• ই-পেপার

সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের পাশের ১ হাজার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ

ফেনীতে ডাকাতি-অপহরণসহ ১৫ মামলার আসামি গ্রেফতার

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে ডাকাতি-অপহরণসহ ১৫ মামলার আসামি গ্রেফতার

ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে অপহরণ, ডাকাতিসহ ১৫টি মামলার আসামি এনামুল হক রুবেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের ট্রাংক রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এনামুল হক রুবেল ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেবপুর গ্রামের মো. ওবায়দুল হক মেম্বারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, রুবেল ছাগলনাইয়া থানায় একাধিক মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। রুবেলের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, ‘রুবেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে আদালতের কাছে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের নিমিত্তে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

ডাকাতির প্রস্তুতি কালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
ডাকাতির প্রস্তুতি কালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪

লক্ষ্মীপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা হলেন মো. মোক্তারুজ্জামান, সাদেক হোসেন মাল, মানিক ব্যাপারী ও মাসুদ আলম।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রগঞ্জের সিয়াম ফিলিং স্টেশন এলাকায় সড়কে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তল্লাশি করে ডাকাতির প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, স্ক্র ড্রাইভার, একটি রেঞ্চ, দুইটি চাকু, একটি চাপাতি, একটি রাম দা, একটি কিরিচ, দুইটি কোরাবাড়ি, তিনটি মোবাইল, দুইটি নি ক্যাপ, বেডশিটের অংশবিশেষ, একটি ছেঁড়া লুঙ্গি জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার মোক্তারুজ্জামান রায়পুর উপজেলার উত্তর চরআবাবিল গ্রামের মো. শহিদুল্লাহর ছেলে, মাসুদ একই উপজেলার চর কাছিয়া গ্রামের শামু মাঝির ছেলে, সাদেক চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার পূর্ব চর কৃষ্ণপুর গ্রামের আলী আহমদ মালের ছেলে ও মানিক একই উপজেলার গন্ডামারা গ্রামের আব্দুল লতিফ ব্যাপারীর ছেলে।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজমী জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাসযাত্রীর ব্যাগ থেকে দেড় কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার, তরুণ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বাসযাত্রীর ব্যাগ থেকে দেড় কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার, তরুণ গ্রেপ্তার

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দেড় কেজি হেরোইনসহ এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করে। তবে আজ বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

তারা জানায়, উদ্ধারকৃত এই হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ সময় মো. ইকবাল হাসান (২৪) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে জেলার পুঠিয়া উপজেলা সদর এলাকার রামজীবনপুর গ্রামের মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী মডেল থানাধীন দেওপাড়া ইউনিয়নের সারইল এলাকায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে অভিযান পরিচারনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তর রাজশাহী জেলা শাখার একটি দল। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী ‘কর্ণফুলি (মহানন্দা স্পেশাল)’ নামের একটি বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বাসের পেছনের সারির পাঁচ সিটের মাঝের সিটে বসে থাকা যাত্রী ইকবাল হাসানের সঙ্গে থাকা একটি কলেজ ব্যাগ তল্লাশি করে কাপড়ে মোড়ানো ১৫টি প্যাকেট জব্দ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০০ গ্রাম করে মোট ১ কেজি ৫০০ হেরোইন পাওয়া যায়। এ সময় ইকবালের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ক্রমিক ৮(গ) ও ৪১ ধারায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ইকবাল হোসেন একজন বহনকারী। হেরোইনগুলো একটি চক্রের। ইকবালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চালানের নেপথ্যে কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

‘তোমার বাবা হাসপাতালে’ বলে অপহরণ, সেই শিশু জীবিত উদ্ধার

গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
‘তোমার বাবা হাসপাতালে’ বলে অপহরণ, সেই শিশু জীবিত উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘তোমার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তোমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেছেন’—এক সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালকের এই মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রলোভনে বিশ্বাস করে তার সঙ্গে চলে গিয়েছিল মাত্র সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। ভেবেছিল বাবার কাছেই যাচ্ছে সে। কিন্তু বাস্তবে তা ছিল এক পরিকল্পিত অপহরণের ফাঁদ।

তবে ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে শেষ রক্ষা হয়নি অপরাধীদের। শিশু তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। উদ্ধার হওয়া ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে স্থানীয় দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. ফয়সাল হলো ভুক্তভোগীর বাবার আপন মামাতো ভাই! পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ অপকর্মটি ঘটায়। মূলত শিশুটিকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের টাকা ভাগ বাটোয়ারার লোভ দেখিয়ে সে তার পরিচিত সিএনজি চালকদের এই চক্রে ভিড়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ২০ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায় শিশু তাসকিন। কিন্তু স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাসকিনের এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে অটোরিকশাচালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই কথা বলেই শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক আভিযানিক দল মাঠে নামাই। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দিন-রাতব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। একপর্যায়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে তাদের হেফাজত থেকে শিশু তাসকিনকে অলৌকিক ও সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।’

সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের পাশের ১ হাজার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ | কালের কণ্ঠ