• ই-পেপার

জিঞ্জিরাম নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস, কাজে আসছে না জিও ব্যাগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস, কাজে আসছে না জিও ব্যাগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার সড়কটারী অংশে প্রায় ৩০ মিটার ব্লক পিচিং নদীতে ধসে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। 

পরে রাতেই এলাকাবাসী বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে পাউবো জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু ক‌রে। স‌রেজ‌মি‌নে খোঁজ নি‌য়ে জানা গে‌ছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকার প্রায় ২০০ গজ দূরে ৬০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যায়। চলতি জুলাই মাসেই ৪ দফা অন্তত ২০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে পড়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও আবাদি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ তীররক্ষা বাঁধ ২০১৮ সাল থেকেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড় কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১০টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। বারবার জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তাদের দাবি, নদীর গতিপথ পরিবর্তনে অন্তত তিনটি বাঁধ নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।

স্থানীয় ফরজ উদ্দিন ডেসকা বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। তখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ডাকা হয়। আমরা কয়েকটি জিও ব্যাগ ফেলি। পরে সকালে পাউবোর লোকজন এসে কাজ শুরু করেন।’

সড়কটারী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা ফেলানী বেওয়া (৭৫) বলেন, ‘গতকাল বিকেল থেকে হঠাৎ করেই নদীর পানি বা‌ড়ি বাঁধ ধ‌সি যাওয়া শুরু কর‌ছে। নদীভাঙা শুরু হলেই বুকটা কা‌পি ওঠে। এই বয়সে আর ভিটেমাটি হারা‌লে যা‌মো কন‌টে।

ভাঙন মোকাবিলার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিনিধি সর্দার মজিবর রহমান বলেন, চলতি মাসে ৪ দফায় ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ পেলেও প্রবল স্রোতে সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। ভাঙন ঠেকাতে অন্তত এক লাখ জিও ব্যাগ এবং তিনটি টি-বাঁধ প্রয়োজন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব তীরে নতুন চর জেগে ওঠায় স্রোত পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাঁধে চাপ বেড়ে বারবার ধস হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হাজার ডাম্পিং সম্পন্ন হয়েছে। স্থায়ী সমাধানে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হবে। 

‘পারিবারিক কলহে’ গর্ভবতী স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
‘পারিবারিক কলহে’ গর্ভবতী স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ‘পারিবারিক কলহের জেরে’ বুলবুলি খাতুন নামের সাত মাসের গর্ভবতী এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কুঞ্চী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গর্ভবতী স্ত্রী বুলবুলি খাতুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত বুলবুলি খাতুন ও আব্দুল্লাহ দম্পতির চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী মো. আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

সুনামগঞ্জ

নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ছাতকে চেলা নদীর শাখা ‘চৈলতার ঢালা’ থেকে পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনের নামে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর, আলমপুর ও কাজিরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চেলা নদীর শাখা ‘চৈলতার ঢালা’ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে নদীর তীর, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ধারা ৬(ঙ), ১২ ও ১৫(১) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হবে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের করা মামলাটি থানায় রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিংগাইরে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২

সিংগাইর-হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিংগাইরে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

মানিকঞ্জের সিংগাইরে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মেদুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সিএনজিচালক ফরহাদ হোসেন (৫০) ও যাত্রী মো. মহরম বেপারি (৪০)। সিএনজিচালক ফরহাদ মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মাঠপাড়া গ্রামের মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে আর যাত্রী মহরম কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান গ্রামের জামশেদ বেপারির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে হেমায়েতপুর থেকে একটি সিএনজি যাত্রী বোঝাই করে (ঢাকা মেট্রো-৩০৩০২৭) সিংগাইরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। মেদুলিয়া এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ন-১১-১০৬৬) সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রী মহরম বেপারি ঘটনাস্থলে নিহত হন। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএনজিচালক ফরহাদ হোসেন মারা যান। এ ছাড়া এ ঘটনায় সিএনজিতে থাকা আরো দুজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

সিংগাইর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত ২ জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।