• ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

কেরানীগঞ্জে অপহৃত অটোরিকশাচালক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে অপহৃত অটোরিকশাচালক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক মো. সুন্দর আলীকে (৪৬) অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। একই অভিযানে শুভাঢ্যা এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), মো. জুয়েল রানা (৪০), মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে র‍্যাব-১০ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ল' অফিসার) সোনালী সেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সুন্দর আলী। গোলামবাজার থেকে রামেরকান্দা যাওয়ার পথে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে অপহরণকারীরা তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রাতে তাকে আসামি রাকিব হাওলাদারের শুভাঢ্যা এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এসময় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই দফায় নগদের মাধ্যমে ৪৪ হাজার টাকা আদায় করা হলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরো টাকা দাবি করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ চারটি, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা, রাকিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং অপু মীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের চারটি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর স্বজনেরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযান চালায় র‍্যাব-১০। সোমবার দুপুরে শুভাঢ্যা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার, লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার, লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয়ে চলে আসা প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটি জীবিত উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সাপটিকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর প্রায় ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর পুল এলাকার বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারের পাশের সড়কে স্থানীয় পথচারী ওয়াসিম মিয়া প্রথমে বিশাল আকৃতির সাপটি দেখতে পান। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এসময় কয়েকজন সাপটিকে হত্যা করারও চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বাবুল রবিদাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তারা কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকারীরা জানান, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ কেজি। উদ্ধার শেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধার হওয়া অজগরটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পর কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অজগর বিষধর সাপ নয়। এটি মানুষের জন্য সাধারণত আক্রমণাত্মক নয় এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে অজগর বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে দ্রুত বন বিভাগ অথবা অনুমোদিত বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত।’

ফরিদপুরে ইজি বাইকের লোভে কিশোরকে হত্যা, ২ আসামির যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ইজি বাইকের লোভে কিশোরকে হত্যা, ২ আসামির যাবজ্জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাত্র একটি ইজি বাইকের লোভে ১৫ বছরের এক কিশোর চালককে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মাটিচাপা দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তার ইজি বাইক। প্রায় চার বছর আগে ফরিদপুরে এ রকম একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন। রায়ে মো. আছমত শেখ ও মো. সাগর মোল্লাকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন সাজাই কার্যকর থাকবে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা গেছে, নিহত নাঈম শেখ (১৫) ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের সামসু শেখের ছেলে। ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকালে প্রতিদিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়ায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

পরদিন ভোরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ লোকমানখার ডাঙ্গী এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক উদ্ধার করে। পরে সেটি নাঈমের বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা। ইজিবাইক উদ্ধারের পর আটক আছমত শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের দেখানো স্থান থেকে একটি বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার দিনই নিহতের বড় ভাই রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ, সাগর মোল্লা এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ফরহাদ হোসেন ২০২২ সালের ২৪ মে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, জব্দ আলামত, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন এবং আসামিদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে আদালত দুই প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ইজিবাইক ছিনতাই, মরদেহ গোপন এবং আলামত উদ্ধারের ধারাবাহিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সেই প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের সাজা দিয়েছেন। মামলার তৃতীয় আসামি ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বয়সের পার্থক্য ৫৭ বছর

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বয়সের পার্থক্য ৫৭ বছর
সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এরই মধ্যে নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে। সেটি হলো তাদের দুজনের বয়সের ব্যবধান। এমপি নজরুলের সঙ্গে ওই নারীর বয়সের পার্থক্য ৫৭ বছর।

বিয়ের কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম জন্ম ১৯৫১ সালের ২১ মে। আর তার কথিত স্ত্রীর জন্ম ২০০৮ সালের ২২ মে। হিসাব মতে তাদের বয়সের পার্থক্য ৫৭ বছর।

এর আগে জামায়াতের দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে প্রথমে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানানো। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান এটিকে আসল ভিডিও বলে জানায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জামায়াত এই নেতা ফেসবুক পোস্টে জানান, ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা ওই নারী দ্বিতীয় স্ত্রী।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা ভাইরাল হয়েছে। তাতে গত ২২ জুন গাজী নজরুল ইসলাম এমপির স্বাক্ষরের ওপর সুপারিশ করে লেখা রয়েছে, ‘জোর সুপারিশ করছি’। সেই বায়োডাটায় মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।

বায়োডাটার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ১৭ জুন বিয়ে করে থাকলেও কেন ২২ জুন এমপি নিজেই তাতে স্বাক্ষর করেছেন? আবার ওই বায়োডাটাতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে মরিয়ম ‘অবিবাহিত’?