টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণের৭ দিনের মধ্যেই হাতের টানে, পায়ের ঘষা ও যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট গর্ত। যানবাহন চলার সময় রাস্তা দেবে যাচ্ছে। দুর্যোগর্পূণ আবহাওয়ায় তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করায় সড়কটির এই অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ফ্লাইওভার সংলগ্ন জোরপুকুর পাড় হয়ে টেকিবাড়ি গ্রীনসিটি এলাকা পর্যন্ত ৪৬০ মিটার সড়কের এই বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই ফ্লাইওভার সংলগ্ন জোরপুকুর পাড় হয়ে টেকিবাড়ি গ্রীনসিটি পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৬০ মিটার সড়কের কার্পেটিং করার কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত এক সপ্তাহ পূর্বে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে তড়িঘড়ি করে সড়কটির কার্পেটিং করা হয়। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। কার্পেটিং শুকানোর আগেই বৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনের চাকা এবং পায়ের ঘষায় কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হতে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো রাস্তা পরিষ্কার না করেই তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। এ ছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় যানবাহনের চাকার চাপে দেবে গেছে। পায়ের ঘষায় এবং হাতের টানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন সড়কটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন, আলম ও নাইম জানান, ঠিকাদার যখন রাস্তার কাজ করে তখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এর মধ্যে তড়িঘড়ি করে কম বিটুমিন আর নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং শেষ করে। আমরা তাকে এভাবে কাজ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথায় কোনো কর্ণপাত করেননি। আমরা রাস্তাটি পুনরায় করার দাবি জানচ্ছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তারেক খান বলেন, ‘বিভিন্ন চাপে বৃষ্টির দিনে কাজ করায় এমনটি হয়েছে। যেহেতু রাস্তাটি আমার তত্ত্বাবধানে হয়েছে তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আমি পুনরায় সংস্কার করে দেব।
মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা আমি শুনেছি। এখনো ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় যথাযথভাবে সংস্কার না করা পর্যন্ত বিল দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।