• ই-পেপার

পরিচিত রূপে আনিকা কবির শখ

চঞ্চল-মেহজাবীন থেকে ঋতুপর্ণা-যীশু, এক মঞ্চে দুই বাংলার তারকারা

বিনোদন প্রতিবেদক
চঞ্চল-মেহজাবীন থেকে ঋতুপর্ণা-যীশু, এক মঞ্চে দুই বাংলার তারকারা
সংগৃহীত ছবি

বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে শুরু হয়েছে উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ বাঙালি আয়োজন নর্থ আমেরিকা বেঙ্গলি কনফারেনসের  (এনএবিসি) ৪৬তম আসর। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তারকা শিল্পী, নির্মাতা, লেখক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে দুই বাংলার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।

এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, সাবিলা নূর, চিত্রনায়ক ইমন, লেখক সাদাত হোসেনসহ আরও অনেকে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উপস্থিত হয়েছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস, দর্শনা বণিক, পায়েল সরকারসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু পরিচিত মুখ।

May be an image of one or more people, people smiling and crowd

প্রতিবছরের মতো এবারও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো আয়োজন। প্রবাসী বাঙালিদের কাছে এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং মাতৃভাষা ও শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযুক্ত হওয়ার এক আবেগঘন উপলক্ষ।

এবারের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। বাংলাদেশ থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘সাবা’ ও ‘দম’। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’, ‘ডিপ ফ্রিজ’ এবং ‘দেবী চৌধুরানী’।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাহিত্যিক, শিল্পী, নির্মাতা ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে নানা আলোচনা, মতবিনিময় এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনও সম্মেলনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া চিত্রনায়ক ইমন বলেন, ‘নর্থ আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রচুর মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে এখানে এসেছেন। এটি বাংলা ভাষাভাষীদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলাগুলোর একটি। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ, সবাই একসঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করছেন।’
 

তিন সন্তানের উপস্থিতিতে আমির খানের বিয়ে সম্পন্ন

বিনোদন ডেস্ক
তিন সন্তানের উপস্থিতিতে আমির খানের বিয়ে সম্পন্ন
সংগৃহীত ছবি

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেছেন এই অভিনেতা। রবিবার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতেই ছোট পরিসরে আয়োজন করেন আমির ও গৌরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমিরের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ। পাশাপাশি দুই পরিবারের সদস্য এবং কাছের বন্ধুরাও এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হন।

আমির খানের মুখপাত্র বিয়ের খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ‘লাগান’-খ্যাত নির্মাতা আশুতোষ গোয়ারিকার এবং অভিনেত্রী এলি আব্রাম।

এর আগে আমির জানিয়েছিলেন, বড় কোনো আয়োজন নয়, বরং নিবন্ধনের মাধ্যমে বিয়ে করে পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘদিনের বন্ধুদের নিয়ে ছোট্ট উদ্‌যাপন করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছেন তিনি।

২৫ বছরের পরিচয়, প্রেমের শুরু পরে

আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাটের পরিচয় আজকের নয়। প্রায় ২৫ বছর আগে প্রথম দেখা হলেও তখন তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বহু বছর পর ২০২৪ সালে আমিরের কাজিন নুজহাত খানের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে আবার যোগাযোগ হয় দুজনের। সেই পুনর্মিলন ধীরে ধীরে ভালোবাসার সম্পর্কে রূপ নেয়।

শুরুর দিকে তারা দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কে ছিলেন। গৌরী তখন বেঙ্গালুরুতে থাকতেন, আর আমির ছিলেন মুম্বাইয়ে। প্রায় এক বছর পর গৌরী ছেলেকে নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে আসেন। এর পর থেকেই তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

২০২৫ সালের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। তখন তিনি বলেছিলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে অনেক শান্ত ও পরিপূর্ণ অনুভব করছেন। 

যদিও সে সময় বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এই বয়সে আবার বিয়ে করার পরিকল্পনা নেই। তবে গৌরীর সঙ্গে নিজেকে নিরাপদ ও স্বস্তি অনুভব করেন বলেও জানিয়েছিলেন।

সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। গত মাসেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানান। অবশেষে রবিবার তাদের সেই প্রতীক্ষিত বিয়ে সম্পন্ন হলো।

তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে আমির

এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—জুনায়েদ ও ইরা। ২০০২ সালে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের লালন-পালনে এখনো একসঙ্গে কাজ করেন তারা।

এরপর ২০০৫ সালে নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয় তাদের ছেলে আজাদ। ২০২১ সালে বিচ্ছেদ হলেও পেশাগত ও পারিবারিক সম্পর্ক এখনো সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে তাদের।

বর্তমানে কিরণ রাও আমির খান প্রোডাকশনসের বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘লাপাতা লেডিজ’সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ‘পানি ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রমেও আমির, কিরণ ও রীনা এখনো একসঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে, গৌরী স্প্র্যাট আগে একটি আন্তর্জাতিক হেয়ার কেয়ার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি আমির খান প্রোডাকশনসের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পরিকল্পনামূলক কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।

এ বছর বিয়েটা করে ফেলতে পারি : বাপ্পী

বিনোদন প্রতিবেদক
এ বছর বিয়েটা করে ফেলতে পারি : বাপ্পী
সংগৃহীত ছবি

চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর বিয়ে নিয়ে বহুদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কখনো সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম, কখনো আবার গোপনে বিয়ে—এমন নানা গুঞ্জন বারবার শোনা গেলেও সেগুলোকে সবসময়ই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। 

এবার অবশ্য নিজের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন এই নায়ক।

শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাপ্পী। সেখানেই তিনি জানান, সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন।

বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘বিয়েটা এ বছর করে ফেলতে পারি, আশা করা যায়। গোপনে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সবাইকে জানিয়েই বিয়ে করব।’

দীর্ঘদিন ধরে নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জনের প্রসঙ্গও উঠে আসে তার কথায়। বাপ্পীর কথায়, জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি কখনোই গোপন রাখতে চান না। বরং পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চান।

প্রেমের বিয়ে নাকি পারিবারিক পছন্দ—কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই বাপ্পী।

তিনি বলেন, ‘লাভ ম্যারেজে প্রাধান্য দিলেও বাবা মেনে না নিলে ওই বিয়ে করব না।’

২০১২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকে বাণিজ্যিক ধারার একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন বাপ্পী চৌধুরী। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই সংযত থাকা এই অভিনেতার মুখে এবার বিয়ের ইঙ্গিত শুনে ভক্তদের কৌতূহল আরো বেড়েছে।

পরিচালক সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার তিন নির্মাতা

বিনোদন প্রতিবেদক
পরিচালক সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার তিন নির্মাতা
সংগৃহীত ছবি

সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে  বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে নির্মাতা বদিউল আলম খোকন, মনজুরুল ইসলাম মেঘ ও রিয়াজুল রিজুকে।

শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরিচালক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পরিচালক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও নির্মাতা গাজী মাহবুব।

তিনি জানান, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তিন পরিচালকের সদস্যপদ আজীবনের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে পরিচালক সমিতির নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আদালতে মামলা করেছিলেন নির্মাতা বদিউল আলম খোকন। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছিল প্রয়াত নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে। নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে খোকনের এই আইনি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সমিতির ভেতরে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ওই মামলার প্রেক্ষাপটে মনজুরুল ইসলাম মেঘ ও রিয়াজুল রিজুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালক সমিতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বদিউল আলম খোকন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত নির্মাতা। শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’সহ একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা পরিচালনা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে রিয়াজুল রিজু ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের একাধিক সম্মাননা অর্জন করেন।

তবে পরিচালক সমিতির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বহিষ্কৃত তিন নির্মাতার কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।