• ই-পেপার

পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ২ চাচাতো বোনের

নরসিংদীতে ভার্বাল অটোপসি পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন, জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
নরসিংদীতে ভার্বাল অটোপসি পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন, জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর রায়পুরায় মৃত্যু নিবন্ধন ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ভার্বাল অটোপসি পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল।

ভার্বাল অটোপসি হলো চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়া সংঘটিত মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। এ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষিত কর্মীরা মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিয়ে রোগের লক্ষণ ও স্বাস্থ্য ইতিহাস সংগ্রহ করবেন। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি কোনো পুলিশি বা আইনি তদন্ত নয়, বরং জনস্বাস্থ্য গবেষণার একটি গোপনীয় পদ্ধতি। পাইলট প্রকল্পের আওতায় রায়পুরা উপজেলা ও দুর্গম চরাঞ্চল এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা হবে।

আরো পড়ুন
দুপুরে কাতারপ্রবাসী প্রকৌশলীকে অপহরণ, বিকেলে উদ্ধার

দুপুরে কাতারপ্রবাসী প্রকৌশলীকে অপহরণ, বিকেলে উদ্ধার

 

বক্তারা বলেন, সঠিক মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে রোগের প্রকোপ, ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

এতে বক্তব্য দেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক ডা. বেলায়েত হোসেন, নরসিংদী সিভিল সার্জন ড. বুলবুল কবির, এডিসি সাজ্জাদুল হাসান, এসিন্ট্যান্ড চীপ ডা. মো. আদনান, মেডিক্যাল অফিসার তৌফিক হাসান শাওন, রায়পুরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, নরসিংদী উপপরিচালক এসকে শহিদুল্লাহ, রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল নাঈম।
 

পিরোজপুরে ডোবা থেকে শটগান উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে ডোবা থেকে শটগান উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরে কাউখালী ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সজীব সরদার (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার জুজখোলা এলাকার একটি ডোবা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার সজীব সরদার সদর উপজেলার ১ নম্বর শিকদার-মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক।

পুলিশ জানায়, শনিবার গভীর রাতে কাউখালী থানা পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালে সন্দেহভাজন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী সজীব সরদারের মোবাইল ফোনে একটি শটগান হাতে তোলা ছবি দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছবিতে থাকা অস্ত্রটি নিজের বলে স্বীকার করেন।

এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সজীবের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে একটি শটগান উদ্ধার করা হয়।

পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, জেলার সাতটি থানায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চলছে। টহলের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো জানান, উদ্ধার করা শটগানটির বৈধতা ও উৎস যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম

দুপুরে কাতারপ্রবাসী প্রকৌশলীকে অপহরণ, বিকেলে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
দুপুরে কাতারপ্রবাসী প্রকৌশলীকে অপহরণ, বিকেলে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে অপহরণের শিকার কাতারপ্রবাসী প্রকৌশলী মো. মনিরুল হককে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। রবিবার (৭ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানার রেলওয়ে একাডেমি সংলগ্ন ডেবারপাড় জঙ্গল এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব। 

র‌্যাব-৭-এর কম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকৌশলী মনিরুল হক সম্প্রতি কাতার থেকে দেশে এসেছেন। রবিবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিজ বাসা থেকে বের হন তিনি। দুপুরে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এরপর মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের সদস্যরা টাকা দেওয়ার কথা বললে তারা ডেবারপাড় এলাকায় যেতে বলে। এ সময় র‌্যাবের সাদা পোশাকের একটি দল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপহরণকারীদের নির্ধারিত স্থানে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে কৌশলে চার অপহরণকারীকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত আরো কয়েকজন পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

নৌপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের ‘গডফাদার’ লেইঙ্গা ছৈয়দুল আটক

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
নৌপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের ‘গডফাদার’ লেইঙ্গা ছৈয়দুল আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা ছৈয়দুলকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় তার দ্বিতীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক ছৈয়দুল টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ছৈয়দুল হকের বাড়ি থেকে মানবপাচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। টেকনাফের পাশাপাশি রামুতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, গুম ও হত্যার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

তিনি আরো বলেন, ছৈয়দুল হকের নেতৃত্বে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক একাধিক মানবপাচার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে তার মাধ্যমে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ছৈয়দুল হক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং তার দুই পা নেই। তবে তার বিপুল সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। বাড়ির ভেতর ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবরে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘মানবপাচারের রহস্য পাহাড় কচ্ছপিয়া’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে তার নাম উঠে আসলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এর পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছৈয়দুল হককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নামের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন থানায় হওয়া আরো কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

ওসি জানান, আটকের পর ছৈয়দুল হককে রামু থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পর টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলীয় মাছঘাটসংলগ্ন সমুদ্রপথ ব্যবহার করে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি মানবপাচার চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে শত শত বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে।