সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা ছৈয়দুলকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় তার দ্বিতীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক ছৈয়দুল টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছৈয়দুল হকের বাড়ি থেকে মানবপাচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। টেকনাফের পাশাপাশি রামুতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, গুম ও হত্যার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
তিনি আরো বলেন, ছৈয়দুল হকের নেতৃত্বে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক একাধিক মানবপাচার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে তার মাধ্যমে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছৈয়দুল হক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তার দুই পা নেই। তবে তার বিপুল সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। বাড়ির ভেতর ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবরে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘মানবপাচারের রহস্য পাহাড় কচ্ছপিয়া’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে তার নাম উঠে আসলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এর পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছৈয়দুল হককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নামের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন থানায় হওয়া আরো কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
ওসি জানান, আটকের পর ছৈয়দুল হককে রামু থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পর টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলীয় মাছঘাটসংলগ্ন সমুদ্রপথ ব্যবহার করে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি মানবপাচার চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে শত শত বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে।