• ই-পেপার

ইতালির স্বপ্নে পাড়ি, হাঙ্গেরিতে ঝরল বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ

জামায়াতের সেই এমপির আরেকটি ভিডিও ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের সেই এমপির আরেকটি ভিডিও ভাইরাল

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি কবে কোথায় ধারণ করা হয়েছে সেটি জানা যায়নি।

২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেখানে টেবিলে রাখা আইডি কার্ডে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট। ঠিক এর নিচে লেখা ১৩ম পার্লামেন্ট। এরপর গাজী নজরুল ইসলামের ছবি দেওয়া। ছবির নিচে লেখা জি এম নজরুল ইসলাম। পদবি হিসেবে লেখা সংসদ সদস্য। এ সময় হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন সাতক্ষীরা জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে এই মুরুব্বি।’

এর আগে সোমবার রাতে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে কড়া সমালোচনা চলছে। সাতক্ষীরা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভাইরাল ভিডিওর ওই তরুণী গাজী নজরুল ইসলামের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’। পরে নজরুল ইসলামও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই দাবি করেছেন। 

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, রাজধানীর মগবাজারে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বাবার অফিসে তাকে ‘জিম্মি’ করে এক লাখ টাকা  আদায় করা হয়। পরে উদ্দেশ্যপ্রাণোদিতভাবে তাদের (তরুণী ও গাজী নজরুল ইসলাম) ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘ঘনিষ্ঠ’ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য।
 

নান্দাইল

তিন মাসেও সরেনি বিদ্যালয় ভবনে উপড়ে পড়া গাছ

ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
তিন মাসেও সরেনি বিদ্যালয় ভবনে উপড়ে পড়া গাছ
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশলী ইউনিয়নের রাজগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে তিন মাস আগে ঝড়ে হেলে পড়ে একটি বিরাট গাছ। সোমবার তোলা। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যালয়ের পুরনো একতলা ভবন। প্রায় তিন মাস আগে এক ঝড়ে উপড়ে ভবনের সঙ্গে আটকে থাকে একটি বিরাট গাছ। এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থীদের সেখানেই চরম আতঙ্ক নিয়ে পাঠ নিতে হচ্ছে। 

ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশলী ইউনিয়নের রাজগাতী গ্রামের। প্রায় তিন মাস আগে ঝড়ে গ্রামের রাজগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে গাছটি হেলে পড়ে। 

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সরেজমিন বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, বিরাট গাছটি উপড়ে পুরনো একতলা ভবনের সঙ্গে আটকে রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে ভবনটির দুইটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। তবে আকাশ মেঘলা থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছেড়ে নিরুপায় হয়ে নতুন আরেকটি ভবনে চলে আসে শিক্ষার্থীরা। সেখানে শিশু শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে মাদুর পেতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। 

শিক্ষার্থীরা জানায়, মাথার ওপর বিশাল গাছ হেলে পড়ায়  তারা প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, গত মে মাসে গাছটি হেলে পড়ার পরপরই সেটি অপসারণের জন্য সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর  লিখিত আবেদন জানানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি সরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সামান্য ঝোড়ো হাওয়া এলেই গাছটি ভেঙে পুরো ভবন ধসে পড়তে পারে। কোমলমতি শিশুদের জীবন এভাবে ঝুঁকিতে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. ফজিলাতুন্নেছা বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ভবনে গাছ হেলে পড়লে সবার আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে গাছটি দ্রুত সরিয়ে ভবন ও শ্রেণিকক্ষ বিপদমুক্ত করতে হবে। এরপর নিয়ম মেনে গাছটি নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, রাজগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে গাছ হেলে পড়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ

ট্রাকচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ট্রাকচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ট্রাকচাপায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা বারোটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ নিহতদের পরিচয় জানতে পারেনি।

ময়মনসিংহ কতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সদর উপজেলার সাহেক কাচারি এলাকায় যাত্রীবাহী ইজিবাইককে একটি ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আরো একজন মারা যান। পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ করছে।’

বান্দরবানে বন্যা-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ পরিবারের পাশে গো আপ ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বান্দরবানে বন্যা-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ পরিবারের পাশে গো আপ ফাউন্ডেশন
ছবি : কালের কণ্ঠ

বান্দরবানে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন ‘গো আপ ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিম স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় দুর্গম এলাকায় গিয়ে গত রবি ও সোমবার ত্রাণ বিতরণ করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯ ও ২০ জুলাই বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪৫০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী ও গোয়েলা খোলার ২৫০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ফজর আলীপাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিমপাড়া, চড়ুইপাড়া, ভরাখালী ও লাঙ্গিপাড়ার প্রায় ২০০ পরিবার ত্রাণ পায়।

এই কার্যক্রমে গো আপ ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা করেছে ফুটস্টেপ বাংলাদেশ, সেতু এনজিও ও রিনিউয়াল আর্থ।

গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান বলেন, ‘দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় গো আপ ফাউন্ডেশন সব সময় প্রস্তুত। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা প্রায় ৪৫০ পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। তবে আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়। রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার বিতরণের পর আমরা এখন একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনের জন্যও কাজ করা হবে।’

ত্রাণ বিতরণে অংশ নেওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রোমানা বলেন, ‘পাহাড়ধস ও বন্যায় মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। নিজের এলাকার মানুষের বিপদের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে ভালো লাগছে। আমাদের এই কাজ এখনো শেষ হয়নি।’

আরেক স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল জাহিদ জানান, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে মানুষের দুর্দশা ও দলের তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের মনোবল তাদের কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে।

গো আপ ফাউন্ডেশন একটি যুব-নেতৃত্বাধীন অলাভজনক মানবিক সংগঠন। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে তরুণদের সম্পৃক্ত করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করে সংগঠনটি।