• ই-পেপার

মগবাজারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে বাসের চাপায় পথচারী নিহত

ধানমণ্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধানমণ্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সেতুর কাছে মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) সকালে ধানমণ্ডি থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মাইনুল হাসান (২৩), ইব্রাহিম খলিল (৩১) ও সোরহাব হোসেন (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং ঢাকার বাইরে থেকে এখানে মিছিল করতে এসেছিলেন।

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ধানমণ্ডি এলাকায় মিছিল করার জন্য জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে তারা এখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে গুলি চালিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনতাই

অনলাইন ডেস্ক
মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে গুলি চালিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনতাই

রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে লোকমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। আহত ব্যক্তি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল ৩টা ১০ থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ৬ জন ব্যক্তি তিনটি মোটরসাইকেলে করে জনতা ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার সামনে আসে। তারা লোকমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর আহত লোকমানকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত ও পায়ে দুটি গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। তিনি চিকিৎসাধীন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ ধারণা করছে, এটি পরিকল্পিত ছিনতাই। ব্যাংক থেকে টাকা তোলার তথ্য আগে থেকেই ছিনতাইকারীদের কাছে ছিল কি না, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত এবং তাদের গতিপথ নির্ধারণে কাজ চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আহত ব্যক্তি মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিকেলে তিনি মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ব্যাগে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ছিল। পরে পথচারীরা আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ওসি আরো জানান, ব্যবসায়ীর হাতের কনুইয়ের নিচে একটি এবং পায়ে হাঁটুর নিচে দুটি গুলি লেগেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

রাজধানীতে পাগলকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে পাগলকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় ভাসমান এক পাগলকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আব্দুল মান্নান (২৮) নামের যুবক নিহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে গেণ্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ নতুন রাস্তার ঢালে ঘটনাটি ঘটে। ছুরিকাঘাতে গুরতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৩টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মান্নান শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সূর্যমনি বাজার গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি দয়াগঞ্জ এলাকায় থাকতেন।

গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, দয়াগঞ্জ নতুন রাস্তার ঢালে এক ভাসমান পাগলকে রাজন ওরফে বাঘা নামের এক যুবক মারধর করতে যায়। আব্দুল মান্নান বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় রাজনের ভাই মহসিন এসে মান্নানকে ছুরি মারার ভয় দেখান।

ওসি আরো জানান, এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে মান্নানের বাঁ ঊরুতে আঘাত করে তারা পালিয়ে যান। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘাতককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিহতের ভগ্নিপতি আমির হোসেন জানান, মান্নান রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। দুপুরে ওই এলাকার রাজন ওরফে বাঘা ও তার ভাই মহসিন দয়াগঞ্জ নতুন রাস্তার ঢালে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন।

কেআইবি ও এ্যাব নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেআইবি ও এ্যাব নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এবং অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। 

সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার জানান, সম্প্রতি এ্যাবের সদস্যসচিবসহ  কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কেআইবি তহবিল থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আদায়ের একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।

প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেআইবি ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদদের তত্ত্বাবধানেই এই কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে কাজের বকেয়া বিল পরিশোধের অংশ হিসেবেই ওই অর্থ সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত উপায়ে ঠিকাদার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। এখানে কোনো জবরদস্তি বা অনৈতিক অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।

‘ভিডিওর অংশবিশেষ কেটে বিভ্রান্তি’ 

সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের সদস্যসচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন,  একটি অসাধু চক্র কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর নির্বাচিত অংশ বা ‘কাটপিস’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়।

তবে পরবর্তীতে দিলিপ কুমার সরকার নিজেই অন্য একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, তাকে কোনো ভয়ভীতি দেখানো হয়নি এবং ওই অর্থ কেআইবি ভবনের সংস্কারকাজের বকেয়া বিল হিসেবেই পরিশোধ করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকার বলেন, আমার একটি ভিডিওর নির্বাচিত অংশ বা 'কাটপিস' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। প্রকৃত পক্ষে আমি আইন মেনেই সব কাজ করেছি। 

‘আগেই মিটেছে ভুল-বোঝাবুঝি’

সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের আহ্বায়ক জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের প্রবীণ ও সম্মানিত কৃষিবিদদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে স্পষ্ট হওয়া যায় যে, পুরো বিষয়টি মূলত ভুল-বোঝাবুঝি ও তথ্যের অপব্যাখ্যার ফল। এর পরই বিষয়টি সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু দীর্ঘদিন পর সেই নিষ্পত্তিকৃত ঘটনাকে নতুন করে সামনে এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জলঘোলা করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপপ্রচার দেশের কৃষিবিদ সমাজ, তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কেআইবি এবং অন্যতম বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন এ্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে এ্যাবের আহবায়ক জানান, বর্তমানে এ্যাবের ৬ জনের একটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে শুধু একজন ভিন্ন পথে চলছে। তিনি এ্যাবকে বিতর্কিত করার জন্য নানা অপ্রচার চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে অচিরেই বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দিবো। এবং অসত্য তথ্য প্রচারের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

সেই একজন কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জানানো হয়, তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাবের সদস্য  ড. শফিকুল ইসলাম শফিক। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন এ্যাবের সদস্য শাহাদত হোসেন চঞ্চল, প্রফেসর ড. জামশেদ আলম, নুরুন্নবী শ্যামল এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সরকার।