• ই-পেপার

শাহজাদপুর

খেলা দেখতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি, রাস্তার পাশে মিলল যুবকের মরদেহ

খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ফিরছেন পর্যটকরা

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ফিরছেন পর্যটকরা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কিছু কিছু এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। এদিকে সাজেকে আটকা থাকা পর্যটকরা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ফিরছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বিভিন্ন স্থান এখনো তলিয়ে থাকায় রাঙ্গামাটির লংগদুর সাথে সড়ক যোগাযোগ চালু হয়নি। অপরদিকে কবাখালি এলাকার সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের তত্ত্বাবধানে সাজেকে আটকে থাকা পাঁচ শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে ফেরানো হয়েছে। এর আগের দিনও একই ভাবে শতাধিক পর্যটককে সাজেক থেকে ফিরতে সহযোগিতা করে সেনাবাহিনী।

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় পানিবন্দি হয়েছে উপজেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ। অধিকাংশই স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও বন্যাকবলিত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও আশ্রয়কারীদের খাদ্য বিতরণসহ ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ জানান, বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। এ ছাড়ার পাহাড় ধসের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্র জানায়, ৮ জুলাই সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্টে আটকে পড়া পর্যটকদের বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের প্লাবিত হওয়া বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি নেমে গেলেও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়েছে। এ ছাড়া অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সড়কে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়ছে। সবকিছু বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পর্যটকদের নিরাপদে ফিরতে সহযোগিতা করা হয়েছে।

শাহজাদপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
শাহজাদপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিম আক্তার (১৮) মশিপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। গ্রেপ্তার মো. রাসেল (২০) একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মিম আক্তার ও রাসেলের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। দেড় বছর আগে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। কিছুদিন থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ-বিবাদ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাসেল তার স্ত্রীকে নিজঘরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়েছে মামলা দায়ের করেছেন।’

বগুড়ায় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিসের চালক নিহত

প্রতিনিধি, বগুড়া
বগুড়ায় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিসের চালক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

বগুড়ায় একটি মালবাহী ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সালাম (৩৫) রংপুর সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত রুকু মিয়ার ছেলে। তিনি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘স্টেডফাস্ট’-এর একটি কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটোরগামী স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বগুড়াগামী একটি মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ডভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানে থাকা বিভিন্ন কুরিয়ার পণ্য মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

রাজনগরে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনগরে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় চলমান বন্যার পানিতে ডুবে মো. আশরফ আলী ওরফে আশই মিয়া (৭০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ভাঙারহাট-আকুয়া এলাকায় রিং বাঁধের পাশে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। আশরফ আলী আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত কয়েক দিন ধরে এলাকাটি প্লাবিত হয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা বন্যার পানির স্রোতে কোনো এক সময় অসাবধানতাবশত তিনি তলিয়ে যান। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা রিং বাঁধের পাশে মরদেহ ভাসতে দেখে নিহতের স্বজনদের খবর দেন। পরবর্তীতে নিহতের ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহটি উদ্ধার করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরো আকুয়া গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে রাজনগরের আকুয়া এলাকায় মনু নদীর বাঁধের একটি বড় অংশ আকস্মিক ভেঙে যায়। তীব্র স্রোতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যায় বেশ কয়েকটি গ্রাম। ওই সময় রাতে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ আশরাফ আলী। এরপর শুক্রবার সকালে আকুয়া গ্রামে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বলেন, ‘আশরাফ আলীর মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এলাকাটি বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং ও প্রচার করছি। নিহতের পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করব।’

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার  মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

টেংরা ইউনিয়নের প্লাবিত গ্রামগুলো হলো উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর। এ ছাড়াও বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গনেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর, ভাঙ্গারহাট এলাকার লোকজন। আকস্মিক এ বন্যায় প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্যসহ নানা সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার কিছু লোকজন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের উঁচু জাগায় আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।