• ই-পেপার

মন্ত্রী না হলে বুঝতাম না ফ্যাসিস্টরা কীভাবে সব চেটেপুটে খেয়েছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীর পায়ে বিদ্ধ গুলি সদৃশ বস্তু

খুলনা অফিস
উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীর পায়ে বিদ্ধ গুলি সদৃশ বস্তু

খুলনা মহানগরীতে চলতি মাসে আবারও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নগরীর হরিণটানা থানার বয়রা আন্ধিরঘাট এলাকায় বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ফাতেমা আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাকে বিদ্ধ করা বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি না কি অন্য কিছু- তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে এক্স-রে ফিল্ম দেখে পুলিশের ধারণা, এটি এয়ারগানের গুলি হতে পারে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত মতামত পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ফাতেমাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাতেমা আক্তার জানান, খালার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে উঠানের মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ডান পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। নিচে তাকিয়ে দেখেন, পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার ডান পায়ে গুলি সদৃশ একটি ধাতব বস্তু বিদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বস্তুটি উদ্ধার ও পরীক্ষার পরই এটি গুলি কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক্স-রে পর্যবেক্ষণে এটি এয়ারগানের গুলি বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এ পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।’

এদিকে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনেই খুলনা মহানগরীতে এটি তৃতীয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। এর আগে ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর সদর থানার শান্তিধাম মোড়ে দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

৩ জুলাই নগরীর নতুন বাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এক স্কুলছাত্রী। আর ২ জুলাই লবণচরা থানার আশীবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন রাতুল শেখ (২২) নামের এক তরুণ।

টানা গুলির এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই মহানগরীতে একের পর এক গুলির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

অপরদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য সাংবাদিকদের যেকোনো কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপির একাত্মতা থাকবে।

নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের ইন্ধনে খুলনায় অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এজন্য তিনি সচেতন সাংবাদিকসহ নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শনিবার সন্ধ্যায় নগর বিএনপি কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা (এমইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে যা বলে গেলেন ধর্ষণের শিকার সেই প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মৃত্যুর আগে যা বলে গেলেন ধর্ষণের শিকার সেই প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা
অভিযুক্ত আরিফ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা আক্তারকে (৪০) মারধরের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামে। ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোর্শেদা বেগম স্বজনদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম এবং একই গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী। আরিফ সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসেন। ২২ জুলাই বুধবার রাতে আরিফ সাইদুলের বাড়িতে গিয়ে সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মোর্শেদা বেগমকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে মোর্শেদা রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে আরিফ তাকে বেধম মারধর করে। পরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর নানা বাড়ি থেকে বড় ছেলে মাহিম বাড়িতে এসে তার অসুস্থ মাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে রেফার করে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোর্শেদা বেগম স্বজনদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

এদিকে স্ত্রীকে ধর্ষণের খবর শুনে স্বামী সাইদুল ইসলাম শুক্রবার দেশে আসেন এবং আরিফকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ পলাতক রয়েছেন। 

শনিবার বিকেলে উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান ও উপপরিদর্শক আতাউর রহমান সরজমিন তদন্তে যান।

বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোর্শেদার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বাবার বাড়ি কালিয়াকৈরে নিয়ে গেছেন। তার স্বামী সাইদুল ইসলাম শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি এসে আরিফকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ভূরুঙ্গামারীতে ধানবোঝাই নসিমন উল্টে চালক নিহত

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
ভূরুঙ্গামারীতে ধানবোঝাই নসিমন উল্টে চালক নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ধানবোঝাই নসিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে আকবর আলী (৫৫) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকবর আলী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাঠগীর এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিলখুড়ির শালজোড় ঘাটপাড় থেকে ধানের বস্তা বোঝাই একটি নসিমন ধলডাঙ্গা বাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে তেতুলতলা এলাকায় সড়কের খানাখন্দের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে নসিমনটি সড়কের নিচে পড়ে যায়। এতে নসিমনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক আকবর আলী। দুর্ঘটনায় মুক্তি (৫৮) নামে আরো একজন আহত হন।

শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নসিমন সড়কের নিচে পড়ে গেলে চালক চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অপর ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডাকাতি : লুট হওয়া শটগান উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডাকাতি : লুট হওয়া শটগান উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ১১০ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ডাকাতিতে লুট হওয়া শটগান উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া দুটি শটগানই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান।

এর আগে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলিলের জমির পাশের ধইঞ্চা ঝোপের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় লুট হওয়া দ্বিতীয় শটগানটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২ জুলাই ভোরে বন্দর থানার হরিপুর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১১০ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নদীঘাটসংলগ্ন ডিউটি পোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন আনসার সদস্য সৈকত মিয়া ও মো. মনিরুজ্জামান মুন্সী। এ সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আসা ৫ থেকে ৬ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে দুটি শটগান লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্লাটুন কমান্ডার মো. মনির মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘১১০ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে লুট হওয়া দুটি শটগানই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই একই মামলায় একটি শটগান উদ্ধার এবং একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া দুটি শটগানই উদ্ধার করা হয়েছে।