• ই-পেপার

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেল বেইলি ব্রিজ, পানিবন্দি ৩ শতাধিক পরিবার

বগুড়ায় শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে দুলাভাই নিহত

অনলাইন ডেস্ক
বগুড়ায় শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে দুলাভাই নিহত

বগুড়ার শাজাহানপুরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মো. রঞ্জু মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ঘাষিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রঞ্জু মিয়া শাজাহানপুর উপজেলার ঘাষিড়া এলাকার ফজলাল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় রঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. জুবায়ের (২৫) ও শ্যালক খোরশেদ আলম (৪০) আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে স্থানীয় একটি ইটভাটার ভেতরে মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খোরশেদ আলমের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন খোরশেদকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে তার দুলাভাই রঞ্জু মিয়া ও ছেলে জুবায়ের এগিয়ে যান।

এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের তিনজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রঞ্জু মিয়া গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত খোরশেদ ও জুবায়েরকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

জামায়াতের এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি কালের কণ্ঠ। 

কেউ কেউ দাবি করছেন, ভিডিওটি আসল। আবার কেউ বলছেন, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ভিডিওটি বানানো হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কয়েকটি অংশে দেখা যায়, নারীসহ এমপি গাজী নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। কোনোটিতে দেখা যাচ্ছে ওই নারী অবস্থান করছেন, নজরুল ইসলাম ফোনে কথা বলছেন। আবার কোনোটিতে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া ভিডিও নিয়ে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য জানায়নি। এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া গেলে, কালের কণ্ঠে প্রকাশ করা হবে। 

নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

অনলাইন ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টায় ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জানান, হাজিগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার ছেলে অপূর্ব ব্রাজিল সমর্থক। তার সঙ্গে ওই এলাকার আরো অর্ধশত ব্রাজিল সমর্থক রয়েছে। একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে হাবিব (২০) আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার সঙ্গেও প্রায় অর্ধশত আর্জেন্টিনার সমর্থক রয়েছে। ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় তখন আর্জেন্টিনার সমর্থক হাবিব ও তার সঙ্গে লোকজন আনন্দ উল্লাস করেন। এতে ব্রাজিলের সমর্থক অপূর্ব ও তার লোকজন তাদের মাইন্ডে রাখেন।

সোমবার আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় অপূর্ব ও তার লোকজনও আনন্দ উল্লাস করেন। এতে হাবিব ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া দেয়। এরপর ব্রাজিল সমর্থকরা দলবল বাড়িয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং নারীসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এরপর যাওয়ার সময় কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। তখন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকাবাসী যোগ দিয়ে ব্রাজিলের বেশ কয়জন সমর্থকদের মারধর করেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা সবাই কিশোর বয়সের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় গ্রুপের লোকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন পালিয়েছে।

ইতালির স্বপ্নে পাড়ি, হাঙ্গেরিতে ঝরল বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
ইতালির স্বপ্নে পাড়ি, হাঙ্গেরিতে ঝরল বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ

উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন ছিল ফেনীর দাগনভূঞার বাসিন্দা ফরিদুর রহমান বুলবুলের (৩২)। দালালের কথায় বিশ্বাস করে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে বিমানে সরাসরি ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হয় ইউরোপের পথে, হাঙ্গেরির এক হাসপাতালে। কয়েক দিন আগে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

রবিবার (১৯ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে দাগনভূঞা থানা পুলিশ খবরটি তার পরিবারকে জানায়।

ফরিদুর রহমান বুলবুল দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের সেজো ছেলে। ৭ বছর আগে চাচাতো বোন কহিনুর আক্তার পলিকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে পাঁচ বছরের একমাত্র কন্যাসন্তান ফারিহা রয়েছে। বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কহিনুর। স্বামীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগে সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন বুলবুল। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো. দুলালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউরোপে লোক পাঠানোর দালালি করেন দুলাল। কয়েক দফা আলোচনার পর ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে বুলবুলকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি হয়। বিভিন্ন সময়ে চেক ও নগদে তার কাছ থেকে পুরো টাকা নেওয়া হয়।

বুলবুলের মেজো ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবুল বলেন, গত ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বুলবুল। তাকে সরাসরি বিমানে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে নেওয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। এরপর পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয়। সেখানে জঙ্গলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়।

তার ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। সেদিন বুলবুল জানান, দালাল মো. দুলাল তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। সরাসরি বিমানে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও পরে বাস ও ট্রেনে করে নেওয়ার কথা বলা হয়। ২৬ জুন আবারও আমরা দুই ভাই বুলবুলের ইমো নম্বরে একাধিকবার কল করেছি, কিন্তু তিনি অনলাইনে থাকলেও ফোন ধরেননি। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। যেভাবেই হোক আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ী দালালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।

এদিকে গত ২৮ জুন ভাইয়ের খোঁজে ফেনীতে দুলালের বাড়িতে যান নজরুল। কিন্তু সেদিনও তাকে সঠিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং এক সপ্তাহ পর যেতে বলা হয়। পরে দুলাল জানান, বুলবুল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। নজরুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে দুলাল বলেন, এখন কথা বলা যাবে না, কয়েক দিনের মধ্যে বাসায় নেওয়া হলে কথা বলা যাবে। এরপর থেকে দুলালের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।

সর্বশেষ রবিবার (২০ জুলাই) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে পরিবারের নম্বরে ফোন করে বুলবুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তার বোন ফোন ধরলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, তিনি হাসপাতালে আছেন। কয়েক ঘণ্টা পর দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করে এবং তখনই পরিবার নিশ্চিতভাবে জানতে পারে, বুলবুল আর বেঁচে নেই।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবারের খোঁজ নেব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ফরিদুর রহমানের মরদেহ বর্তমানে হাঙ্গেরিতে রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার ঠিকানা যাচাই করতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন।