• ই-পেপার

‘আশিকি ২’-এর পর নতুন মিউজিক্যাল ছবিতে আদিত্য

বডি ডাবল ছাড়াই ২০ ঘণ্টা পানির নিচে শুটিং করলেন রাশমিকা

অনলাইন ডেস্ক
বডি ডাবল ছাড়াই ২০ ঘণ্টা পানির নিচে শুটিং করলেন রাশমিকা
সংগৃহীত ছবি

কোনো অ্যাকশন ডাবল বা স্টান্টম্যানের সাহায্য ছাড়াই নিজের পরবর্তী সিনেমা ‘মাইসা’-র জন্য পানির নিচে অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং শেষ করেছেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। নির্মাতাদের দাবি, এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কোনো অভিনেত্রীর করা প্রথম পানির নিচের মারামারির দৃশ্য। এই দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে রাশমিকা দুই দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানির নিচে কাটিয়েছেন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটির শুটিংয়ের নেপথ্যের (বিটিএস) কিছু ঝলক শেয়ার করেছেন নির্মাতারা। এই আপডেটটি শেয়ার করে তারা লিখেছেন, ‘রাশমিকার নেতৃত্বে পানির নিচে লড়াইয়ের দৃশ্য। অতল গভীরে অপেক্ষা করছে এমন এক যুদ্ধ, যা ভারতীয় সিনেমা আগে কখনো দেখেনি।’

রাশমিকা নিজেও তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে এটিকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘আমি জানি, আমি বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ ছিলাম; কিন্তু আমরা এটাই করছিলাম। নিঃসন্দেহে এটি আমার জীবনে করা সবচেয়ে কঠিন কাজ! আমরা এর জন্য পাগল হয়ে আছি, আর এটাই আমাকে ভীষণ উত্তেজিত করে তুলেছে।’

‘মাইসা’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন রবীন্দ্র পুল্লে এবং এটি প্রযোজনা করেছে আনফর্মুলা ফিল্মস। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটিকে একটি অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটিই রাশমিকার ক্যারিয়ারের প্রথম নারী-প্রধান সর্বভারতীয় (প্যান-ইন্ডিয়া) অ্যাকশন চলচ্চিত্র। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি ২০২৬ সালেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি।

আমির খানের বিয়ের আংটি, মিলিয়নে একটা

অনলাইন ডেস্ক
আমির খানের বিয়ের আংটি, মিলিয়নে একটা
সংগৃহীত ছবি

মুম্বাইয়ের বান্দ্রার নিজের বাসায় আয়োজনটা ঘরোয়াই ছিল। কিন্তু বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বলিউড সুপারস্টার আমির খানের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। ৫ জুলাইয়ের এ পারিবারিক আয়োজনে আমির খানের আগের দুই সংসারের তিন সন্তান, গৌরী স্প্র্যাটের আগের সংসারের সন্তান উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আশুতোষ গোয়ারিকর, রাজকুমার হিরানীর মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও। তবে সব কৌতূহল কেন্দ্রীভূত হয়েছে গৌরীর জন্য বিশেষভাবে বানানো বিয়ের আংটিটিতে। বিশেষ মানে বিশেষই। এমন আংটি পৃথিবীতে একটাই আছে। মি. পারফেকশনিস্ট বলে কথা। বিরল রত্ন আর জটিল কারুকার্যের জন্য আংটিটি সবার নজর কেড়েছে।

লাক্সারি জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘কুইন’র ডিজাইন করা এই আংটিটির কেন্দ্রে আফ্রিকার মাদাগাস্কার থেকে আনা একটি অতি-বিরল প্রাকৃতিক রুবি রয়েছে। ‘কুইন’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অমিত কুমার সাংবাদিকদের আংটিটির নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিরল এই রুবি পাথরটি সংগ্রহ করতেই তাদের জুয়েলারি দলের তিন মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। তিনি জানান, মাদাগাস্কারের এই রুবি মিলিয়ন মানে ১০ লাখে একটা পাওয়া যায়। বিরল কিছু বোঝাতে আগে বলা হতো লাখে একটা, এখন থেকে বলতে হবে মিলিয়নে একটা।

অমিত কুমার জানান, বিরল রুবিটি সংগ্রহ করার পর তারা বিশেষ ডিজাইনে আংটিটি তৈরি করেন। এই যুগেও আংটিটি নির্মাণে কোনো যন্ত্রের ছোঁয়া লাগেনি। ১৩১ জন দক্ষ কারিগরের সুনিপুণ ছোঁয়ায় আংটিটি রাজকীয় রূপ পেয়েছে। অমিত কুমার জানান, ‘রুবিটি ধরে রাখতে একটি বিশেষ সেটিংয়ে তৈরি আংটিটির ডিজাইন তৈরি থেকে শুরু করে পাথর বসানো এবং ফিনিশিং পর্যন্ত ১৩১ জন কর্মীর ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। অমিত আরো জানান, ডিজাইন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই উদ্দেশ্য ছিল একটি সাধারণ ওয়েডিং ব্যান্ডের পরিবর্তে একটি ঐতিহ্যবাহী বা বংশানুক্রমিক মূল্যবান সম্পদ তৈরি করা।

ঐতিহ্যবাহী রত্নখচিত আংটিগুলোর মতো এটি কোনো সাধারণ ব্যান্ডের ওপর সরাসরি বসানো নয়; বরং রুবিটিকে একটি মুকুটের মতো সোনার কাঠামোর ভেতরে বসানো হয়েছে। রুবিটিকে ক্যাবশন কাট দেওয়া হয়েছে, যা কোনো খাজকাটা ফিনিশের বদলে একটি মসৃণ ও গম্বুজাকৃতির পলিশ দিয়েছে। এটি এর গাঢ় রঙকে আরো ফুটিয়ে তোলে এবং একটি উজ্জ্বল আভা প্রদান করে। খুঁটিনাটি বিবরণ দিয়ে কুমার জানান যে, চুনিটিকে একটি খাঁজকাটা সোনার গ্যালারি ধরে রেখেছে, যা মুকুটের মতো সূক্ষ্ম চূড়ায় রূপ নেওয়ার পর নিখুঁত কারুকাজে মিশে গেছে। যার চারপাশে খচিত রয়েছে ৪০টি আসল প্রাকৃতিক হীরা।

এই নির্মাণ শৈলীটি ঐতিহাসিকভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং রাজ্যাভিষেকের অলঙ্কারের সাথে জড়িত। মাদাগাস্কারের বিরল রুবি, হিরের সূক্ষ্ম কাজ এবং বিস্তৃত কারুকার্যের এই বিশেষ আংটিটিকে একটি উচ্চমানের পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা রাজকীয় আভিজাত্য ও বিরল শিল্পশৈলী ফুটিয়ে তোলে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যকে ধরে রাখবে।

আংটিটির দাম সম্পর্কে অমিত কুমার কিছু বলেননি। ধারণা করা হচ্ছে, রুবি সংগ্রহ থেকে ফিনিশিং পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যায় যা তৈরি হয়েছে, তা আসলে অমূল্য। এটি একটি রাজকীয় পারিবারিক ঐতিহ্য, এর বাজারমূল্য যাচাই সম্ভব নয়।
 

বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়?

অনলাইন ডেস্ক
বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পরাজয়ে রাজনৈতিক উথালপাতাল চলছে। হারের পর টিএমসিতে বিদ্রোহ, পদত্যাগ এবং দলত্যাগের খবর প্রায় শিরোনাম হচ্ছে। এরই মাঝে টলিউডে জোর গুঞ্জন, শাসকদল বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন ‘পদ্মশ্রী’ পদক পাওয়া টলিউডের বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। 

দু’দিন আগেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসে প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়েছিলেন। যদিও সেদিন বেশিক্ষণ থাকেননি অমিত শাহ। 

তবে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে ‘নবান্নে’ হাজির হয়েছেন এই অভিনেতা। তার এই উপস্থিতি নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি গেরুয়া শিবিরের যোগ দিচ্ছেন প্রসেনজিৎ? এমন গুঞ্জন জোরালো হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন সমস্যায় গুরুদায়িত্ব পালন করলেও সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে কখনো দেখা যায়নি তাকে। হঠাৎ তার বিজেপির শীর্ষ মহলের সঙ্গে বৈঠকে সব হিসাব পাল্টে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টিএমসির লোকসভার সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগ করায় যে আসনগুলো খালি হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই তার ভোট। সেখানেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পাঠাতে পারে ক্ষমতাসীনরা। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে ‘পদ্মশ্রী’ পদক পাওয়ার পর থেকে এই টালি তারকার সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের যোগাযোগ বেড়েছে। সেই আবহেই তার রাজনীতিতে আগমন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠেছে।

এর আগে, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন ৯ মে। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। 

কিংবদন্তি গায়িকা বনি টাইলার আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
কিংবদন্তি গায়িকা বনি টাইলার আর নেই
সংগৃহীত ছবি

‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’খ্যাত কিংবদন্তি ব্রিটিশ গায়িকা বনি টাইলার না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। ৭৫ বছর বয়য় এই গায়িকা মঙ্গলবার পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের বরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পর্তুগালের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বর্ষীয়ান এই সংগীতশিল্পী। মূলত অন্ত্রের জরুরি অস্ত্রোপচারের পর থেকে কোমায় ছিলেন এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৮০-এর দশকের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় গান ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’-এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত বনি টাইলার। তার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর এবং ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ ও ‘ইটস আ হার্টেক’-এর মতো বিখ্যাত সব গানের জন্য বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সংগীতজগতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে ২০২২ সালে এমবিই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল। 

জানা গেছে, বনি টাইলারের মৃত্যুর মূল কারণ ছিল অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়া এবং অন্ত্রের গুরুতর জটিলতা; যার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে।

পর্তুগালের আলগার্ভেতে নিজের বাড়িতে থাকাকালীন তিনি তীব্র পেটে ব্যথা অনুভব করেন। ফলে গত মে মাসের শুরুতে তাকে পর্তুগালের ফারো শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা করে দেখা যায় তার অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেছে এবং অন্ত্র ছিদ্র হয়ে গেছে।

চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে তার অন্ত্রে জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করে। তারপরই তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এরপর তার শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় এবং তার শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করতে চিকিৎসকরা তাকে কৃত্রিম উপায়ে কোমায় পাঠান।

গত জুন মাসের মাঝামাঝিতে তিনি কোমা থেকে ফিরে এলেও অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ ছিলেন এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, এই অসুস্থতার জটিলতার কারণেই হাসপাতালের বিছানায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৫১ সালের ৮ জুন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে গেইনর হপকিন্স নামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। একটি শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা টাইলারের জীবনে ছোটবেলা থেকেই সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে স্থানীয় ক্লাবগুলোতে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে একটি স্থানীয় প্রতিভা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়ার পর পেশাদার সংগীতশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বনি টাইলার নাম গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ গানটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাকে প্রথম বড় সাফল্য এনে দেয়। এরপর ‘ইটস আ হার্টেক’ গানটির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি লাভ করেন।

বনি টাইলারের কর্কশ ও গভীর কণ্ঠ ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য। ১৯৭৭ সালে স্বরযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়ায় তার কণ্ঠে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে সেই স্বতন্ত্র কণ্ঠই তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে এবং বিশ্বসংগীতে তাকে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।