• ই-পেপার

ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী

২ সপ্তাহে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ১০০

অনলাইন ডেস্ক
২ সপ্তাহে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ১০০
ছবি : রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর গত দুই সপ্তাহে তিন মার্কিন সেনা মারা গেছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জন। পেন্টাগন আজ এ তথ্য জনিয়েছে। নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আজ প্রথম কংগ্রেসের আইন প্রণেতাদের সামনে হাজির হবেন। তার আগে পেন্টাগন সৈন্যদের হতাহতের খবর জানাল।

তবে প্রাণঘাতী নয়, এমন হামলার তথ্য প্রকাশে পেন্টাগন ধীরগতি নীতি অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল জানান, গত ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে ৩ সেনা নিহত, প্রায় ১০০ সেনা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৯৬ ভাগ এরই মধ্যে আবার কাজে ফিরেছেন। 

পারনেল বলেন, অধিকাংশ সেনার মাথায় হালকা ধরনের আঘাত ছিল। আহত সেনারা দ্রুতই আবার দায়িত্বে ফিরতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সেনাদের আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে ধীরগতি দেখিয়েছে। তাদের দাবি, সেনাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ বিলম্ব করা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা মঙ্গলবারের পরিবর্তে বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকতে পারেন। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হয় এ যুদ্ধ। গত ১৭ জুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে হরমুজ প্রণালিতে হামলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভেঙে আবার হামলা শুরু করে, ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। গত ৭ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৭ জুলাই জর্দানের বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন এবং ইরাকে ড্রোন হামলার গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় একজন মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া জর্দানের ঘটনায় এক মাকিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরান সংঘাতে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনের ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালিটি অ্যানালিসিস সিস্টেম'-এর তথ্য অনুযায়ী, শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪২৭ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত পরিবারই সবার আগে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেষ পর্যন্ত পরিবারই সবার আগে
ছবি : এনডিটিভি।

পড়াশোনা করতে পশ্চিমাবিশ্বে গিয়ে সেখানেই থিতু হওয়া তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের অনেক দিনের প্রবণতা। কেউ কেউ দেশে ফেলে যাওয়া বাবা-মাকে ভুলে যায় বা ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারে না। মনে রাখলেও অনেককে নির্ভর করতে হয় ভিডিও কলের ওপরে।

তবে ভারতের বেঙ্গালুরুর শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি পেশাজীবী রমেশ এনএন ভিডিও কলে হাজিরা দেওয়া নয়, সশরীরে বয়স্ক বাবা-মার পাশে থাকতে কানাডার উন্নত জীবন আর নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছেড়ে ফিরে এসেছেন ভারতে।

সম্প্রতি নিজের লিংকডইনে ফিরে আসার গল্প শেয়ার করেছেন বেঙ্গালুরুর আইটি প্রতিষ্ঠান করসেন্ট্রিকের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর রমেশ এনএন। ছয় বছর আগে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে রমেশ লিখেছেন, ‘একটা সময় গিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি মানুষ চিরকাল স্থগিত রাখতে পারে না।’

তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত নিতে তাকে বেশ কিছু বিষয়ে আপস করতে হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মা-বাবার পাশে থাকাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। রমেশ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘জীবনে কখনো কখনো এমন সময় আসে, আপনাকে বেছে নিতে হয়; জীবনের আরাম না আত্মিক যোগাযোগ, জীবনের নিশ্চয়তা না দায়িত্ববোধ, গ্লোবাল এক্সপোজার না যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে উপস্থিত থাকা।’

ভারতে ফেরার পর পরিবার নিয়ে বেঙ্গালুরুতে স্থায়ী হয়েছেন রমেশ। কানাডা ছেড়ে আসা নিয়ে কোনো গ্লানি নেই তার। বরং ভিডিও কলের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের পারিবারিক মুহূর্তগুলোর অংশ হতে পারাটা বদলে দিয়েছে তার দৃষ্টিভঙ্গিই।

রমেশ লিখেছেন, ‘মা-বাবার পাশে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকা, প্রতিদিনের ছোটখাটো মুহূর্তের অংশ হওয়া এবং নিজের শিকড়ে ফিরে আসার অনুভূতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা আগে ভাবতেই পারিনি।’

পরিবারের পাশে থাকা তো বটেই বেঙ্গালুরুর প্রযুক্তিগত পরিবেশও তার ফিরে আসাকে সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই শহরের কাজের গতি, দক্ষ জনশক্তি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের কারণে এই পরিবর্তনকে পেশাগতভাবে কোনো পিছিয়ে পড়া মনে হয়নি। বরং একে একটি নতুন সুযোগ বলে মনে হয়েছে।

রমেশ বলেন, পেশাগত দিক থেকেও বেঙ্গালুরু বেশ উদ্যমী ও প্রাণবন্ত। তিনি যোগ করেন, এখানকার গতি ও মেধা প্রতিনিয়ত নতুন সুযোগ তৈরি করে। অনেক দিক থেকেই এটিকে আরো বেশি গতিশীল কোনো জায়গায় পা রাখার মতো মনে হয়েছে। তিনি এটিও স্বীকার করেছেন, ভারতে ফিরে আসার পর বেশ কিছু বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং এখানকার ব্যবস্থার সাথে নতুন করে খাপ খাইয়ে নেওয়া।

তবে তার মতে, এই অসুবিধাগুলোর চেয়ে প্রাপ্তি বা সুবিধার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। রমেশের এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তার স্ট্যাটাসে একজন নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, ‘আমি ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে আসি। প্রথম বছরটা ছিল সবচেয়ে কঠিন। আমি সবকিছুর তুলনা করতাম। সময়ের সাথে সাথে আমি পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়েছি এবং এখানেই আমার পরিবার গড়ে তুলছি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘এটি একটি দারুণ ব্যাপার যে সাফল্য কেবল ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। বরং আমরা কী প্রভাব রাখছি এবং কোন সম্পর্কগুলোকে যত্নে রাখছি তার ওপরও নির্ভর করে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আমি আনন্দিত যে আপনি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারই সবকিছু।’

ছাত্রদের কাছে মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত : রাহুল গান্ধী

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্রদের কাছে মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত : রাহুল গান্ধী

লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের দমন-পীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থক আহত হওয়ার পর রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন। 

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দলের সাংসদরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নৃশংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চান। 

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভুল। দেশের তরুণদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা যায় না। তাদের ভবিষ্যৎ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন, আর সেই কারণেই তারা রাস্তায় নেমেছে।’ তার মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে এবং এর ফলে তরুণদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

 

তিনি আরো বলেন, ‘এটি শুধু শিক্ষা খাতের বিষয় নয়, বরং দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাই ছাত্রদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত এবং তাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।’

লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি আহত বিক্ষোভকারীদের দেখতে যাবেন। বিক্ষোভে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি হাসপাতালে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে দলটি জানিয়েছে, তারা আর সংসদ অভিমুখে নতুন করে কোনো পদযাত্রা করবে না। মঙ্গলবার দলের প্রধান অভিজিৎ দীপকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক সমর্থক আহত হওয়ার পর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য এখন আর কোনো আন্দোলনকারী, বিশেষ করে তরুণদের, ঝুঁকির মুখে না ফেলা। সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে আহত হওয়া ঘিটোর্নির ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বর্তমানে দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ (এলএইচএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হালকা আহত কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চোখে পেলেটের আঘাত পাওয়া আরেক বিক্ষোভকারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালে আহত এক তরুণী দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। মিছিল আটকে দিতে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সভাপতি অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভে আহত সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশের পদক্ষেপে অনেক বিক্ষোভকারী, বিশেষ করে তরুণীরা, মারধরের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে বলেন, আহত সমর্থকদের আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে না পারায় তিনি দুঃখিত। তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশের আচরণ ছিল অমানবিক এবং তাদের রক্ষা করতে তিনি আরো বেশি কিছু করতে পারতেন।

পোস্টে তিনি আরো অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দীপকে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে এবং তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

জাতিসংঘের কাছে ইরানের হামলার ক্ষতিপূরণ চায় কাতার

অনলাইন ডেস্ক
জাতিসংঘের কাছে ইরানের হামলার ক্ষতিপূরণ চায় কাতার
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক ইরানের একের পর এক হামলার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কাতার। চিঠিতে হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে কাতার এসব ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

দোহার অভিযোগ, কাতারের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং দেশটির ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি জবাব দেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে কাতার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, ইরানের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কাতার।

চিঠিতে কাতার দাবি করেছে, ইরান দেশটির ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। গত ৭ জুলাই কাতারের তেলবাহী জাহাজ আল রেকাইয়াত-এ হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ১২ জুলাই কাতারের ওপর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও বলা হয়েছে চিঠিটিতে। যদিও ওই হামলা দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে কাতার।

কাতারের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে ইরান। তাই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য কাতার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজকে ঘিরে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা। জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট দিয়ে চলাচল করছিল। 

তবে ইরানের দাবি, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে এ রুট ব্যবহার করা মানে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে চলাচলসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে এ রুট ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ছে।