২৫ বছর আগের বেইলি সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। সেতুর দুই প্রান্তে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ লিখে সাইবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। লেখা ছিল ‘ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ’।
নিষেধাজ্ঞার সাইবোর্ড থাকলেও ভারী যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ছিল না কেউ। ফলে নিষেধাজ্ঞা মানা হতো না। রবিবার (৭ জুন) ভোরে অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে সেতুটি ভেঙে পড়ে।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে কংস নদীর ওপর সেতুটির অবস্থান। এটি ভেঙে পড়ায় এ উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নানা বিকল্প উপায়ে মানুষ চলাচল করছে। তবে তাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সেতু ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বছরের পর পর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এলজিইডি এটি ঠিকঠাক সংস্কার করেনি। মাঝে মাঝে ছোটখাটো সংস্কার হলেও তাতে তেমন লাভ হয়নি। তাদের ভাষ্য, কংস নদীর মতো খরস্রোতা একটি নদীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও কর্তৃক্ষের গুরুত্ব না দেওয়া অবহেলার শামিল।
স্থানীয়দের দাবি, গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলাটি প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের জন্য পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি জনপদ। তবে সেখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হতে পারেনি যাতায়াতব্যবস্থার কারণে।
ময়মনসিংহ থেকে ধোবাউড়া যেতে পার হতে হয় কংস নদী আর নেতাই নদ। দুটিই পাহাড়ি নদী। পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্ষাকালে খরস্রোতা। দুটি নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। সেতু দুটি সরু আর নড়বড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলাবাসী ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে।
ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক মোখলেছুর রহমান শিক্ষকতা করেন তারাকান্দা উপজেলা উপজেলার একটি কলেজে। সেতু ভাঙার কারণে আজ ডিঙি নৌকায় করে পার হয়েছেন খরস্রোতা কংস। মোখলেছুর রহমান বলেন, সপ্তাহের পাঁচ দিন আমাকে কলেজে যেতে হয়। সেতু ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই কষ্ট করতে হবে। আমার মতো অনেক নারী ও শিশুকেও ডিঙিতে করে কংস পার হতে হয়েছে।
ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দু ভুষণ বিশ্বাস বলেন, ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা যেভাবে বলবে আমরা সেরকম ব্যবস্থা নেব। আপাতত মানুষ বিকল্প পথে চলছে। কেউ কেউ নৌকায় করে কংস নদী পার হয়ে যাতাযাত করছেন। মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।
ধোবাউড়া উপজেলা কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা হওয়ার আগে থেকেই ধোবাউড়া অবহেলিত একটি জনপদ। ১৯৮৩ সালে উপজেলা হয় ধোবাউড়া। শুরুতে এটি নেত্রকোনা জেলার সঙ্গে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ধোবাউড়া সংসদীয় আসন হিসেবে যুক্ত হয় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সঙ্গে। দীর্ঘ সময় কখনো ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেননি। এ কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতো ধোবাউড়ার উন্নয়ন হয়নি।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ইতোমধ্যে প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে সেতুটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি।