রংপুর মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বিত এ অভিযানে চুরি, মাদক, জুয়া, প্রতারণা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে চোরাই মালামাল, মাদকদ্রব্য এবং জুয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মহানগর কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এর মধ্যে চুরির মামলায় নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকার মমিনুল ইসলাম (১৯) এবং পূর্ব খাসবাগ এলাকার মো. লিখনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি টিউবওয়েল, একটি ফ্যান ও বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে ৪০ গ্রাম গাঁজাসহ শ্রী চাঁন বাঁশফোঁড় (২৮) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে তাজহাট থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন পানবাড়ী এলাকার রাসেল মিয়া (২২), মো. জজ মিয়া (৬৫), তাজহাট এলাকার সুমন মিয়া (৪০), মো. আলাল আলী (৩৪) এবং ভক্তিপুর এলাকার মো. সোহাগ (৫৫)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তাস, নগদ টাকা এবং জুয়া পরিচালনার বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পীরগঞ্জের মো. রজব আলী (৬০), বদরগঞ্জের মো. হযরত আলী (৩৫) এবং মো. লোকমান হাকিমকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। একই থানার আরেক অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে লালবাগ কেডিসি চুরিপট্টি এলাকার ময়নাল হককে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে পৃথক অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে পরশুরাম থানা পুলিশ। এর মধ্যে জলছত্রবাজার এলাকার আরিফুল ইসলাম (৩২) ও রমজান আলীকে (৪৫) মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে বালাকোয়ার এলাকার আজিজুল ইসলামকে (৩৮) ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়।
মাহিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পীরগাছার পারুল দেউতি এলাকার গোলাম মোস্তফা (৩৫) ও লিটন মিয়া (৩৫) রয়েছেন। এ ছাড়া প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি জোবায়দুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন উত্তর ফতেহপুর এলাকার ওমেদ আলী (২৬), ধাপ কেল্লাবন্দ এলাকার রানা মিয়া (৩৪), কাউনিয়া উপজেলার মহেষা এলাকার রাজু মিয়া (৪০), বখতিয়ারপুর এলাকার বিপ্লব মিয়া (২৪), কদমতলা এলাকার ফরহাদ হোসেন (৪২), চিকলী ভাটা এলাকার আরাফাত হোসেন আপলে (২২) এবং কেল্লাবন্দ এলাকার মারুফ হোসেন (২৬)। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি চক্র রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে গুড়াতিপাড়া এলাকার মো. আওসাফ (২৪), খাটারিপাড়ার মো. সেলিম উদ্দিন (৩১), আশরতপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (৩০) এবং মো. নাহিদ হাসানকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।





