আধুনিক বিনিয়োগ দুনিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘সিটাডেল’এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিনকে। কিছুদিন আগেও এআইয়ের ওপর ভরসা ছিল না তার। ওয়ালস্ট্রিটে এআই নিয়ে মাতামাতিকে তিনি স্রেফ গার্বেজ মনে করতেন।
চলতি বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্যানেলে তিনি বলেছিলেন, ‘এআই-কে ওপর থেকে দেখতে হয়তো দারুণ লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যখনই এর গভীরে যাবেন, দেখবেন সবই আবর্জনা।’
তবে নিজের কম্পানিতে এআইয়ের তুমুল গতি আর উৎপাদনশীলতার এক অবিশ্বাস্য নজির দেখে বদলে গেছে তার সেই ধারণা।
সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে এক আলাপচারিতার সময় তিনি বলেন, ‘আপনি যখন নিজের চার দেয়ালের মধ্যে এটি ঘটতে দেখবেন, যখন আপনি দেখবেন যে কাজগুলো করতে আগে বছরের পর বছর মানুষের শ্রম লাগত, সেগুলো এখন মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহে হয়ে যাচ্ছে, তখন মনে হবে—ওয়াও! এই প্রথম আমি আমাদের চার দেয়ালের ভেতরে বাস্তব ও বড় কোনো প্রভাব দেখলাম।’
হেজ ফান্ড ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সিটাডেল’এর প্রধান নির্বাহীর ধারণা বদলে দেওয়া এআই সিস্টেমটি তার অফিসেরই এক কর্মীর বানানো। এই এজেন্টিক এআই সিস্টেম দেখে মুগ্ধ কেন গ্রিফিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের দলের এক সদস্য ফাইন্যান্সের একাডেমিক পেপারগুলো নতুন করে তৈরি করার জন্য একটি এজেনটিক এআই সিস্টেম তৈরি করেছেন। এজেনটিক এআই সিস্টেম মানুষের খুব সামান্য হস্তক্ষেপ বা কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, তরুণ মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের এই একাডেমিক পেপারগুলো নতুন করে তৈরি করতে ছয় থেকে ৮ সপ্তাহ লাগে। আমাদের সহকর্মীর বানানো এআই সিস্টেমের সেই কাজগুলো করতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে।’
এই তুমুল গতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে গ্রিফিন বলেন, ‘এটি কেবল সাধারণ কোনো হোয়াইট কলার চাকরি নয়। এটি মাস্টার্স বা পিএইচডি-পর্যায়ের একটি কাজ।’
তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই বা তিন বছর আগেও আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই মনে করতেন যে এই ধরনের কাজ এআই-এর ক্ষমতার বাইরে।’
গ্রিফিন স্বীকার করেছেন যে, এআই-এর এই ধরনের অগ্রগতি ব্যবসা ও সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে বাধ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই যুগান্তকারী সাফল্যের কারণে সিটাডেল-এ কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এটি কম্পানিকে আরো বড় হতে এবং আরো বেশি সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করবে।
গ্রিফিন বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত মেধাবী কর্মীরা রয়েছেন। আমাদের সামনে এক বিশাল কর্মক্ষেত্র ও সমস্যা রয়েছে, যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি। আমি কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতার এই অভাবনীয় সুযোগটিকে শতভাগ কাজে লাগাবো। কারণ আমাদের যে মেধাবী কর্মীরা রয়েছেন, তাদের নিয়ে আমরা এখন আরো বড় ও নতুন সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।’
কেন গ্রিফিন হয়তো আপাতত তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছাটাই করবেন না। তবে খুব শিগগিরই এআই আমাদের অনেক মানুষের চাকরির বাজার ছোট করে ফেলবে, সে আশঙ্কা মিথ্যা নয়।
অ্যামাজনের মেশিন লার্নিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব রাস্তোগি এ বছরের শুরুতে বিভিন্ন কম্পানির অনেক কাজই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন, ‘আজ আমরা প্রতিটি কম্পানিতে ম্যানুয়ালি বা হাতে-কলমে অনেক কিছু করি। এর সবই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। ফলে একই কাজ অনেক কম খরচে এবং অনেক কম পরিশ্রমে করা সম্ভব হবে।’
কম খরচে, কম পরিশ্রমে হয়তো কাজ হবে। কিন্তু তাতে মানুষ কাজ হারাবে অনেক বেশি।






