টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা আক্তারকে (৪০) মারধরের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামে। ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোর্শেদা বেগম স্বজনদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম এবং একই গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী। আরিফ সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসেন। ২২ জুলাই বুধবার রাতে আরিফ সাইদুলের বাড়িতে গিয়ে সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মোর্শেদা বেগমকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে মোর্শেদা রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে আরিফ তাকে বেধম মারধর করে। পরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর নানা বাড়ি থেকে বড় ছেলে মাহিম বাড়িতে এসে তার অসুস্থ মাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে রেফার করে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোর্শেদা বেগম স্বজনদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিডিওটি ভাইরাল হয়।
এদিকে স্ত্রীকে ধর্ষণের খবর শুনে স্বামী সাইদুল ইসলাম শুক্রবার দেশে আসেন এবং আরিফকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ পলাতক রয়েছেন।
শনিবার বিকেলে উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান ও উপপরিদর্শক আতাউর রহমান সরজমিন তদন্তে যান।
বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোর্শেদার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বাবার বাড়ি কালিয়াকৈরে নিয়ে গেছেন। তার স্বামী সাইদুল ইসলাম শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি এসে আরিফকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




