• ই-পেপার

দোকানে ৭ দিনের মধ্যে চালু হচ্ছে বাংলা কিউআর, আবেদন যেভাবে

বরিশালে থানায় হামলা

সদস্যদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

অনলাইন ডেস্ক
সদস্যদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

সংগঠনটির সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার রাতে এই নিন্দা জানানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রী গ্রামের বাসিন্দা

পুলিশ জানায়, আসামি রিয়াজ ফকির মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক মামলাও রয়েছে। থানার হাজতে থাকাকালীন মাদকের প্রভাবে তিনি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে একদল উত্তেজিত জনতা প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করে। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং এই হামলার পেছনে কোনো পরিকল্পিত উসকানি ছিল কিনা তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অ্যাসোসিয়েশন দেশের সব নাগরিককে যাচাই-বাছাই ছাড়া যেকোনো তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া বা গুজবের ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা বা উসকানি পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা মাত্র। তবে পুলিশ বাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

বাসস
পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত
ছবি : আইএসপিআর

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় আইএসপিআর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

দেশের ১৯ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। 

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নতুন ২ নদীবন্দর ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

অনলাইন ডেস্ক
নতুন ২ নদীবন্দর ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

দেশের উত্তরাঞ্চলের নৌযোগাযোগ উন্নয়ন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং নদীবন্দরভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা নদীর তীরে দুটি নতুন নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার। বুধবার (৮ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে দুই নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করেছে।

নতুন দুটি নদীবন্দর হলো—বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি নদীবন্দর এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ধুনট নদীবন্দর। আনুষ্ঠানিকভাবে এ দুই নদীবন্দরকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পোর্ট অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর ধারা ৪-এর উপধারা (১)-এর দফা (ক) এবং উপধারা (২)-এর ক্ষমতাবলে দুটি নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনের প্রয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের সীমানা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের উত্তর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা ঘাটের উত্তরে হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া ঘাট থেকে যমুনার পূর্ব তীরে কাজলা ইউনিয়নের জামথল ঘাট পর্যন্ত। দক্ষিণ সীমানা বিস্তৃত হয়েছে কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট থেকে যমুনার পূর্ব তীরে নারপালা মৌজার মূলবাড়ি পর্যন্ত।

ধুনট নদীবন্দরের সীমানা

ধুনট নদীবন্দরের উত্তর সীমানা শুরু হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে। দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাতরবাড়ি ইউনিয়নের চৌবার মৌজার বেশাঘীর চর পর্যন্ত।

দুই বন্দরের ক্ষেত্রেই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকালের সময় সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে ভূ-ভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যেসব ঘাট অন্তর্ভুক্ত

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় দিঘাপাড়া, কালিতলা, মধুরাপাড়া, জামথল ও সোনাদগা ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও ঘাটসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই ভাবে ধুনট নদীবন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা, শাহরাবাড়ি ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও ঘাটগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া নৌপথ উন্নয়ন, জেটি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে বন্দর সীমানার মধ্যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থাকলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।