলে অনেক সমস্যাই সহজে মোকাবিলা করা যায়।
ছাতা বা রেইনকোট রাখুন সঙ্গে
বর্ষার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো একটি ছোট ভাঁজ করা ছাতা। এটি সহজেই ব্যাগে রাখা যায় এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। যারা মোটরসাইকেল, স্কুটি বা সাইকেলে চলাচল করেন, তাদের জন্য হালকা রেইনকোটও খুবই প্রয়োজনীয়।
ওয়াটারপ্রুফ পাউচে রাখুন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস
বৃষ্টির পানিতে মোবাইল ফোন, টাকা, এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, অফিসের কাগজপত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই একটি ওয়াটারপ্রুফ পাউচ বা জিপলক ব্যাগে এসব জিনিস আলাদা করে রাখলে নিরাপদ থাকবে।
ফোন সচল রাখতে পাওয়ার ব্যাংক
বর্ষাকালে যানজট বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই ব্যাগে একটি পাওয়ার ব্যাংক রাখা ভালো।
টিস্যু ও ছোট তোয়ালে রাখুন
বৃষ্টির পানি, কাদা বা ঘাম মুছে ফেলতে টিস্যু খুবই প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি একটি ছোট তোয়ালে বা মাইক্রোফাইবার রুমাল থাকলে মাথা কিংবা হাত দ্রুত শুকিয়ে নেওয়া যায়, যা ঠান্ডা লাগার ঝুঁকিও কিছুটা কমায়।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন
বর্ষায় আর্দ্রতার কারণে জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাইরে হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে ছোট একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।
ফোনের জন্য ওয়াটারপ্রুফ কভার
বর্তমানে মোবাইল ফোন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামান্য বৃষ্টির পানিতেও ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই একটি ওয়াটারপ্রুফ ফোন কভার বা পাউচ ব্যবহার করলে ফোন নিরাপদ থাকবে।
ছোট পারফিউম বা বডি স্প্রে
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঘাম ও ভেজা কাপড়ের কারণে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ব্যাগে ছোট একটি পারফিউম বা বডি স্প্রে থাকলে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরও সতেজ অনুভব করা যায়।
বাড়তি পলিব্যাগ রাখুন
ভেজা ছাতা, রেইনকোট বা ভেজা কাপড় ব্যাগের অন্য জিনিসের সঙ্গে রাখলে সবকিছু ভিজে যেতে পারে। তাই কয়েকটি ছোট পলিব্যাগ সঙ্গে রাখলে ভেজা জিনিস আলাদা করে রাখা সহজ হয়।
বর্ষায় প্রস্তুত থাকুন
বর্ষার প্রস্তুতি শুধু বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য নয়, বরং সারাদিন আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত থাকার জন্যও জরুরি। ব্যাগে কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখলে হঠাৎ বৃষ্টি, কাদা কিংবা ভেজা আবহাওয়াতেও নিশ্চিন্তে চলাফেরা করা সম্ভব।