• ই-পেপার

মির্জাপুরে দুই গৃহবধূকে ধর্ষণ ও হত্যা

মহিষ বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে প্রাণ গেল বাবার

অনলাইন ডেস্ক
মহিষ বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ, ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে প্রাণ গেল বাবার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মহিষ বিক্রির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলের টর্চলাইটের আঘাতে বানেজ উদ্দিন (৫৫) নামের এক গ্রামপুলিশ বাবার মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বানেজ উদ্দিন ওই এলাকার চৌকিদার (গ্রামপুলিশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম রাজীব (২৮)। তিনি নিহতের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ জানিয়েছে, বানেজ উদ্দিন সম্প্রতি একটি মহিষ বিক্রি করেন। রবিবার রাতে বিক্রির সেই টাকা দাবি করেন ছেলে রাজীব। তবে বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজীব তার হাতে থাকা ভারি একটি টর্চলাইট দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করে। এতে বানেজ উদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বানেজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মহিষকুণ্ডি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে-ছুরিকাঘাতে হত্যা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে-ছুরিকাঘাতে হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় রাজু আহমেদ নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। রাজুর পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১১টায় শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজু ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে।

নিহতের মা ও ছোট বোনের অভিযোগ, রাজু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে রাজনীতি ছেড়ে দেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। রবিবার রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে নুরুল ও জাকিরের তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মারামারি হয়। এসময় রাজু তাদের ঝগড়া থামিয়ে দেয়। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা করে তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে আহত করে। তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পিটিয়ে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এটি রাজনৈতিক বিরোধ, না পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্বে হত্যা, তা তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্কুলের মাঠে দখলদারদের ঠাঁই হবে না, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিপুন রায়ের

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
স্কুলের মাঠে দখলদারদের ঠাঁই হবে না, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিপুন রায়ের
সংগৃহীত ছবি

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘স্কুলের মাঠ কাউকে অবৈধভাবে দখল করতে দেওয়া হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা শিক্ষার স্বার্থেই ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর নয়, একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। দেশের নিজস্ব সম্পদ, কৃষি, শিক্ষা ও তরুণদের মেধাকে কাজে লাগিয়েই উন্নয়নের পথ সুগম করতে হবে।’

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আগানগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ বাশার আহমেদের সভাপতিত্বে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বক্তব্যে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, আগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা-পরিবেশ, ঐতিহ্য ও সম্পদ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রতি আস্থা রেখে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এসময় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লক্ষ্মীপুরে সবুজ ঘেরা প্রকৃতিতে ইটভাটার প্রস্তুতি!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে সবুজ ঘেরা প্রকৃতিতে ইটভাটার প্রস্তুতি!
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে পরিবেশ-প্রকৃতিকে রক্ষা করতে ৮ বছর আগে স্থানীদের চাপের মুখে পড়ে একটি ইটভাটা বন্ধ হয়। প্রায় ১৫ একর জমির সেই ইটভাটা এখন সবুজ-শ্যামলে সেজে আছে। শরতে কাশফুলে সেজে থাকে পরিত্যক্ত এ ইটভাটা এলাকা। কিন্তু আবারো সেখানে ইটভাটা স্থাপনের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ ধ্বংসসহ সবুজে ঘেরা প্রকৃতি ফের হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধি ও দুজন জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮ বছর আগে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নুরুল্লাহপুর গ্রামে প্রায় ১৫ একর জমিজুড়ে ‘সোনালী’ ইটভাটা ছিল। তখন এই ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে পড়ে। আশপাশের সড়ক ও কাঁচা রাস্তা ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে যায়। এতে স্থানীয়দের আন্দোলন আর সচেতন মহলের চাপের মুখে পড়ে তখন বন্ধ হয়ে যায় ওই ভাটা। ৮ বছর ইটভাটাটি বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় সবুজে রঙে রেঙে উঠেছে। শরতে ফুটে উঠে কাঁশফুল। কিন্তু একই স্থানে পুনরায় নতুন করে ইটভাটা স্থাপনের পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. মঞ্জু ও মিল্লাত হোসেন নুরুল্লাহরপুরে ফের ইটভাটা চালুর পাঁয়তারা করছেন। যদিও জমির মালিকরাও সেখানে ইটভাটা স্থাপনে রাজি নয়। তবে মঞ্জু ও মিল্লাত টাকার বিনিময়ে ওই জমি ইজারা নিয়ে ইটভাটা স্থাপনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জমির চারপাশে বসতবাড়ি রয়েছে। এর অদূরে স্কুল, মাদরাসা ও মসজিদও আছে। যদি ইটভাটা চালু হয় তাহলে মানুষজনও বিভিন্নভাবে বিপাকে পড়বে। চন্দ্রগঞ্জ থেকে বসুরহাট সড়কটি এখন স্বস্তিদায়ক। ইটভাটা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিপর্যয় নেমে আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যবসায়ীর এক একর ৫ শতাংশ ও সবুজ নামে এক যুবকের প্রায় এক একর ৩০ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। তারা ইটভাটা স্থাপনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়ে মঞ্জু ও মিল্লাত হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি।

চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) কফিল উদ্দিন বলেন, নুরুল্লাহপুর আমাদের পাশের এলাকা। সেখানে থাকা সোনালী ইটভাটাটি বন্ধ রয়েছে। এখন আবার একটি পক্ষ চাচ্ছে সেখানে ভাটা স্থাপনের জন্য। ইটভাটা স্থাপন হলে সেখানকার প্রকৃতি আবারো ধ্বংসের মুখে পড়বে।

চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) রবিন হোসেন বলেন, ইটভাটা চালুর বিষয়টি শুনেছি। তবে ইটভাটা চালু না হওয়ায় প্রকৃতি ও আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য ভালো হবে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, বসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া কেউ অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিচালনা করার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দেশে নতুন করে কোনো ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স প্রদান করা হবে না বলে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি চিঠি ইস্যু করে পরিবেশ অধিদপ্তর।