মাত্র একটি ইজি বাইকের লোভে ১৫ বছরের এক কিশোর চালককে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটিচাপা দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তার ইজি বাইক। প্রায় চার বছর আগে ফরিদপুরে এ রকম একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন। রায়ে মো. আছমত শেখ ও মো. সাগর মোল্লাকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন সাজাই কার্যকর থাকবে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা গেছে, নিহত নাঈম শেখ (১৫) ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের সামসু শেখের ছেলে। ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকালে প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।
পরদিন ভোরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ লোকমানখার ডাঙ্গী এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক উদ্ধার করে। পরে সেটি নাঈমের বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা। ইজিবাইক উদ্ধারের পর আটক আছমত শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের দেখানো স্থান থেকে একটি বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ, সাগর মোল্লা এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ফরহাদ হোসেন ২০২২ সালের ২৪ মে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, জব্দ আলামত, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন এবং আসামিদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে আদালত দুই প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ইজিবাইক ছিনতাই, মরদেহ গোপন এবং আলামত উদ্ধারের ধারাবাহিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সেই প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের সাজা দিয়েছেন। মামলার তৃতীয় আসামি ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’