• ই-পেপার

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে মারল মাদক কারবারিরা

বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যের

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যের

পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এলাকায় ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি বৃদ্ধি এবং আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহরের চাটমোহর রেলস্টেশন অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। ঢাকা যাতায়াতে জেলার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহরের আংশিক অঞ্চলের জনগণ বড়াল ব্রিজ স্টেশন ব্যবহার করে। অন্যদিকে পাবনা জেলা সদর, আটঘরিয়া ও চাটমোহরের যাত্রীরা ঢাকা যাতায়াতে চাটমোহর স্টেশন ব্যবহার করে। বর্তমানে দুটি স্টেশনে ঢাকাগামী পাঁচটি ট্রেনের যাত্রা বিরতি হয়। বড়াল ব্রিজ স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে প্রায় ১৮০টি ও চাটমোহর স্টেশনে প্রায় ২৮০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এ দুটি স্টেশনে প্রতিদিন বরাদ্দের চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ যাত্রী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াত করেন। ফলে অধিকাংশ যাত্রীকে আসন বিহীন টিকিটে যাত্রা করতে হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এই রুটে ঢাকাগামী সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও অধিক আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এসব প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষকে নিয়মিত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেন পথ এ অঞলের মানুষের ঢাকা যাতায়াতের প্রধান ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। কিন্তু ট্রেনে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি এই রুটের সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও আসন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

ভাঙ্গুড়া বাজারের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, যাত্রীদের চাপের বিবেচনায় বড়াল ব্রিজ স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কম। ফলে অনলাইনে টিকিট বরাদ্দের পরপরই শেষ হয়ে যায়। এতে অধিকাংশ যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। যা অত্যন্ত কষ্টের। তাই সংসদ সদস্যের এই দাবিকে সাধুবাদ জানাই।

বড়াল ব্রিজ স্টেশনের ইনচার্জ শফিউল ইসলাম বলেন, এই স্টেশনে আসন বরাদ্দের চেয়ে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। ফলে সংসদ সদস্যের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও জনকল্যাণকর। ফলে এটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকায় গ্যাসের লিকেজে থেকে সৃষ্ট আগুনে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মদনপুর এলাকার মোস্তফা মিয়ার বাড়ির নিচতলার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বাগানো প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।

দগ্ধরা হলেন হযরত আলী (৮), মিম (১৩), সুলতানা (৩৫), আব্দুল মান্নান (৫০) ও সিয়াম (১৯)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ, মিমের ৪১ শতাংশ ও হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ, মান্নানের শরীরের ৩০ শতাংশ ও সিয়ামের শরীরের ৭৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক  আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে গ্যাস লিকেজের কারণে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত

কি‌শোরগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি
কিশোরগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটো‌রিকশার ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো তিনজন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগারসংলগ্ন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) ও হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে ইছাম উদ্দিন (৫০)।

​স্থানীয়রা জানায়, সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি মালবাহী ট্রাক পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার এলাকায় বিপরীতমুখী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন ও তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরো জানা যায়, অটোরিকশার যাত্রীরা সবাই বরশি দিয়ে মাছ ধরার জন্য পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

​পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটি জব্দ করা হলেও ট্রাক চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

কারিগরি ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌ রুটে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এর ফলে নৌপথে চলাচলকারী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সাগরে সতর্ক সংকেতের কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর গত ১০ জুন নৌ রুটে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে জাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও চলাচল বন্ধ 
ঘোষণা করা হয়।

আজ সকালে নির্ধারিত সময়েও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মালঞ্চ ছেড়ে যায়নি। যাত্রা বাতিল করে জাহাজটি ঘাটে রেখে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এমভি মালঞ্চের মাস্টার আমির হোসেন বলেন, ‘জাহাজের গিয়ারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আজকের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ জাহাজটি পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌরুটে জাহাজের পাশাপাশি ফেরির মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন পরিবহন করা হয়। এছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট ও ট্রলারের মাধ্যমেও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্পিডবোট ও ট্রলারে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে অধিকাংশ যাত্রী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য জাহাজ এবং ফেরির ওপর নির্ভরশীল।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরিতে যানবাহন পরিবহনের কারণে যাত্রী ওঠানামায় বিলম্ব ঘটে এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়সূচিও ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না। এ কারণে জাহাজে যাতায়াতকেই তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক ও নিরাপদ বলে মনে করেন।

এদিকে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষার এই বৈরী মৌসুমে সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌপথে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জাহাজটির মেরামত সম্পন্ন করে নৌপথে স্বাভাবিক যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।