গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ফলে বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার শত শত মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সাগরে জেলেদের মাছ শিকার একপ্রকার বন্ধ রয়েছে। এতে আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাথরঘাটার বিএফডিসি (নতুন বাজার) খাল, পদ্মার খাল, বাদুরতলা, জিনতলা, কাকচিড়া খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। শুধু পাথরঘাটা নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ট্রলারও এসব জলাশয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
জেলেরা জানান, গত ১১ জুন সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা হয়। তবে এর পর থেকে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ ট্রলার লোকসানের মুখে পড়ে। পরে ধারদেনা করে আবারও সাগরে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই-তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হন জেলেরা। তারা জানান, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে এক থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও সেই অর্থের সিংহভাগই এবার ওঠেনি।
পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রলার এফবি মাহাদীর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সাগরে মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। তবে দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ করে আবারও ট্রলার সাগরে পাঠালেও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। এখন আবার ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’
চট্টগ্রামের ট্রলার এফবি মাসুম ৩- এর মাঝি সোনা মিয়া বলেন, ‘সাগর এতটাই উত্তাল যে, সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাথরঘাটায় এসে ট্রলার নোঙর করেছি।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা এমনিতেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে যেতে পারবেন আশা করি।’
পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে শত শত ট্রলার ও হাজারো জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদেরকে উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে তারা আবার সাগরে যেতে পারবেন।’