• ই-পেপার

‘তোমার বাবা হাসপাতালে’ বলে অপহরণ, সেই শিশু জীবিত উদ্ধার

  • গ্রেপ্তার ৩

ভিডিওকাণ্ডের পর এমপি নজরুলকে নিজ এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ভিডিওকাণ্ডের পর এমপি নজরুলকে নিজ এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভিডিওকাণ্ডের পর সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান।

এর আগে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন–বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, ১৭ জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকেলে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

নেত্রকোনায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই
ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় আনিসুল হক টিপু নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া মতির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আনিসুল হক টিপু পৌরসভার সাউদপাড়া মতির মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুল হক টিপু। পথিমধ্যে ৩–৪ জনের একটি দল তার গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে তার কাছে থাকা নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনগুলোতে বিকাশ, নগদ, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ফ্লেক্সিলোড-সংক্রান্ত লেনদেন পরিচালিত হতো বলে দাবি পরিবারের।

আনিসুল হক টিপু বলেন, প্রতিদিন এই পথেই বাড়ি ফিরি। কখনো ভাবিনি বাড়ির এত কাছে এমন ঘটনার শিকার হতে হবে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মোবাইল ফোন হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী লিটন বলেন, পৌর শহরের ব্যস্ত এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহে ৫৫০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপসহ যুবক গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহে ৫৫০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপসহ যুবক গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ৫৫০ বোতল নিষিদ্ধ ফেয়ারডিল সিরাপসহ শান্ত রহমান (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে উপজেলার রুলি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। শান্ত রহমান উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী রুলি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শান্ত রহমানকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৫৫০ বোতল নিষিদ্ধ ফেয়ারডিল সিরাপ উদ্ধার এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফেয়ারডিল সিরাপ ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তেল সংকটের গুজবে রাজশাহীতে পাম্পে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
তেল সংকটের গুজবে রাজশাহীতে পাম্পে ভিড়

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন চালকরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পাম্পগুলোতে তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে চালকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর একের পর এক গাড়ি বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাপ পড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে। নগরীর শালবাগান, আলুপট্টি, ভদ্রাসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে এসব ভিড় দেখা যায়।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক সোহেল রানা বলেন, ‘শুনেছি আজকের পর হয়ত তেল পাওয়া যাবে না বা সরবরাহ কমে যাবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ট্যাংকি ভর্তি করে নিলাম।’

আরেকটি প্রাইভেটকারের চালক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘গুজব সত্য কি না জানি না। কিন্তু সবাই যখন তেল নিচ্ছে, তখন আমিও এসে ট্যাংক ভরে নিচ্ছি। পরে সমস্যায় পড়তে চাই না।’

এনবি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সংকটের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। গুজবের কারণে মানুষ একসঙ্গে বেশি পরিমাণে তেল নিতে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কেনা বা মজুত না করেন। পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’