টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর, আলীনগর ও মাধবপুর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ইসলামপুর-আদমপুর সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। তিনটি মাধ্যমিক ও পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আক্রান্ত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানের ক্ষেত। এ ছাড়া পানি বেড়ে যাওয়ায় এখনো ঝুঁকিকে রয়েছে বাঁধের পাঁচটি স্থান।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মকাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে ইসলামপুর,আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে।
এছাড়া ছড়ার পানিতে আলীনগর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর, চিৎলিয়া, রামেম্বরপুর, আলীনগর বস্তিসহ আরো অন্তত চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে মাধবপুরের লঙ্গুরপার, ভাষানীগাও, ভান্ডারীগাঁও এলাকার ফসলের জমি গ্রামীণ সড়ক। এতে এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ সদরের লঙ্গুরপার, পৌরসভার কুমড়াকাপনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
কমলগঞ্জ ভান্ডারীগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুরো দুই ফুট পানি। তাই চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষের ভাষ্য, ধলাই নদীর মোখাবিলের অংশ অনেক আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ করলে এখন এত বড় ক্ষতি হতো না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী গৌতম দাস বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)’র বাধার কারণে মোখাবিলের অংশটুকুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বাধার মুখে যতটুকু সম্ভব ছিল, ততটুকুই করা হয়। ধলাই নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন করে প্লাবিত হবার আশঙ্কা রয়েছে।
কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে আমরা শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করছি। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া