• ই-পেপার

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

সারা বিশ্বে চ্যালেঞ্জিং সময় যাচ্ছে : মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু

অনলাইন ডেস্ক
সারা বিশ্বে চ্যালেঞ্জিং সময় যাচ্ছে : মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট নিয়ে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার নিয়মিত আয়োজন দ্যা বিজনেস রিভিউ শোতে কথা বলেছেন এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিসিআই-এরও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘সারা বিশ্বে এখন একটা চ্যালেঞ্জিং সময় যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ইলেকট্রিসিটির মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে, জ্বালানির তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে, গ্যাসের বৃদ্ধি ঘটেছে। এগুলো সবকিছুই ইমপ্যাক্ট ফেলবে প্রতিটি পণ্যের ওপরে। যার ফলে দ্রব্যমূল্য ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি শুরু হয়েছে।’

৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট এটা গত বছরের চেয়ে ২ লক্ষর বেশি বাজেট জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যতটুক জানি গত বাজেটের কাঙ্ক্ষিত আশা তারা পূরণ করতে পারেনি, তাহলে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি কর আদায় করতে হবে এনবিআরকে এবং এটা বিরাট বড় চ্যালেঞ্জিং। বর্তমান দেশের অর্থনীতির কারণে সরকার হয়তো বাজেট বেশি করেছে এবং কর আদায় বেশির দিকে তারা যাচ্ছেন। দেশের সামষ্টির উন্নতির কারণে দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য কিন্তু এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশের ওপরে। যদি ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা সফলভাবে করতে না পারে তাহলে তারা কর কোথা থেকে দেবে?’

তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা মনে করি যে, যেখানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঘটবে আমাদের প্রতিবছর ইনফ্লেশন ৯ টু ১২% হচ্ছে তার ওপরে যদি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে কিন্তু একটু মন্থরগতিতে চলছে।’

তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি নতুন সরকার যে বাজেট দিচ্ছেন উনারা খুব চ্যালেঞ্জিং হিসেবে নিয়েছেন এবং এটা বাস্তব নির্ভর করবে সরকারের যেসব উইংগুলো আছে তাদের দক্ষতা কর্মপরিধি এবং ঐকান্তিক চেষ্টার ওপরে।’

জুলাই থেকেই কেন শুরু হয় অর্থবছর?

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই থেকেই কেন শুরু হয় অর্থবছর?

পৃথিবীতে সর্বপ্রথম পঞ্জিকা প্রবর্তন করে সুমেরীয় সভ্যতা। সে সময় সপ্তাহ বা দিনের নির্ভুল গণনার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সময়ের পরিক্রমায় সুমেরীয়দের সেই পঞ্জিকা ব্যবস্থা বিকশিত হয়ে আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ ধরনের পঞ্জিকা ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্ত হয়েছে অর্থবছরভিত্তিক পঞ্জিকাও।

বাংলাদেশে সাধারণভাবে বাংলা সন ও খ্রিষ্টীয় সন অনুসরণ করা হলেও দেশের আর্থিক বছর গণনা শুরু হয় জুলাই মাস থেকে। প্রতি বছরের জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের জুন পর্যন্ত সময়কালকে একটি অর্থবছর হিসেবে ধরা হয়। এই সময়সীমাকে ভিত্তি করেই জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপন করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তান পর্ব এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পুরো সময়জুড়ে জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর অনুসারেই বাজেট প্রস্তুত ও ঘোষণা করার প্রচলন অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন
এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন : অর্থমন্ত্রী

এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন : অর্থমন্ত্রী

 

সাধারণত কোনো দেশের কৃষি উৎপাদন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে অর্থবছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, জুলাই মাস বর্ষা মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত। এসময় কৃষকদের জমিতে ফসল থাকে এবং কয়েক মাস পর তা ঘরে তোলা হয়। আবার দেশের কিছু অঞ্চলে এর মধ্যেই ফসল কাটা সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে বছরের এই সময়টি কৃষিখাতের চাহিদা ও সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে বাজেট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হওয়ায় কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই এ ধরনের অর্থবছর নির্ধারণের প্রথা চালু হয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করলে, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে নতুন কোনো দল ক্ষমতায় এলে তারা বাজেট প্রণয়নের জন্য বেশকিছু সময় হাতে পায়। এ সময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার নানা প্রতিফলন বাজেটে তুলে আনার যথেষ্ট সুযোগ পায় সরকারি দল।

দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য অনেক পশ্চিমা দেশের অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও অর্থবছর নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এতে আন্তর্জাতিক ঋণ ও আর্থিক লেনদেনের হিসাব-নিকাশ পরিচালনা করা তুলনামূলক সহজ হয়। বিশেষত, বিশ্বব্যাংকের অর্থবছর জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়ায় তাদের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে জুলাই-জুন অর্থবছর অনুসরণ করলে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা পায়।

একসময় পাকিস্তান এপ্রিল মাসকে অর্থবছরের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করত। তবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে পরে তারা আবার জুলাই মাসকে অর্থবছরের প্রথম মাস হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী হিসাব পরিচালনা শুরু করে।

অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশে জু্নে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় দেশের অনেক অঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। মাঝেমধ্যে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। এমন সময়ে একটি অর্থবছরের শেষের দিকের অর্থ ও আগত আরেকটি অর্থবছরের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যবহার করতে অসামঞ্জস্যতার সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকেই বাংলাদেশের অর্থবছর যাতে ভারতের আদলে এপ্রিল থেকে শুরু করা হয় এমন মতামত দিয়েছিলেন।

তবে বিশ্লেষকের মতে, বর্ষা মৌসুমে অবকাঠামো ও নির্মাণসংক্রান্ত কার্যক্রম কিছুটা ঋতুনির্ভর হলেও অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রম সরাসরি ঋতুর ওপর নির্ভর করে না। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন বা ব্যয় ব্যবস্থাপনায় যে সমস্যাগুলো দেখা যায়, তার মূল কারণ ঋতু পরিবর্তনের চেয়ে অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা অনেক বেশি।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না এনে শুধু অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই কার্যকর ফলাফল পেতে হলে প্রথমে ব্যবস্থাপনাগত ও কাঠামোগত উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন : অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এসব কথা বলেন তিনি। এদিন জাতীয় বাজেট পেশ করতে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রূপরেখা তুলে ধরতে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছান তিনি। বাজেট উপলক্ষে এদিন বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করেছে সরকার। যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাজেট করতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সব নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

ফের কমল সোনার দাম, ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
ফের কমল সোনার দাম, ভরি কত?
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে বলে সংগঠনটির স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকায় বিক্রি হবে। 

এদিকে রুপার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রৌপ্যের ভরি ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যতালিকা কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও, অলংকারের ডিজাইন ও মান অনুযায়ী কারিগরদের মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।