• ই-পেপার

গোপালগঞ্জে ট্রলি-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত

মান্দা

টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০০ পরিবার পানিবন্দি
টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। শনিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রকল্পের  ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, তাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। জলাবদ্ধতার মধ্যে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টি ও উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রাঙ্গণে  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ণের ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে। পানিতে ডুবে গেছে ঘরে মেঝে। এতে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারই বাসিন্দাদের তাদের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পুরো এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে গেছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী ও শিশুরা পানিতে নামতে ভয় পাচ্ছে। সাপের আতঙ্কে অনেক পরিবারে  নির্ঘুম রাত কাটছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে  ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি।’

এদিকে, আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, ‘বন্যা নয়, হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ (শনিবার) পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

মধুপুর গড়াঞ্চলে রোপওয়ে করিডর, কমবে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি

কাজল আর্য, টাঙ্গাইল
মধুপুর গড়াঞ্চলে রোপওয়ে করিডর, কমবে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর গড়াঞ্চল অংশে (পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর) বন্য প্রাণীর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পাঁচটি রোপওয়ে করিডর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় বন্য প্রাণীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ও দুর্ঘটনারোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রাস্তার দুই পাশের সুউচ্চ গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে শক্ত দড়ি সংযুক্ত করে এই রোপওয়ে করিডরগুলো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণীরা মাটিতে না নেমেই বনের এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিরাপদে যাতায়াত করছে।

বন্য প্রাণী গবেষকদের মতে, বর্তমানে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এর মধ্যে ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪০ প্রজাতির পাখি এবং ২৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে। বিশেষ করে, পূর্বে সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত, আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’-এর বিচরণ ইদানীং মধুপুরের শালবনেও লক্ষ করা গেছে। নিশাচর ও লাজুক স্বভাবের এই বিরল প্রাণীটি মূলত গাছের মগডালে বা বাঁশঝাড়ে বাস করে। বন সংকোচন ও মহাসড়কের কারণে এদের স্বাভাবিক বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের পথ সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছিল।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, মধুপুর গড়াঞ্চলের বুক চিরে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। খাদ্যসংকট ও বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণী প্রাণ হারাত। নতুন এই রোপওয়ে করিডর চালুর ফলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মিত পাঁচটি রোপওয়ে করিডরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের অন্যসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একই ধরনের রোপওয়ে নির্মাণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্য প্রাণী বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্য প্রাণীর নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বণ্যপ্রাণির মৃত্যুহার অনেক কমে আসবে।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় রোপওয়ে করিডর নির্মাণের ফলে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। গত জুন মাসে ৫টি রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।

৮ দিন পর সন্দ্বীপে নৌ চলাচল শুরু, স্বস্তিতে যাত্রীরা

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৮ দিন পর সন্দ্বীপে নৌ চলাচল শুরু, স্বস্তিতে যাত্রীরা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাব কাটিয়ে দীর্ঘ আট দিন পর সন্দ্বীপের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের নৌ চলাচল শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটের ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়। 

নৌযান চলাচল শুরু হওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ৩ জুলাই থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট এবং বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জরুরি রোগী, প্রবাসী যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দ্বীপে পণ্য সরবরাহ, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছিল পুরো সন্দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ফেরি ও স্পিডবোট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে চলাচলকারী ফেরি 'কপোতাক্ষ'-এর মাস্টার সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন, সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর ফেরি পারাপার শুরু হয়েছে। 

কুমিরা স্পিডবোট সার্ভিস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদিল এন্টারপ্রাইজ’ সূত্রে জানা গেছে, সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করায় এবং চ্যানেলের অবস্থা ভালো থাকায় দুপুর ২টা থেকে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়েছে।

আগামীকাল সুন্দরবনে যাচ্ছে বাঘিনী

অনলাইন ডেস্ক
আগামীকাল সুন্দরবনে যাচ্ছে বাঘিনী
সংগৃহীত ছবি

অবশেষে নিজের প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনে ফিরছে আহত একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (বাঘিনী)। দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর আগামীকাল রবিবার (১২ জুলাই) সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ।

বন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে বন বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টানা ছয় মাস চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঘিনীটি এখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে এবং শিকারের উপযোগী সক্ষমতাও ফিরে পেয়েছে। তাই তাকে আবার তার নিজস্ব আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবমুক্তির পর বাঘিনীটির নিরাপত্তা ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে আন্ধারমানিক এলাকার প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। স্যাটেলাইট কলার সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় আপাতত এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমেই তার চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে বন বিভাগ।

তবে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বনের বাইরে থাকার কারণে বাঘিনীটি তার আগের বিচরণক্ষেত্র ফিরে পাবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনে তাকে নতুন এলাকা খুঁজে নিতে হতে পারে, যদিও বন বিভাগ আশাবাদী—সুস্থ হয়ে ওঠা বাঘিনীটি সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে।