• ই-পেপার

ঢাকায় ‘অস্ট্রেলিয়ান এডুকেশন এক্সপো’ ১ আগস্ট

রাজধানীতে শব্দদূষণ

কান নষ্ট ভয়ংকর শব্দে

হাইড্রোলিক হর্ন, মডিফাইড সাইলেন্সার ও হুটারের দৌরাত্ম্য কানের সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
কান নষ্ট ভয়ংকর শব্দে

রাজধানীতে বায়ুদূষণের পাশাপাশি লাগামহীনভাবে বাড়ছে শব্দদূষণ। এর অন্যতম কারণ সড়কে অহেতুক হর্ন বাজানো, যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার, ব্যক্তিগত গাড়িতে হুটার এবং মোটরসাইকেলে মডিফাইড সাইলেন্সার লাগানো। এসব কারণে শব্দদূষণের মাত্রা প্রতিদিন বাড়ছে, যা নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনএপি) ‘ফ্রন্টিয়ার্স ২০২২ : নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে শব্দদূষণে প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আবাসিক এলাকায় অনুমোদনযোগ্য শব্দের মাত্রা ৫৫ ডেসিবেল এবং বাণিজ্যিক এলাকার জন্য ৭০ ডেসিবেল। অথচ ঢাকায় শব্দের মাত্রা পৌঁছেছে ১১৯ ডেসিবেলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মানুষের জন্য শব্দের সহনীয় মাত্রা ৫৫ থেকে ৬০ ডেসিবেল। অথচ দেশের বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে শব্দের তীব্রতা ৮০ থেকে ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা কানের পর্দা ও স্নায়ুর জন্য চরম ক্ষতিকর। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের ধারণামতে, শব্দের মাত্রা ৮৫ ডেসিবেল বা তার বেশি হলে তা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রূপ নেয়।

বুধবার সকাল ১০টা। আবদুল্লাহপুর থেকে বাসে উঠে কানে হেডফোন লাগান সজিব মিয়া। বাসে এভাবে হেডফোন লাগিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে জ্যামে আটকে থাকতে হয়। প্রাইভেট কার ও বাসের হর্ন এবং গাড়ির ইঞ্জিনের তীব্র শব্দে মাথা ভনভন করে। বড় বাসের হাইড্রোলিক হর্ন আরও বেশি ভোগায় আমায়। কিছুদিন আগে ডাক্তার দেখাতে হয়েছে। ডাক্তারই শব্দনিরোধক হেডফোন ব্যবহার করতে বলেছেন।

রাজধানীর বিমানবন্দর, মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরা, কাকরাইল, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, পুরান ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সিগন্যালে সরেজমিন দেখা যায়, দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনে যেন হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর ও এর আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকাকে ‘শব্দহীন এলাকা’ ঘোষণা করা হলেও দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও লোকাল বাসগুলো সেই আইন মানছে না। বিমানবন্দর ছাড়াও উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরে রাস্তার কাজ চলায় এবং দূরপাল্লার বাসগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এ সময় যানজটে আটকে থাকা যানবাহনের চালকরা সামনে যেতে পারবেন না জেনেও ক্রমাগত হর্ন বাজাতে থাকেন। রাত হলে এখানে হর্নের শব্দ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ট্রাক ও বাসে হাইড্রোলিক হর্ন থাকায় এই শব্দ হয় আরও তীব্র।

ঢাকায় শব্দদূষণের অন্যতম আরেকটি কারণ হলো মোটরসাইকেলে মডিফাইড করে লাগানো সাইলেন্সার। দিনের বেলায় সড়কে এমন মোটরসাইকেল খুব একটা দেখা না গেলেও রাতের আঁধারে পুরো রাজধানী দাপিয়ে বেড়ায় এগুলো। উত্তরা, বনানী, ধানমন্ডি, বারিধারা, গুলশান, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের মতো আবাসিক এলাকায় মডিফাইড সাইলেন্সার লাগানো মোটরসাইকেলের উৎপাত অনেক বেশি। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি দামি প্রাইভেট কারেও অনেকে মডিফাইড সাইলেন্সার ব্যবহার করছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ৫০ বছর বয়সি সলিম উদ্দিন। এ সময় বিকট শব্দ করে দ্রুত গতিতে ছুটে চলে ৪টি দামি মোটরসাইকেল। বিকট শব্দে তিনি কিছুক্ষণ দুই কান চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। মোটরসাইকেলগুলো চলে যাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ এদের ধরে নিয়ে যায় না কেন? প্রতিদিন এভাবে শব্দ করে গাড়ি চালায়।

শব্দদূষণের ক্ষতি নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হাফিজ শাফী বলেন, শব্দদূষণের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় শ্রবণশক্তির। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার শব্দে থাকলে কানের সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যায়। অনেক রোগী কানে সারাক্ষণ ভোঁ-ভোঁ বা শোঁ-শোঁ শব্দ শোনার অভিযোগ নিয়ে আসেন। এটি শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে গত ১৮ জুলাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরোf কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার শব্দদূষণ রোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন, অনুমোদনহীন হুটার, বিকন লাইট, ভিআইপি লাইট এবং শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী অন্যান্য সরঞ্জাম অপসারণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিআইএমএসে রাজধানীর বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য হালনাগাদের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
সিআইএমএসে রাজধানীর বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য হালনাগাদের আহ্বান
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করতে ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস)’ বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য নিবন্ধন ও হালনাগাদের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বর্তমানে সিআইএমএস ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) নিয়াজ মেহেদী জানান, ২০১৬ সালে রমনা থানা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ২০১৭ সালে রাজধানীর সব থানায় সম্প্রসারিত হয় এবং ২০১৯ সালে চালু হয় সিআইএমএস মোবাইল অ্যাপ।

তিনি বলেন, হালনাগাদ তথ্য বিট পুলিশিং, অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি শনাক্ত, সন্দেহভাজনের পরিচয় যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সিআইএমএস নিবন্ধন ফরম পাওয়া যায়। ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন এলাকার থানায় পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে। বাড়িওয়ালারা এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারবেন, ফলে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয়ের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়ারাও প্রয়োজন হলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাবেন।

নিয়াজ মেহেদী আরো বলেন, ‘সিআইএমএস’ ডাটাবেজ অপরাধ তদন্তেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে পলাতক অপরাধী শনাক্ত, সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাচাই এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কুর্মিটোলা হাসপাতাল চত্বরে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক
কুর্মিটোলা হাসপাতাল চত্বরে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ১
ফাইল ছবি

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বাসটি মহাখালী থেকে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতাল গেটসংলগ্ন গ্যাসের কন্ট্রোল রুমের ওয়ালে ধাক্কা মারে। এতে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন কয়েকজন। তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। হাসপাতাল গেটসংলগ্ন গ্যাসের কন্ট্রোল রুমটি ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি খালিদ মনসুরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাফিকের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

এ ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার এসআই মানিক। 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৪০ মিনিট আগে খবর পেয়েছি। একজন মারা গেছেন। মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। তবে আহতের সংখ্যা জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা কাজ করছে।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী : ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী : ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী। দেশের জনগণ আবার যাতে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখে এবং সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

রবিবার (২৬ জুলাই) ডিএনসিসির ৪৮ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ সড়ক ও ড্রেনেজব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসক জানান, গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের কারণে উন্নয়নকাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি নিজে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসক বলেন, এখন কথা কম হবে এবং কাজ হবে বেশি। জনগণের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাব। সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এই এলাকার জনদুর্ভোগের কথা জানতে পেরেছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকর পদক্ষেপ নেব।

পরিদর্শনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।