শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। তিনি নিরস্ত্র অবস্থায় দুই হাত প্রসারিত করে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। তার এই আত্মত্যাগ সারা দেশের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। এর পরই ছাত্র-জনতা আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন সকাল ১০টায় গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। সেই অর্জন সমুন্নত রাখা, নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য।’
চরকাজলের রাসেল, দশমিনার জিহাদসহ গলাচিপা ও দশমিনার অনেক শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারাই ছিলেন আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। দেশের স্বার্থে স্বৈরাচার হটাতে তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে।’ তিনি তুরস্কের ২০১৬ সালের ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টেনে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সবাইকে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের একতরফা ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
সভায় আরো বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধা গাজী নুর আলম, মো. ইমরান ওজুয়েল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাহেদ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ আতিকুরের মা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্যসচিব জাকির মুন্সি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম খান, পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।






