ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অফিসে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা গুনে গুনে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভাইরালের কয়েক ঘণ্টা পর ওই ভূমি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রবিবার রাতেই অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসকের এক জরুরি আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে ওইদিন বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্ত ইমরান শেখ সাতৈর (খ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখ তার নিজ কক্ষে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে গুনে গুনে টাকা নিচ্ছেন। এ সময় তিনি টাকা দেয়া ব্যক্তির নাম ও পরিচয়ও নোট করে রাখেন। তবে ভিডিওতে ওই ব্যক্তির পরিচয় অস্পষ্ট থাকায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাকা নেয়ার সময় ওই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, 'আজকে রাতে আবেদন হয়ে যাবে, সামনে রবিবার জমা হয়ে যাবে। স্যার যত তাড়াতাড়ি শুনানি দিবে, ইনশাআল্লাহ দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে।'
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ইঙ্গিত করে আক্ষেপের সুরে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘উনিও চল্লিশতম বিসিএস, আমিও চল্লিশতম বিসিএস। উনার কপাল ভালো উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন ক্যাডার হয়েছি।’
ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইমরান শেখ দাবি করেন, ‘এটি ঘুষের টাকা নয়, এটি ধারের টাকা। অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়, আবার ফেরত দিয়ে যায়। এটি সেই ধারের টাকা ফেরত নেয়ার সময়কার ভিডিও।' তবে তিনি টাকা ফেরত দেয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, এর আগেও সরেজমিনে অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে শোকজ করা হয়েছিল। টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিব্বির আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরে রাতেই ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে একই বিধিমালার ১২(১) ধারা মোতাবেক ২৬ জুলাই থেকে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কেবল খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।









