• ই-পেপার

মহানন্দা নদীতে গোসলে নেমে কিশোরের মৃত্যু, নিখোঁজ আরেকজন

কুমিল্লায় বসুন্ধরার ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, ৪ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় বসুন্ধরার ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, ৪ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা
ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেছেন শত শত মানুষ। বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ ফ্রি আই ক্যাম্পে ৪৫০ জন চক্ষুরোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার শিকারপুর জামি'আ নূরে মোহাম্মদিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্সে ষষ্ঠবারের মতো এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পে রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চশমা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি ছানি অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ৩৬ জন রোগীকে ছানি, টেরিজিয়াম, নেত্রনালির সমস্যা ও অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

ক্যাম্প পরিচালনা করেন বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক, অপটোমেট্রিস্ট, নার্স ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম। চিকিৎসক দলে সাতজন সদস্য ছিলেন। শিকারপুর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চিকিৎসক দলের প্রধান বসুন্ধরা আই হসপিটালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ আহনাফ শাহরিয়ার বলেন, ‘চক্ষু পরীক্ষার পর ৩৬ জন রোগীকে ছানি, টেরিজিয়াম, নেত্রনালির সমস্যা ও অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত রোগীদের পরবর্তীতে ঢাকায় অবস্থিত বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।’

দত্তপুর গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ৮০ বছর বয়সী হাজেরা আক্তার বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে চোখে ব্যথা করে। বাম চোখে কিছুই দেখি না। আজকে ডাক্তার স্যারেরা খুব সুন্দর করে দেখছে। ওষুধও দিছে। টাকা নেয়নি।’

ভারেল্লা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আনু মিয়া বলেন, ‘আমি গত পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করেছি। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার খবর পাইছি। চোখে ব্যথা করে। পানি পড়ে। আজকে ডাক্তার দেখাইছি। ওষুধ আর চশমা দিছে।’

শিকারপুর গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, ‘আমার ছানি ধরা পড়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন, ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবেন। আমার কোন টাকা লাগবে না। বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের জন্য দোয়া করি। তারা যেন আমার মতো দেশের আরও গরীব মানুষের উপকারে আসে।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের মানবিক দিকনির্দেশনা এবং ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত বিনামূল্যে আই ক্যাম্প পরিচালনা করছে। এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং জটিল রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা দেশের চক্ষুস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে’—এই অঙ্গীকারকে ধারণ করে বসুন্ধরা গ্রুপ ভবিষ্যতেও মানসম্মত, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা

আবারও উল্লাসে মেতে উঠার প্রত্যাশা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা।

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে চরম উন্মাদনা। আগামী ১৯ জুলাই রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত খেলা। যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইউরোপ মহাদেশের আরেক শক্তিশালী দল স্পেন। প্রি দল ফাইনালে খেলবে, তাই সমর্থকদের মধ্যে চূড়ান্ত উন্মাদনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ছুটির দিনে বিকাল ৫টায় দিনাজপুরের শহরে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে আর্জেন্টিনার কয়েক হাজার ভক্ত-সমর্থক। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে এই বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা শহরের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে।

আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হাজারো আর্জেন্টিনা সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমী সমবেত হয়ে স্লোগান ও উল্লাসের মাধ্যমে নিজেদের প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। ভক্তদের পরনে ছিল নীল-সাদা জার্সি এবং হাতে ছিল আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা, গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি, হাতে ছিল ব্যানার ও ফেস্টুন। 

00

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার সমর্থক সজিব হাসান জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার ভক্ত। ছোট কিশোর বয়সে ম্যারাডোনার খেলা দেখেছেন, এখন মেসির খেলা দেখছেন। গতবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছে, এবারও চ্যাম্পিয়ন হবে বলে তার বিশ্বাস।

সিয়াম নামে এক যুবক বলেন, ‘তার বাবা, দাদা, ভাই, বোন সবাই আর্জেন্টিনার ভক্ত, তিনিও আর্জেন্টিনার ভক্ত। তার কাছে মেসি আর ফুটবল একাকার।’

আরেক ভক্ত মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা মানেই নান্দনিক খেলা। সেই নান্দনিক খেলা খেলেই গত বছরের মতো এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা। তিনি মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং বিশ্বাস করেন আর্জেন্টিনা ফাইনালে জিতবে এবং তারা আবারও উল্লাসে মেতে উঠবেন।’

11

শিশু সমর্থক রাফায়েত আল রাজিন জানায়, সে তার বাবার সঙ্গে ইনস্টিটিউট মাঠে এসেছে। সে মেসির ভক্ত এবং তার মতে, হারলেও আর্জেন্টিনা, জিতলেও আর্জেন্টিনা। তার বিশ্বাস, মেসির হাত ধরেই আর্জেন্টিনা আরেকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। তার কাছে মেসির বিকল্প শুধুই মেসি।

দিনাজপুর আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্য মো. আসলাম, লাবিব, সাইমুন, জয়, অন্তর, দুর্লভ, আসিফ, সেমসহ অন্যান্য সদস্যদের আয়োজনে এই আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে ভক্তদের একটাই প্রত্যাশা লিওনেল মেসির হাত ধরেই বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখবে আর্জেন্টিনা।

ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, জানে না কেউ

অনলাইন ডেস্ক
ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, জানে না কেউ
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য গত কয়েক দিন ধরে অপসারণ করা হচ্ছে। তবে কার নির্দেশে, কোন সংস্থার উদ্যোগে এবং কী কারণে এই কাজ চলছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি জেলা প্রশাসন, পৌরসভা কিংবা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে দেখা যায়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে শ্রমিকরা চত্বর ও ভাস্কর্যের অংশ ভাঙার কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই অপসারণের কাজ চলছে। তবে কে বা কারা কাজটি করছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

শ্রমিকদের দাবি, ওই স্থানে প্রায়ই ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় পৌরসভার উদ্যোগে এটি অপসারণ করা হচ্ছে বলে তারা শুনেছেন। তবে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথিন্দ্র নাথ রায় এ দাবি নাকচ করে বলেন, ‘এ কাজটি কে করছে আমরা জানি না। পৌরসভার পক্ষ থেকে এটি করা হচ্ছে না।’

এদিকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাঙা হচ্ছে তা তার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এটা যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, তা জানা ছিল না। কারণ এটি অসম্পূর্ণ ছিল। জেলা প্রশাসন এ কাজ করছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্ভবত সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি আরো জানান, জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি কারা অপসারণ করছে, তা তার জানা নেই।

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় স্থাপনাটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। পাশাপাশি এটি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সৃষ্টি করছিল। বিভিন্ন সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তবে এখন কে অপসারণ করছে, তা তিনি জানেন না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের গর্ব। তার স্মৃতিচিহ্ন অপসারণ করা হচ্ছে, এটি দুঃখজনক। দ্রুত একই স্থানে বা অন্য উপযুক্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে।’

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই চত্বর অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার চাচা দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন। আমাদের না জানিয়ে এটি অপসারণ করা দুঃখজনক। আমরা মনে করি, ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে জেলা বিএনপির নেতা আব্দুল মজিদ বিশ্বাস বলেন, বর্তমান স্থাপনাটি তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে নির্মাণ শুরু হলেও তা আর সম্পন্ন হয়নি। তবে যে কারণেই অপসারণ করা হোক, নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ করা উচিত।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজ শেষ না করেই প্রকল্পটি ফেলে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে মেয়র ও প্রশাসক পরিবর্তন হলেও কাজ আর এগোয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায় এবং স্থাপনাটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল।

প্রসঙ্গত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হন। অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ লাভ করেন।

বিলের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, রায়পুরায় ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৬ প্রাণ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
বিলের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, রায়পুরায় ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৬ প্রাণ
নিহত নাতির মৃত্যুতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন লামিয়ার দাদি।

নরসিংদীর রায়পুরায় বিলের পানিতে গোসল করতে নেমে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর পূর্বপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো ভেলুয়ারচর পূর্বপাড়া এলাকার নুরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতী আক্তার (৮), উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকার সাদ্দাম মিয়ার মেয়ে লামিয়া আক্তার রিতা (৭)। এর মধ্যে লামিয়া স্থানী একটি মাদরাসা ও জান্নাতী একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বড়কান্দা ও ভেলুয়ারচরে পানিতে ডুবে ৬  শিশুর মৃত্যু হলো।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নানাবাড়ি ভেলুয়ারচরে বেড়াতে আসে শিশু লামিয়া আক্তার। পরে স্থানীয় শিশু জান্নাতীর সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি বিলে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জান্নাতীর দাদা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার নাতনি ও বেড়াতে আসা আরেকটি শিশু একসঙ্গে বিলে গোসল করতে নেমেছিল। সেখানেই তারা পানিতে ডুবে মারা যান।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শীলা বলেন, ‘আজ বেলা ১১টার দিকে ভেলুয়ারচর থেকে পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়।’ হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার চাঁদেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় কাঁকন নদীর একটি খালে গোসল করতে নেমে ৪ মাদরাসা শিক্ষার্থী তাবিয়া, জান্নাত, সুমাইয়া ও আয়েশা পানিতে ডুবে মারা যায়। সেই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুই কন্যাশিশুর প্রাণহানির ঘটনায় পুরো রায়পুরাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পৃথক দুই ঘটনায় পানিতে ডুবে মোট ৯ কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।