নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম সুযোগ পেলেই কোনো প্রয়োজন ছাড়াই আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনীকে নিজের দপ্তরে ডেকে পাঠাতেন এবং তাকে অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত করতেন। এ ধরনের আচরণ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না। নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে এবং ব্যক্তিগত শুনানি চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৬ জুন হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় অফিসকক্ষে ডেকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন এবং কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিতেন। এ ছাড়া ১৩ জুলাই সকালে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকালে স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নিজেকে নিরাপত্তাহীন দাবি করে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
পরবর্তী সময়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ডা. লনী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে পরদিন, ২২ জুলাই দেওয়া আরেকটি আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি ও চাকরিগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, কয়েকজন চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে আতঙ্কিত করেন এবং তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মূল ঘটনা গোপন রেখে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়।
নতুন আবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থ বিবেচনায় সাময়িকভাবে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তার মূল অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনও অনড় রয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও উল্লেখ করে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ডা. লুৎফুন্নাহার লনী বলেন, আমি কোনো আপস করিনি এবং আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম। তিনি বলেন, ডা. লুৎফুন্নাহার লনী আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর সপ্তাহে তিন দিন অফিস করেন, বাকি তিন দিন ভোলায় চেম্বার করেন। নিয়মিত অফিস করার জন্য আমি তাকে তাগাদা দিয়েছি। নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় বাধ্য হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। এরপরই তিনি আমার বিরুদ্ধে অসত্য, মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।






