• ই-পেপার

অবশেষে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি
সংগৃহীত ছবি

‘ব্যবসা করতে হলে আমাদের এককালীন ২ কোটি টাকা দিতে হবে। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে।’

চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ফোন করে এভাবেই চাঁদা দাবি করা হয়। ওই দাবিতে সাড়া না দেওয়ার দুই দিনের মাথায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোড এলাকায় অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অনুসারী ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সংক্রান্ত ছয় মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি অডিও কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে।

অডিওতে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি ডেভিড ইমন। ১৬-১৭ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। এখন ব্যবসা করতে হলে আমাদের এককালীন ২ কোটি টাকা দিতে হবে। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আমার বিস্তারিত পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জেনে নেবেন। বেশি দূরে যেতে হবে না—আমি কে, আমার নম্বরটা পুলিশ কমিশনারকে দেখাবেন।’

প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ফোনে চাঁদা দাবির সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। তিনি চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানোর ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

ডিডিএনের কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি মুখোশধারী ও দেশীয় অস্ত্রধারী দল হঠাৎ করে অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অফিসের কম্পিউটার, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সেলস মো. রবিউল হোসাইন রাকিব বলেন, ‘দুই-তিন দিন আগে মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ না করায় হামলাকারীরা অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।’

তিনি আরো দাবি করেন, হামলার সময় অফিসে থাকা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এছাড়া মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট করার পাশাপাশি কর্মীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে ডিসি হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা করা হয়েছে। এছাড়া ফোন করে চাঁদা চাওয়ার একটি অডিও আমরা হাতে পেয়েছি। অফিস ভাঙচুরের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’’

টানা বৃষ্টিতে ডুবছে পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌরবাসী

পাবনা প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে ডুবছে পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় নাকাল পৌরবাসী
ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা বর্ষণ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।‎

জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা গেছে। এ ছাড়া স্থির পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে পৌরসভার শালগাড়িয়া, রাধানগর, দিলালপুর, নারায়ণপুর, আরিফপুর, মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলা রোড, গোবিন্দা, কালাচাঁদপাড়া, নূরপুর, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকা, ছাতিয়ানী, বাজিতপুর রোড বাইলেন  বাবলাতলা, নয়নামতি,  যুগিপাড়া পাড়া, হাসপাতাল রোড, মহিষের ডিপো, অনন্ত পাড়ার কলোনি, রূপকথা সিনেমা হল রোড, বিনা বানী সিনেমা হল রোড, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদরাসা রোড, অনন্ত এলাকার আবুল কাশেম মহিলা মাদরাসা পাড়াসহ বেশ কিছু সড়ক বর্ষা মৌসুমজুড়েই পানির নিচে ডুবে আছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে রয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা।

‎স্থানীয়রা জানায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় সেই পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতিবার বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করলেও ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাওয়া যায় না।

00

‎শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবার টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম কষ্টে আছি।’ ‎‎রাধানগরের এক ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, ‘দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতা আসছে না। ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’

আরিফপুর এলাকার বাসিন্দা খোকন হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। বাড়ির মধ্যে পানি ডুকে গেছে। জরুরি কাজের জন্য বাহিরে বের হতে পারছি না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নেই ড্রেনেজব্যবস্থা। দীর্ঘদিন পৌরসভার মেয়র না থাকায় ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

‎কালাচাঁদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা কল্পনা আক্তার বলেন, আজ ৫ দিন হলো ঘরের খাটের নিচে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বাড়ির কাজ পর্যন্ত করতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা চলছে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। পানিতে চরম ময়লা-আবর্জনা হওয়াতে ব্যাপক দুর্ঘন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেল হতে হতেই মশার উপদ্রব বাড়ছে। পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার আতঙ্কে দিন যাচ্ছে।

‎মুজাহিদ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, ‘মুজাহিদ ক্লাব এলাকা থেকে বুলবুল কলেজ পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে নৌকা ছাড়া যাওয়ার উপায় নাই। অর্ধ মানুষ পরিমাণ পানি জমা হয়েছে। অটোরিকশা ও অটোভ্যানের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছোটবেলা থেকেই দেখতেছি এই রোডের এমন বেহাল।’

মুজাহিদ ক্লাব এলাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, ‘পানি নিয়ে আমার সবই সমস্যা। পাবনাতে বৃষ্টি হলে কোথাও পানি না উঠলে এই মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলার সড়কে পানি উঠবেই। পানির মধ্যে কাস্টমার আসে না তবু দোকানে আসি দোকানে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে। তবে আশা করছি চলমান ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে এ থেকে রেহাই পাব।’

পাবনার লতিফ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার অচিন্ত কুমার ঘোষ বলেন, ‘পাবনা পৌর এলাকার সব পানি নিষ্কাশন হয় মূলত দোহারপাড়া ও আরিফপুর সংলগ্ন বুড়িদাহ কালভার্টের নিচের খাল দিয়ে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি দখল দূষণে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত গতিতে বের হতে পারছে না। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল দখলমুক্ত ও খনন করে প্রসার করতে হবে। এ জন্য পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত পাবনা জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৬ মিলিমিটার। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
11

‎এ বিষয়ে পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে গিয়ে দেখছি। কোথায় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা চেষ্টা করি সব সময় পরিষ্কার রাখার। তারপরও কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও কিছু ড্রেন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।’

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান। নদী ও সংযোগ খাল গুলো খনন হলে পাবনা পৌরসভা সহ জেলায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরার সাবেক এমপি সেঁজুতি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরার সাবেক এমপি সেঁজুতি
সাতক্ষীরার সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারও একটি হত্যা মামলায় শ্যেন গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারও একটি হত্যা মামলায় শ্যেন গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অনাথ মিত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নং ৪০৩/২৪ ধারা- দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ২৫, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ধারা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১ জুন ২০২৫ তারিখে পুনরায় তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ৪৪, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ জিআর ৯৬/২৫ ধারা- ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/৩৮০/৫০৬ দন্ডবিধি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে  শ্যেন অ্যারেস্ট করা হয়। ১১ জুন ২০২৫ তারিখে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নং ২০, জিআর ২৭৮/২৫ ধারা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলা দায়ের করা হয় এবং ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে তাকে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতির পক্ষে অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, গত ৩ জুন ২০২৬ মহামান্য হাইকোর্ট সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সর্বশেষ মামলায় জামিন প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোটের আ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগীতের আবেদন জানালে নো-অর্ডার হয়। গত ১০ জুন ওই মামলায় জামিননামা সম্পাদনের পর ১৩ জুন তাঁকে পুনরায় জিআর ৩৯৯/২৪ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দন্ডবিধি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়।

অ্যাডভোকেট পলাশ আরো জানান, ২০২৬ সালের ২৫ জুন সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৩৯৯/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁকে পুনরায় জিআর ৪০২/২৪ ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ দন্ডবিধি মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে শ্যেন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তিনি জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬, সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৪০২/২৪ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নং ৪০৩/২৪ ধারা- দন্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে মো. ইমাদুল হক। সাতক্ষীরা তৎকালীন এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী গত ২৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সাতক্ষীরা ১ নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের আদেশে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত করা হয়।

মামলায় বাদী জানায়, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। অপরদিকে ১ থেকে ৬ নং আসামি পুলিশে কর্মরত এবং অন্য আসামিরা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এজাহারনামী ৩২ জন আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জন ৩টি কালো মাইক্রোবাস যোগে বাদীর ভাই শহিদুল ইসলামের বাড়িতে আসে এবং তাকে জোরপূর্বক টানাহিঁচড়ে মাইক্রোতে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গভীর রাতে থানা থেকে যশোর পিকনিক কর্নারের সামনে নিয়া যায়। সেখানে ১/২ নং আসামির নির্দেশে ৩/৪/৫/৬ নং আসামি ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে গুলি করে। ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে বুকে পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাতে ঝাঝরা করে হত্যা করে লাশ পিকনিক কর্ণানের সামনে ফাঁকা স্থানে রেখে চলে যায়।

মামলায় বাদী আরো জানান, বিষয়টি তৎকালীন থানায় ইউডি মামলা রুজু পূর্বক ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়া ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করা হয়। লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ঘটনাটি ধামা চাপা দেন। ভিকটিম শহিদুল ইসলাম এর পরিবার পক্ষ তৎকালীন সময় হত্যা মামলা করার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় গেলে থানা মামলা নিতে অস্বীকার করে এবং বাদীকে মৃত্যুর হুমকি দেখায়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় কাগজপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে স্বাক্ষীদের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

তবে শহীদুল হত্যা মামলায় সাবেক সাংসদ লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক অনাথ মিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, যাকে তাকে পুলিশ তার ভাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবে এটা ঠিক না। কারণ মামলা দায়ের করার সময় তিনি জেনে শুনেই নাম উল্লেখ করেছেন। তাহলে লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ব্যাপারে কেন তার মতামত নেওয়া হলো না সেটা তার বোধগম্য হয়নি। জানতে চাইলে তদন্তকারি কর্মকর্তা কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। তাছাড়া এজাহার বহির্ভূত কোন আসামীর নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হলে তিনি তা মেনে নেবেন না। কারণ সরকার পরিবর্তন হলে এসবের প্রতিশোধ নিতে তাকেও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হলে পুলিশ কি জবাব দেবে?

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অনাথ মিত্রের কাছে জানতে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মাদকের প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, আটক ১

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
মাদকের প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, আটক ১
যুবদল নেতা আকরাম হোসেন ফেরদৌস। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় মাদকের প্রতিবাদ করায় আকরাম হোসেন ফেরদৌস (৫০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আকরাম হোসেন ফেরদৌস ওই গ্রামের মৃত আহম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে উপজেলা যুবদলের নেতা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে মোটরসাইকেলে করে ছেলের মাদরাসায় খাবার দিতে যাওয়ার পথে দশালিয়া গ্রামের জহিরুলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার পথরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেরদৌসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত ফেরদৌসের অভিযোগ, হামলায় জহিরুল, আমীন, মাসুদসহ ৭-৮ জন অংশ নেয়। তিনি বলেন, ‘হামলার সময় জহিরুল চিৎকার করে বলে, ‘আমরার পোলাপানরে ডিস্টার্ব করস কেরে? তরে খতম করবাম।’ এই কথা বলেই তারা হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে আমাকে আঘাত করতে থাকে।’

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার রাতে এলাকায় কয়েকজন যুবককে মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়। খবর পেয়ে যুবদল নেতা ফেরদৌস ঘটনাস্থলে যান এবং মাদকসেবীদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন। পরে তারা আর কখনো মাদক সেবন করবে না এমন শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।এর আগে প্রায় এক মাস আগে এলাকাবাসী মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির বাড়িঘরে ভাঙচুরও চালিয়েছিল। এরপর থেকে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার হয়।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে নান্দাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দশালিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে কিবরিয়াকে (৩৫) আটক করে।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকবিরোধী অবস্থানের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’